বিক্ষোভের সময় ব্যারিকেড টপকাচ্ছেন রাহুল গান্ধী - AFPভোটার তালিকা এবং স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে কংগ্রেস-সহ বিরোধী দলগুলির বিক্ষোভ আরও তীব্র হল। আজ অর্থাত্ মঙ্গলবার দিল্লিতে সংসদ থেকে নির্বাচন কমিশনের দফতরের দিকে মিছিল করেন বিরোধী সাংসদরা। তাঁদের দাবি, নির্বাচন কমিশনারদের সঙ্গে দেখা করে ভোটার তালিকা এবং SIR নিয়ে নিজেদের প্রশ্ন ও আপত্তি জানাতে চান তাঁরা। এদিকে, একটি ভিডিও প্রকাশ করে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী প্রশ্ন তুলেছেন, বিরোধী সাংসদদের সঙ্গে কেন দেখা করছেন না নির্বাচন কমিশনাররা।
রাহুল গান্ধীর দাবি, বিরোধী দলের ৩০০-রও বেশি লোকসভা ও রাজ্যসভার সাংসদ নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে দেখা করতে এসেছেন। তাঁর প্রশ্ন, দেশের লক্ষ লক্ষ মানুষের প্রতিনিধিত্বকারী সাংসদরা যখন কমিশনের সঙ্গে দেখা করতে চাইছেন, তখন তাঁদের দফতরে পৌঁছতে বাধা দেওয়া হচ্ছে কেন? পুলিশ তাঁদের পথ আটকাচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
আকাশবাণী ভবনের কাছে থামল মিছিল
রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরা এবং INDI জোটের অন্যান্য সাংসদরা নির্বাচন কমিশনের দফতরের দিকে মিছিল করে এগোচ্ছিলেন। কিন্তু আকাশবাণী ভবনের কাছে তাঁদের আটকে দেওয়া হয়। এরপর বেশ কয়েকজন বিরোধী নেতা কমিশনের দফতর থেকে প্রায় ১০০ মিটার দূরে আকাশবাণী ভবনের কাছে অবস্থানে বসেন।
More than 300 Opposition MPs marched from Parliament to the Election Commission today to meet the Election Commissioners. We represent crores of Indians. - Why aren't the Election Commissioners meeting us? - Why is the police stopping and threatening us? https://t.co/tlIck8WoZX
— Rahul Gandhi (@RahulGandhi) October 6, 2026
ওই এলাকায় BNSS-এর ১৬৩ ধারা জারি ছিল। পুলিশ আকাশবাণী ভবনের বাইরে থাকা যুব কংগ্রেস এবং NSUI কর্মীদের এলাকা ছেড়ে যেতে বলে। নির্দেশ না মানলে আটক করার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়। পরে কয়েকজন কংগ্রেস কর্মীকে পুলিশ বাসে করে নিয়ে যায়। সিপিআই(এম) সাংসদ জন ব্রিটাস ও ভি শিবদাসন-সহ আরও কয়েকজন নেতাকেও আটক করা হয়।
কংগ্রেস নেতা পবন খেরা অভিযোগ করেন, নির্বাচন কমিশন একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হওয়া সত্ত্বেও বিরোধী নেতাদের স্মারকলিপি জমা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। সরকারের বিরুদ্ধে ভয় পাওয়ার অভিযোগও তোলেন তিনি।
রাঁচিতেও বিক্ষোভ, ব্যারিকেড ভাঙার অভিযোগ
দিল্লির পাশাপাশি ঝাড়খণ্ডের রাজধানী রাঁচিতেও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে পথে নামেন কংগ্রেস কর্মীরা। যুব কংগ্রেস কর্মীরা পতাকা ও ব্যানার হাতে ধুরওয়ার মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরের দিকে মিছিল করেন। অভিযোগ, সেখানে বিক্ষোভকারীরা ব্যারিকেড পার করে দফতরের প্রধান ফটকের কাছে পৌঁছে যান। কয়েকজন বিক্ষোভকারী মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের সাইনবোর্ডে কালি লাগিয়ে দেন এবং দফতরের প্রবেশপথে বিজেপি অফিসের একটি পোস্টারও লাগিয়ে দেন। যুব কংগ্রেসের রাজ্য সভাপতি কুমার গৌরব অভিযোগ করেন, নির্বাচন কমিশনের দফতর বিজেপি অফিসের মতো কাজ করছে। বিক্ষোভে যোগ দেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুবোধ কান্ত সহায়ও। তিনি প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে সরব হন এবং তাঁকেই দেশের গণতন্ত্রের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি বলে দাবি করেন।
৮ অক্টোবর ফের মিছিলের ডাক
প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ না করা পর্যন্ত প্রতিবাদ চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছে কংগ্রেস। অন্যদিকে, ইন্ডিয়া ব্লকের নেতারা আগামী ৮ অক্টোবর ফের একটি মিছিল করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।