
Mistake Billionaire: শুনলে সিনেমার গল্প মনে হবে। কিন্তু ঘটনাটি একেবারে বাস্তব। সাধারণত ভুলের কারণে শেয়ার বাজারে মানুষ লক্ষ লক্ষ টাকা হারায়। তবে এই ঘটনায় উলটো চিত্র দেখা গেল, ভুল ছিল কারও অন্যের, আর কোটিপতি হয়ে গেলেন সম্পূর্ণ আলাদা একজন। গত কয়েক দিন ধরে এই ঘটনাটি বাজারমহলে তুমুল চর্চায়।
টেকনিক্যাল গ্লিচ আর ভাগ্যের এমন মিল
মুম্বইয়ের বাসিন্দা গজানন রাজগুরুর কোটাক সিকিউরিটিজে ডিম্যাট অ্যাকাউন্ট ছিল। শেয়ার বাজারে নিয়মিত ট্রেড করতেন। হঠাৎ একদিন কোটাক সিকিউরিটিজের একটি টেকনিক্যাল গ্লিচের ফলে তাঁর অ্যাকাউন্টে ঢুকে গেল গোটা ৪০ কোটি টাকা। এমন বিপুল অঙ্ক দেখে প্রথমে হতবাক হলেও, রাজগুরু দ্রুত পরিস্থিতি কাজে লাগালেন। মাত্র ২০ মিনিটে F&O ট্রেডিং করে লাভ তুলে ফেললেন কোটি টাকারও বেশি।
২০ মিনিটে মাইনাস থেকে প্লাসে কোটি টাকা
ঘটনাটি ২০২২ সালের। শুরুতে ট্রেডিংয়ে রাজগুরুর ক্ষতি হয়েছিল প্রায় ৫৪ লক্ষ টাকা। কিন্তু মুহূর্তে নিজের কৌশল বদলে তিনি যে ট্রেডটি লোকসানে ছিল সেটি ঘুরিয়ে দেন লাভে। ফলাফল, মাত্র ২০ মিনিটে তৈরি হয়ে যায় ২.৩৮ কোটি টাকার মুনাফা। ট্যাক্স ও অন্যান্য চার্জ বাদ দিয়ে হাতে আসে মোট ১.৭৫ কোটি টাকা।
ব্রোকারেজের দাবি, আদালতের ভর্ৎসনা
এতক্ষণ সব ঠিকঠাক ছিল। কিন্তু অর্থ ভুলবশত চলে গেছে বুঝতে পেরে কোটাক সিকিউরিটিজ তড়িঘড়ি করে ওই ৪০ কোটি টাকা অ্যাকাউন্ট থেকে ফিরিয়ে নেয়। পরে দাবি ওঠে ট্রেডারকে লাভের ১.৭৫ কোটি টাকাও ফেরত দিতে হবে। মামলা গড়ায় আদালতে।
২০২৫ সালের ডিসেম্বরে বম্বে হাইকোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, লাভ ট্রেডারের দক্ষতায় হয়েছে, ভুলের কারণে নয়।
তাই এটিকে "অনুচিত লাভ" বলার সুযোগ নেই। সেই সঙ্গে আদালত জানায়, এই ঘটনায় ব্রোকারেজ হাউসের কোনও ক্ষতি হয়নি, তাই মুনাফার ওপর তাদের দাবি চলে না।
মামলা এখনও চলছে
কোটাক সিকিউরিটিজ আবার নতুন করে আদালতে আবেদন করেছে। পরবর্তী শুনানি হবে ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ততদিন পর্যন্ত রাজগুরু নিজের কাছে রাখতে পারবেন ১.৭৫ কোটি টাকা, এমনই অন্তর্বর্তী নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
F&O র বিপদ সম্পর্কে সতর্কতা
শেষে মনে করিয়ে দেওয়া জরুরি, F&O ট্রেডিং অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। SEBI–র হিসাব বলছে, ১০ জনে ৯ জন বিনিয়োগকারী এখানে টাকা হারান। তাই ঝুঁকি বুঝে, সীমিত মূলধন নিয়েই ট্রেড করা উচিত।