রাহুল গান্ধী সোমবার সংসদে শেষ পর্যন্ত নিজের বক্তব্য পেশ করতেই পারলেন না রাহুল গান্ধী। প্রাক্তন আর্মি প্রধান মনোজ মুকুন্দ নারাভানের অপ্রকাশিত বইয়ে থাকা ভারত-চিন সম্পর্ক নিয়েই বলবেন বলে দিনভর অনড় রইলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা। এদিকে, প্রথমে স্পিকার ওম বিড়লা এবং তারপর ওই চেয়ারে বসা জগদম্বিকা পাল সাফ জানালেন, নিয়মবিরুদ্ধে কোনও বক্তব্য পেশ করা যাবে না। ফলস্বরূপ সারাদিনের জন্য মুলতুবি হয়ে গেল এদিনের লোকসভা অধিবেশন। সংসদের বাইরে এসেও সেই ডোকলাম ইস্যু নিয়েই বললেন রাহুল।
সংসদের বাইরে কী বললেন রাহুল?
সংসদে বলতে না পেরে শেষ পর্যন্ত বাইরে এসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে। তিনি বলেন, 'আমি শুধু প্রাক্তন সেনাপ্রধানের ইয়ে যা লেখে রয়েছে সেটাই পড়তে চেয়েছিলাম। এই বই প্রকাশের অনুমতি দেয়নি কেন্দ্র সরকার। ২০২০ সালে গালওয়ানে সংঘর্ষের সময়ে প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দেওয়া নির্দেশগুলির বিষয়টি তুলে ধরতে চেয়েছিলাম।' বিরোধী দলনেতা আরও বলেন, 'আমায় বলতে দেওয়া হল না। আমি শুধু ২-৩ লাইন বলতে চেয়েছিলাম। যাতে সবকিছু পরিষ্কার হয়ে যায়। এটি জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়। এগুলো আমার নয়, সেনাপ্রধানের কথা। সেনাপ্রধান যা লিখেছেন, সেটাই বলতে চেয়েছিলাম।' তাঁর প্রশ্ন, 'চিন যখন আমাদের সামনে দাঁড়িয়েছিল তখন ৫৬ ইঞ্চির ছাতির কী হয়েছিল?'
কী ঘটে সংসদে?
সোমবার রাহুল গান্ধীর ভাষণ দিয়েই অধিবেশন শুরু হওয়ার কথা ছিল। তবে তিনি ভাষণ দিতে উঠে প্রথম লাইন বলতে না বলতেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে অধিবেশন। প্রাক্তন আর্মি প্রধান মনোজ মুকুন্দ নারাভানের একটি সাক্ষাৎকার প্রসঙ্গে বলতে শুরু করতেই তীব্র আপত্তি তোলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। ফোর স্টারস অফ ডেস্টিনি’ নামে প্রাক্তন সেনাপ্রধানের এই বইটি সম্পর্কে ম্যাগাজিনে প্রকাশিত অংশ পড়ার চেষ্টা করতেই তুলকালাম কাণ্ড বাধে সংসদে।
রাজনাথ ও শাহের আপত্তি কেন?
প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং রাহুলের বক্তব্যে আপত্তি তুলে বলেন, 'প্রকাশিত বই সংসদে উদ্ধৃত করতে পারেন না রাহুল। প্রকাশিত বইয়ের অংশ কেন পড়ছেন তিনি? যে বই কোনওদিন প্রকাশিতই হয়নি, তার কথা কেন পড়া হবে? বক্তৃতা করতে উঠে রাহুল নারাভানের বই থেকে 'ডোকলামে চিনের ট্যাঙ্ক' লাইনটি পড়তে শুরু করেছিলেন। তারপরই নিজের আসন ছেড়ে উঠে দাঁড়ান প্রতিরক্ষামন্ত্রী। সরব হন অমিত শাহও। তিনি বলেন, 'যখন বইটা প্রকাশিতই হয়নি, তখন উনি কেব সেটা পড়ছেন?'
রাহুলের যুক্তি
রাহুল গান্ধীর যুক্তি ছিল, 'প্রধানমন্ত্রী এবং শাসকদলের সাংসদরা সর্বদাই আমাদের দল, আমার এবং সমস্ত বিরোধী নেতাদের দেশপ্রেম নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। পাল্টা আমাদেরও বলার অধিকার রয়েছে। সে কারণেই নারাভানের বইয়ের কিছু অংশ, যেখানে রাজনাথ সিং এবং নরেন্দ্র মোদী সম্পর্কে লেখা রয়েছে, তা উদৃত করতে চেয়েছিলাম আমি।'
বিতর্কিত বই
উল্লেখ্য, ‘ফোর স্টারস অফ ডেস্টিনি’ প্রাক্তন সেনাপ্রধান প্রকাশ করতে চেয়েছিলেন ২০২৪ সালে। তবে তা শেষমেশ হয়নি। যদিও ২০২৩ সালের ডিসেম্বর মাসেই বইটির একাংশ বিভিন্ন সংবাদসংস্থা প্রকাশ করে দেয়। ৪৪৮ পাতার ওই বইয়ে বলা হয়েছে, ২০১৭ সালে ডোকলামে ভারত এবং চিনের সেনা যখন মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড়িয়ে, তখন বেজিংয়ের সাঁজোয়া গাড়ি ভারতীয় ভূখণ্ডে ঢুকে পড়েছিল।