১০০০০ কেজির বিস্ফোরকপ্রজাতন্ত্র দিবসের আগে ১০০০০ কেজির বিস্ফোরক উদ্ধার করল পুলিশ। ঘটনা রাজস্থানের। এই রাজ্যের নাগৌর জেলা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক। অধিকারিকদের মতে, এই এলাকা পাচারের জন্য কুখ্যাত। আর সেখানে অভিযান চালিয়েই ১০০০০ কেজির বিস্ফোরক উদ্ধার হয়েছে।
স্থানীয় পুলিশ এবং জেলা পুলিশের বিশেষ দল যৌথভাবে এই অভিযান চালায়। সেখানই উদ্ধার করা হয় ১০০০০ কেজির বিস্ফোরক।
পুলিশের তরফে দাবি করা হয়েছে, এই বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক উদ্ধার হয়েছে রাজস্থানের হারসৌর গ্রামে থাওলা পুলিশ স্টেশনের অন্তর্গত একটি ফার্মহাউজ থেকে। এই অভিযান থেকে পুলিশ ১৮৭ স্যাকস অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট উদ্ধার করেছে। এগুলির মিলিত ওজন প্রায় ৯৫৫০ কেজি। পাশাপাশি মিলিছে ডিটোরেনেটর ও ডিটোরনেটরের তার সহ বোমার একাধিক জিনিস।
পুলিশ জানিয়েছে যে, অভিযান চালিয়ে মিলেছে ডিটোরনেটরের একাধিক কার্টুন। শুধু তাই নয়, লাল ও নীল রঙের ডিটরনেটরের তার, APSOD বিস্ফোরক পদার্থ সহ আরও একাধিক জিনিস উদ্ধার হয়েছে। আর তাতেই হতবাক গোয়ান্দারা।
আধিকারিকদের তরফে জানান হয়েছে, ফার্মহাউজের একাধিক ঘরে রাখা ছিল এই সব বিস্ফোরক পদার্থ। আর পুলিশের নজর এড়াতে গ্রাম থেকে কিছুটা দূরের একটি নির্জন এলাকার ফার্মহাউজে এই সব বিস্ফোরক মজুত করা হয়েছিল।
কী জানাচ্ছেন পুলিশ সুপার?
এই অভিযান নিয়ে মুখ খুলেছেন জেলার পুলিশ সুপার মৃদুল কাচ্চওয়া। তিনি জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর জানা গিয়েছে অবৈধ খনের সঙ্গে যুক্তদের এই বিস্ফোরক বিক্রি করা হয়েছিল।
অফিসার বলেন, 'অভিযুক্তকে জেরা করা হয়। জেরায় সে স্বীকার করে যে অবৈধ খননের সঙ্গে যুক্তদের এই বিস্ফোরক বিক্রি করা হয়।'
দাম কত?
১০০০০ কেজির বিস্ফোরক। আর এর দাম হতে পারে কয়েক কোটি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
ওদিকে এই ঘটনায় যুক্ত সুলেমান সম্পর্কে খোঁজখবর নিয়ে ফেলেছে পুলিশ। সেখানে জানা যায় যে অতীতে তার একাধিক অপরাধের ইতিহাস রয়েছে। ৩টি কেসও চলছে তার নামে। এর মধ্যে ২টির হচ্ছে ট্রায়ল। যদিও একটি মামলা থেকে খালাস পেয়েছে সুলেমন।
যদিও এই উদ্ধারের পর তার নামে একাধিক মামলা রুজু করেছে পুলিশ। তার নামে ১৮৮৪ সালের এক্সপ্লোসিভ অ্যাক্ট, ১৯০৮ সালের এক্সপ্লোসিভ সাবস্টেন্স অ্যাক্ট এবং ভারতীয় ন্যায় সংহিতার অন্যান্য আইনের অধীনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
তদন্ত চলছে...
পুলিশের পক্ষ থেকে জানান হয়েছে, আপাতভাবে মনে করা হচ্ছে অবৈধ খননের জন্যই এই বিস্ফোরক মজুত করা হয়েছিল। তবে তা দিয়ে দেশের কোনও অংশে হামলা চালানোর অভিপ্রায় ছিল কি না, সেটা এখনও পরিষ্কার নয়। সেই সম্পর্কে তদন্ত চলছে।