scorecardresearch
 

কামাই দ্বিগুণের প্রতিশ্রুতি: চার রাজ্যে উল্টে কমে গেল চাষিদের মাথাপিছু আয়

কামাই দ্বিগুণের প্রতিশ্রুতি: চার রাজ্যে উল্টে কমে গেল চাষিদের মাথাপিছু আয়। সার্বিক গড় আয় কিছুটা বাড়লেও খরচ বেড়েছে কয়েক গুণ। উল্টে লাভের গুড় পিঁপড়েয় খেয়ে যাচ্ছে চাষিদের।

Advertisement
চার রাজ্যে আয় কমলো কৃষকদের চার রাজ্যে আয় কমলো কৃষকদের
হাইলাইটস
  • কামাই দ্বিগুণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল রাজ্য
  • চার রাজ্যে উল্টে কমে গেল চাষিদের মাথাপিছু আয়
  • মেঘালয়, পঞ্জাব, হরিয়ানায় বেড়েছে আয়

২০২২ এ কৃষকদের আয়োজন করার উচিত, কী উচিত নয়? ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ তে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে মিছিলে যখন এই প্রশ্ন করেছিলেন, তখন সমস্ত ভিড় একসুরে বলেছিলেন, হ্যাঁ হওয়া উচিত। প্রধানমন্ত্রী মোদী জানিয়েছিলেন যে, ২০২২-এ যখন ভারতের ৭৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে স্বাধীনতা দিবসের উৎসব আয়োজন করা হবে, তখন তখন পর্যন্ত তাদের আয় দ্বিগুণ করে ফেলতে পারবেন। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পর সরকার মার্চ ২০২০ এ কৃষকদের দ্বিগুণ করার জন্য লক্ষ্যমাত্রা রেখেছিল। ডেটলাইন তো শেষ হতে চলেছে, কিন্তু কৃষকদের আয় দ্বিগুণ হওয়ার টার্গেট এখনও বহুদূর।

এগ্রিকালচার সংসদীয় সমিতির রিপোর্ট পেশ

এগ্রিকালচার এর ওপর তৈরি হওয়া সংসদীয় সমিতি বৃহস্পতিবার নিজেদের রিপোর্ট পেশ করে দিয়েছেন। এই সংসদের সমিতির রিপোর্ট অনুযায়ী সরকার নিজেদের টার্গেটের চেয়ে এখনও অনেক দূরে রয়েছে। যদিও সমিতি কৃষকদের আয় দ্বিগুণ করার জন্য সরকারের উদ্যোগ গ্রহণকে প্রশংসা করেছে।

সমীক্ষার তথ্য কী বলছে?

সবাইকে নিজেদের রিপোর্টে দুটো সার্ভের তথ্য পেশ করেছেন। ২০১৫-১৬ থেকে ২০১৮-১৯ বছরের হিসেব করা তারতম্য দেখিয়েছেন। সমিতি রিপোর্টে জানিয়েছে যে, ২০০১৫ সালে দেশের কৃষকরা মাসে আমদানি করতো গড়ে ৮ হাজার ৫৯ টাকা। যা ২০১৮-তে মানুষের ১০ হাজার ২১৮ টাকাতে পরিণত হয়েছে। চার বছরের ১ হাজার ১৫৯ টাকাই শুধুমাত্র বৃদ্ধি পেয়েছে।

মেঘালয় কামাইয়ে সেরা, পঞ্জাব, হরিয়ানা পিছনে

কৃষকদের মাথাপিছু আয়ে সবচেয়ে বেশি এগিয়ে রয়েছেন মেঘালয়ের কৃষকরা। ২৯ হাজার ৩৪৮ টাকা আয় করেন। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে পঞ্জাব। এখানকার কৃষকরা মাথাপিছু ২৬ হাজার ৭০১ টাকা আয় করেন। তৃতীয় স্থানে রয়েছেন হরিয়ানার চাষিরা। তাঁরা মাথাপিছু ২২ হাজার ৮৪১ টাকা আয় করেন।

৪ রাজ্যে কমেছে কৃষকদের কামাই

দেশের চারটি রাজ্যে যেখানে কৃষকদের আমদানি কম হয়ে গিয়েছে। তার মধ্যে ঝাড়খন্ড, মধ্যপ্রদেশ, ওডিশা এবং নাগাল্যান্ড রয়েছে। ঝাড়খন্ডের কৃষকেরা প্রত্যেক মাসে ২ হাজার ১৭৩ টাকা আয় মাথাপিছু কম হয়ে গিয়েছে। নাগাল্যান্ডের চাষিদের আমদানি ১ হাজার ৫৫১ টাকা কমেছে। মধ্যপ্রদেশের চাষিদের মাথাপিছু আমদানি ১ হাগজদার ৪০০ টাকা কমেছে। অন্যদিকে ওড়িশার কৃষকেরা ১৬২ টাকা কমিয়ে ফেলেছেন। কমিটির পরামর্শ, আলাদা কমিটি গড়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে এবং সেখানে রাজ্যের কৃষকদের কমে যাওয়া আমদানির কারণ অনুসন্ধান করতে হবে সমস্ত রাজ্যের সঠিক পদক্ষেপ নিতে হবে।

Advertisement

কামাই কম-বেশি হোক, কিন্তু খরচ বেড়েছে কয়েকগুণ

কৃষকদের গড় আমদানি যদি বেড়ে থাকে, তাহলে খরচও বেড়েছে আরও কয়েকগুণ। গত বছর নভেম্বরে সরকার জানিয়েছিল যে, প্রতি মাসে ১০ হাজার ২১৮ টাকা কামাই করলে ৪ হাজার ২২৬ টাকা খরচ হয়ে যায়। কৃষকেরা প্রতিমাসে ২৯৫৯ টাকা এবং উৎপাদনের উপর, ১২৬৭ টাকা পশু পালনের জন্য খরচ করে। অর্থাৎ কৃষকদের কাছে হাজার টাকা থাকেনা। এত কম টাকা থাকলে তাঁরা ঋণ শোধ করতে পারেন না। গত বছর জুলাই মাসে অর্থমন্ত্রক জানিয়েছে ৩১ মার্চ ২০২১ পর্যন্ত কৃষকেরা ১৬ লক্ষ ৮০ হাজার কোটি টাকা বেশি ধার নিয়েছে, যা এখনও শোধ হয়নি। সেই সময় অর্থমন্ত্রণালয় পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে, কৃষকদের ঋণ মওকুফের জন্য কোনও প্রস্তাব নেই।


 

Advertisement