Rahul Gandhi : 'ভোট চোরদের দেশ থেকে পালাতে দেব না', রামলীলা ময়দান থেকে জ্ঞানেশ-মোদী-শাহকে নিশানা রাহুলের

রাহুলের বক্তব্য, শুধু ইভিএমের মাধ্যমে নয়, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া এবং নতুন নাম সংযোজনের মাধ্যমেও নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অনিয়ম করা হয়েছে। তাঁর দাবি, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের পর ভোটার তালিকা থেকে ১১.৫৩ কোটি ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে।

Advertisement
'ভোট চোরদের দেশ থেকে পালাতে দেব না', রামলীলা ময়দান থেকে জ্ঞানেশ-মোদী-শাহকে নিশানা রাহুলের  রাহুল গান্ধী (রয়টার্স)
হাইলাইটস
  • দেশের সাংবিধানিক ও প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠানগুলির উপর আরএসএসের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার অভিযোগও তোলেন রাহুল গান্ধী
  • অর্থনৈতিক বৈষম্যের প্রসঙ্গেও কেন্দ্রীয় সরকারকে আক্রমণ করেন কংগ্রেস নেতা

দিল্লির রামলীলা ময়দানে আয়োজিত সভাকে শুধু রাজনৈতিক দলের অনুষ্ঠান না বলে দেশের সব শ্রেণির মানুষের সম্মিলিত প্রতিবাদ বলে উল্লেখ করলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। তিনি এই জমায়েতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেন,  'আপনারা দূরদূরান্ত থেকে এখানে এসেছেন। আপনারা দেশকে, নরেন্দ্র মোদী, অমিত শাহ এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন। এটা কোনও একটি রাজনৈতিক দল বা শুধু নেতাদের আওয়াজ নয়। এটা দেশের যুবক, কৃষক এবং শ্রমিকদের সম্মিলিত কণ্ঠস্বর।' 

এরপরই গণতন্ত্র ও সংবিধান রক্ষার প্রসঙ্গ তুলে রাহুল বলেন, 'এই আওয়াজ স্পষ্ট করে দিচ্ছে, আমরা ভারতে গণতন্ত্রকে শেষ হতে দেব না, সংবিধানকে ধ্বংস হতে দেব না। আপনাদের কাছে যত টাকাই থাকুক, যত ক্ষমতাই থাকুক, আপনারা সংবিধানের চেয়ে বড় হতে পারেন না।' 

'২০২৪-এর পর ১১.৫৩ কোটি ভোটারের নাম বাদ'

ভোটার তালিকার সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে সরাসরি নির্বাচন কমিশনকে নিশানা করেন রাহুল গান্ধী। তাঁর অভিযোগ, দেশে দীর্ঘদিন ধরেই ভোট চুরি চলছে। পশ্চিমবঙ্গের পাশাপাশি মধ্যপ্রদেশ, হরিয়ানা, ছত্তিশগড়, মহারাষ্ট্র, কর্নাটক এবং ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনেও ভোট কারচুপি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

রাহুলের বক্তব্য, শুধু ইভিএমের মাধ্যমে নয়, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া এবং নতুন নাম সংযোজনের মাধ্যমেও নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অনিয়ম করা হয়েছে। তাঁর দাবি, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের পর ভোটার তালিকা থেকে ১১.৫৩ কোটি ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, প্রতি সাত জন ভোটারের মধ্যে প্রায় একজনের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

রাহুল বলেন, নির্বাচনে এনডিএ এবং বিরোধীদের মধ্যে ভোটের ব্যবধান ছিল মাত্র ৩ শতাংশ। অথচ তার পরেই ১৫ শতাংশ ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে বলে তাঁর দাবি। এই পরিসংখ্যান তুলে ধরে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে আক্রমণ করে রাহুল বলেন, 'জ্ঞানেশ কুমারকে নিজের পদ থেকে সরতে হবে এবং তাঁকে জেলে যেতে হবে। এটা কোনও ছোটখাটো চুরি নয়। দেশের প্রতিটি নাগরিকের কণ্ঠস্বর এবং গণতান্ত্রিক অধিকার চুরি করা হচ্ছে।' তাঁর আরও দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না থাকলে নরেন্দ্র মোদী প্রধানমন্ত্রী এবং অমিত শাহ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হতে পারতেন না।

Advertisement

'শিক্ষা, স্বাস্থ্য থেকে বিচারব্যবস্থা, সব প্রতিষ্ঠান নিয়ন্ত্রণ করছে RSS'

