রাহুল গান্ধী প্রাক্তন সেনাপ্রধান এমএম নারাভানের যে 'বিতর্কিত' বই থেকে মন্তব্য করা নিয়ে লোকসভায় বাধা দেওয়া হয়েছিল রাহুল গান্ধীকে। যে বই কখনওই প্রকাশিতই হয়নি, সেখান থেকে কোনও লাইন উদৃত করা যায় না। দাবি করেছিলেন রাজনাথ সিং। অবশেষে সেই বই নিয়ে বক্তব্য রাখার জন্য স্পিকার তাঁকে অনুমতি দিয়েছেন বলে জানালেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা। এই মর্মে তাঁর ওম বিড়লার সঙ্গে একটি 'ডিল' হয়েছে বলে উল্লেখ করেন রাহুল।
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এদিন রাহুল গান্ধী বলেন, 'একটি চুক্তি হয়েছে। আমাদের বক্তব্য রাখতে দিতে হবে। য যে পয়েন্ট আমরা উত্থাপন করতে চাইছি, তা বলতে দিতে হবে। আমারও চাই আলোচনা হোক সংসদে। দেখা যাক এবার সরকার কী বলে।' তাঁর সংযোজন, 'আমার মনে হচ্ছে, সরকার বিতর্কে ভয় পাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী সম্ভবত ভয় পেয়েছেন তাই সংসদে আসেননি। তাঁকে জেনারেল নারাভানের বই দেওয়া হবে শুনেও তিনি ভয় পেয়েছেন বোধহয়। যে ভাবে আমেরিকার সঙ্গে ডিল হয়েছে, চাষিদের উপর যা প্রভাব পড়েছে, এগুলো নিয়ে বাজেটে সেশনে আলোচনা চাইছেই না সরকার।'
জানা গিয়েছে, এদিন সংসদ মুলতুবি হওয়ার পর স্পিকারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন রাহুল গান্ধী, অখিলেশ যাদব, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, কেসি বেণুগোপাল, টিআর বালু। এ প্রসঙ্গে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, 'আমরাও চাই সংসদ চলুক। কিন্তু বিরোধীদের নিজেদের বক্তব্য পেশ করার সময় ও সুযোগ দেওয়া উচিত। আমরা সকলে নির্বাচিত প্রতিনিধি। সে কারণে আমরা স্পিকারের কাছে অনুরোধ করেছি যাতে আমাদের বলতে সুযোগ দেওয়া হোক।'
এদিকে, ওম বিড়লার বিরুদ্ধে বিরোধীরা অনাস্থা প্রস্তাব আনতে পারে বলেও জানা গিয়েছে। লোকসভার স্পিকারকে লিখিত ভাবে ক্ষোভ জানিয়েছেন কংগ্রেসের মহিলা সদস্যরা। তাঁদের অভিযোগ, ইচ্ছে করে তাঁদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোহ আনা হচ্ছে BJP-র তরফে। গত ৪ দিন ধরে, বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীকে ইচ্ছাকৃতভাবে লোকসভায় সেই সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। এটি নজিরবিহীন ঘটনা। এ কথাও উল্লেখ করা হয়েছে ওই চিঠিতে।
গত বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বাজেটের জবাবি ভাষণ দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু লোকসভার অধিবেশন শুরুর আগেই বিরোধীদের প্রতিবাদ ও স্লোগানের জেরে মুলতুবি করে দেওয়া হয়। স্পিকার বলেন, ‘বিরোধী দলের মহিলা সাংসদরা প্রধানমন্ত্রীকে লক্ষ্য করে অপ্রত্যাশিত কিছু করতে পারেন। এমনকী তাঁর উপর হামলার আশঙ্কা রয়েছে।’ চিঠিতে স্পিকারের মন্তব্যকে তাঁরা 'ভুয়ো, ভিত্তিহীন এবং মানহানিকর' বলে বর্ণনা করেছেন কংগ্রেসের মহিলা সাংসদরা। তাঁরা বলেছেন, 'আমাদের কোনও হুমকির জন্য নয়, বরং ভয়ের কারণে তিনি সংসদে অনুপস্থিত ছিলেন। বিরোধী দলের মুখোমুখি হওয়ার সাহস তাঁর ছিল না।'