আটক রাহুল গান্ধী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বাসভবনের সামনে বিক্ষোভের সময় লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী-সহ একাধিক কংগ্রেস সাংসদকে দিল্লি পুলিশ আটক করে। তা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কের পাশাপাশি আইনি প্রশ্নও উঠেছে। কেউ কেউ জানতে চাইছেন, কোনও সাংসদকে আটক বা গ্রেফতার করার আগে কি লোকসভার স্পিকারের অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক?
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও আইনি বিশেষজ্ঞ আর কে সিংয়ের মতে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ার আশঙ্কা থাকলে পুলিশ যে কোনও ব্যক্তিকে, এমনকী কোনও সাংসদকেও আটক করতে পারে। প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের মতো উচ্চ-নিরাপত্তা এলাকায় অনুমতি ছাড়া বিক্ষোভ হলে পুলিশ আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা রাখে।
তিনি জানান, খুন, দুর্নীতি, দাঙ্গা বা অন্য কোনও গুরুতর অপরাধে কোনও সাংসদকে গ্রেফতার বা আটক করতে হলে পুলিশের লোকসভার স্পিকারের আগে থেকে অুমতি নেওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং পুলিশ সরাসরি আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে পারে।
তবে তিনি স্পষ্ট করেন, কোনও সাংসদকে গ্রেফতার বা আটক করার পর যত দ্রুত সম্ভব সেই বিষয়ে লোকসভার স্পিকারকে জানানো বাধ্যতামূলক। এটি প্রতিষ্ঠিত আইনি প্রক্রিয়ার অংশ।
আর কে সিংহ আরও জানান, সংসদীয় বিশেষাধিকারের ক্ষেত্রে দেওয়ানি (Civil) ও ফৌজদারি (Criminal) মামলার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে। সংসদের অধিবেশন শুরুর ৪০ দিন আগে থেকে অধিবেশন চলাকালীন এবং অধিবেশন শেষ হওয়ার ৪০ দিন পর্যন্ত শুধুমাত্র দেওয়ানি মামলায় সাংসদরা গ্রেফতার থেকে বিশেষ সুরক্ষা পান। ফৌজদারি মামলায় এই সুরক্ষা প্রযোজ্য নয়।
তিনি আরও বলেন, সংসদ ভবনের ভিতরে আলাদা নিয়ম কার্যকর। লোকসভার স্পিকারের অনুমতি ছাড়া সংসদ চত্বরে কোনও সাংসদকে গ্রেফতার করা যায় না। একইভাবে স্পিকারের অনুমতি ছাড়া সংসদ ভবনের ভিতরে কোনও সাংসদের হাতে সমন বা আইনি নোটিশও তুলে দেওয়া যায় না।
তবে এই সুরক্ষা শুধুমাত্র সংসদ ভবন ও তার চত্বরের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। সংসদের বাইরে, যেমন বিজয় চক, লোক কল্যাণ মার্গ বা প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের আশপাশে কোনও বিক্ষোভ বা আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত পরিস্থিতি তৈরি হলে, পুলিশ সাধারণ আইনের অধীনেই ব্যবস্থা নিতে পারে।