দেশের সাংবিধানিক ও প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠানগুলির উপর আরএসএসের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার অভিযোগও তোলেন রাহুল গান্ধী। তাঁর দাবি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সিবিআই, ইডি, বিচারব্যবস্থা, আমলাতন্ত্র এবং পুলিশ-সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের উপর নিয়ন্ত্রণ কায়েম করা হয়েছে। এর প্রভাব পড়ছে দেশের যুবক, কৃষক এবং ছোট ব্যবসায়ীদের উপর।

অর্থনৈতিক বৈষম্যের প্রসঙ্গেও কেন্দ্রীয় সরকারকে আক্রমণ করেন কংগ্রেস নেতা। তাঁর অভিযোগ, দেশের সম্পদ ও পরিকাঠামোর বড় অংশ কয়েক জন শিল্পপতির হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে। অদানি ও আম্বানির মতো শিল্পপতিদের বিপুল অঙ্কের ঋণ মকুব করা হলেও কৃষক, শ্রমিক বা ছোট ব্যবসায়ী ঋণ শোধ করতে না পারলে তাঁদের জেলে যেতে হয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

রাহুল বলেন, 'আপনারা শিবের বিয়ের বরযাত্রার কথা শুনেছেন। সেখানে প্রত্যেকের যোগ দেওয়ার এবং নাচার অধিকার থাকে। আমরা তেমনই একটা ভারত চাই। যেখানে কৃষক পরিশ্রম করলে ফসলের ন্যায্য দাম পাবেন। একজন ছাত্র ১৮ ঘণ্টা পড়াশোনা করলে শিক্ষা ও চাকরির সুযোগ পাবে। আমরা এমন দেশ চাই না, যেখানে প্রতিটি বিমানবন্দর, রেল, বিদ্যুৎ এবং মোবাইল নেটওয়ার্ক অদানির হয়ে যাবে।'

'পালানোর কথা ভাববেন না, আইনি পদক্ষেপ হবে'

শাসকদলকে সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে রাহুল বলেন, নরেন্দ্র মোদী এবং অমিত শাহ কোথাও চলে যেতে পারবেন না। তাঁদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপেরও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

রাহুলের কথায়, 'অমিত শাহ বলেন, নরেন্দ্র মোদী কোথাও যাচ্ছেন না। আমি আপনাদের বলছি, তিনি কোথাও যেতেও পারবেন না। আর যেতে চাইলেও আমরা তাঁকে যেতে দেব না। জ্ঞানেশ কুমারের পর আমরা আপনাদের সামনে দাঁড়াতে চলেছি। আপনারা যে ভোট চুরি করেছেন এবং দেশকে বিক্রি করেছেন, তার বিচার চাইবে দেশ। আপনারা পালাতে পারবেন না। আপনাদের এবং অমিত শাহের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ করা হবে।' 

'আমরা ঘৃণা নয়, ভালোবাসার দোকান খুলি'

বক্তৃতার শেষ পর্বে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান এবং অহিংসার বার্তা তুলে ধরেন রাহুল গান্ধী। তিনি বলেন, তাঁদের কাছে কেউ শত্রু নন। নরেন্দ্র মোদী, অমিত শাহ কিংবা জ্ঞানেশ কুমার, কারও প্রতিই তাঁদের ব্যক্তিগত বিদ্বেষ নেই। তাঁরা হিংসা বা ঘৃণা ছড়ানোর রাজনীতিতে বিশ্বাস করেন না। বরং মহাত্মা গান্ধীর পথ অনুসরণ করেন।

রাহুলের বক্তব্য, ধর্ম তাঁদের কাউকে ঘৃণা করতে শেখায় না। বরং সমাজের শেষ সারিতে থাকা মানুষের কণ্ঠস্বর এবং অধিকার রক্ষা করাই তাঁদের দায়িত্ব। সেই মানুষ হিন্দু, মুসলিম, শিখ, দলিত, আদিবাসী কিংবা মহিলা, যেই হোন না কেন।

তিনি আরও বলেন, সরকারের নীতি এবং ঘৃণার রাজনীতির কারণে দেশের আত্মা যেন চিৎকার করছে। দেশের যুবক থেকে সাধারণ নাগরিক, প্রত্যেকেই শান্তি ও ভালোবাসা চান। এই প্রতিবাদ কোনও একটি রাজনৈতিক দলের আন্দোলন নয়, বরং ভারতের সংবিধান ও গণতন্ত্র রক্ষার

সম্মিলিত লড়াই।

POST A COMMENT
Advertisement