
বৃহস্পতিবার কেরলের তিরুঅনন্তপুরমে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জনসভায় এক আবেগঘন ও হৃদয়ছোঁয়া মুহূর্তের সাক্ষী থাকল উপস্থিত জনতা। জনসমুদ্রের মাঝেই প্রধানমন্ত্রীর নজরে আসে এক ছোট্ট শিশু, যে দীর্ঘক্ষণ ধরে তাঁর একটি ছবি হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল।
শিশুটিকে লক্ষ্য করেই হঠাৎ নিজের বক্তৃতা থামিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী। মঞ্চ থেকে তাকিয়ে তিনি শিশুটির উদ্দেশে কথা বলতেই গোটা সভাস্থল করতালি ও উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ে। প্রধানমন্ত্রী শিশুটির হাতে থাকা ছবিটি নিজের কাছে চেয়ে নেন এবং ছবির পিছনে তার বাড়ির ঠিকানা লেখার অনুরোধ করেন। এরপর তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, ব্যক্তিগতভাবে সেই শিশুকে একটি চিঠি লিখবেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'আমি কিছুক্ষণ ধরে এই ছোট্ট ছেলেটিকে ছবি হাতে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখছি। নিশ্চয়ই তুমি ক্লান্ত হয়ে পড়েছ। ছবিটা আমাকে দাও, আর পিছনে তোমার ঠিকানা লিখে দিও। আমি তোমাকে নিজে চিঠি লিখব।'
এই কথা শোনামাত্রই জনসভায় আবারও করতালির ঝড় ওঠে। এরপর প্রধানমন্ত্রী স্পেশাল প্রোটেকশন গ্রুপ (এসপিজি) কর্মীদের ছবিটি যত্নসহকারে সংরক্ষণ করার নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, এই ছবিটি শিশুটির ভালোবাসা ও আশীর্বাদের প্রতীক। প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'এই ছবিটিতে শিশুটির ভালোবাসা আর আশীর্বাদ রয়েছে। এসপিজিকে বলছি, দয়া করে এটির খুব যত্ন নিন।'
জনসভা চলাকালীন ভিড়ের মধ্যে আরেকটি মুহূর্তও নজর কাড়ে। প্রধানমন্ত্রী লক্ষ্য করেন, এক মহিলা তাঁকে একটি বই উপহার দিতে চাইছেন। হেসে তিনি বলেন, 'আমার মনে হয় ওই মহিলা আমায় কিছু দিতে চান। দেখছি, তিনি বেশ বড় একটা বই এনেছেন।'
এরপর ফের নিজের বক্তৃতায় ফিরে আসেন প্রধানমন্ত্রী। নির্বাচনী ভাষণে কেরলের শাসক সিপিআই(এম) ও কংগ্রেসকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, কেরলে এবার পরিবর্তনের সময় এসেছে এবং জনগণের উচিত বিজেপিকে নির্ণায়ক রায় দেওয়া।
এদিন প্রধানমন্ত্রী রাজ্যে একাধিক উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন করেন এবং নতুন ট্রেন পরিষেবার সূচনা করেন। তাঁর কথায়, কেরলের মানুষ এখন বুঝতে পারছেন যে কেন্দ্রীয় সরকার রাজ্যের সার্বিক উন্নয়নের জন্য নিরলসভাবে কাজ করে চলেছে।