ডোকলাম ইস্যুতে রাহুল গান্ধীবিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর ভাষণ শুরু হতেই উত্তাল হল লোকসভা। রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর ভাষণের ধন্যবাদ প্রস্তাবে রাহুল তুললে ডোকলামে চিনা অনুপ্রবেশকারী ইস্যু, আর তাতেই উত্তপ্ত হয়ে উঠল সংসদ। কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ উঠে দাঁড়িয়ে রাহুলের বিরোধিতা করেন। রাহুল গান্ধী যখন বলছেন, তখন তুমুল অশান্ত সংসদ ভবন। শেষ পর্যন্ত মুলতুবি হয়ে যায় অধিবেশন।
'সত্য চাপা দিতেই এই বই আটকে দেওয়া হচ্ছে'
লোকসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাহুল গান্ধী একটি ম্যাগাজিন প্রকাশিত বইয়ের উদ্ধৃত করেন। তাঁর অভিযোগ, কেন্দ্রীয় সরকার ইচ্ছে করেই ওই বইটি প্রকাশ হতে দিচ্ছে না, কারণ সেখানে ডোকলাম সংঘর্ষ সংক্রান্ত কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য রয়েছে, যা সামনে এলে সরকারের অস্বস্তি বাড়বে। রাহুলের দাবি, সত্য চাপা দিতেই এই বই আটকে দেওয়া হচ্ছে। এই প্রসঙ্গে তিনি প্রাক্তন সেনাপ্রধান নারাভানের বইয়ের কথাও উল্লেখ করেন। রাহুল গান্ধীর বক্তব্য শোনার পরই রাজনাথ সিং উঠে দাঁড়িয়ে আপত্তি জানান। তিনি বলেন, 'কোনও প্রমাণ ছাড়াই এত গুরুতর অভিযোগ করা ঠিক নয়। যদিও তিনি স্বীকার করেন, নারাভানের ওই বইটি এখনও প্রকাশিত হয়নি।'
দাঁড়িয়ে বিরোধিতা করেন অমিত শাহ
বিতর্কে হস্তক্ষেপ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তিনি প্রশ্ন তোলেন, যে বই এখনও প্রকাশই হয়নি, তা সংসদে কীভাবে উদ্ধৃত করা যায়? অমিত শাহের অভিযোগ, ওই বইটিতে বিকৃত তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। পাশাপাশি তিনি বিজেপি সাংসদ তেজস্বী সূর্যের একটি বক্তব্যের প্রসঙ্গ তোলেন এবং বলেন, 'তেজস্বী সূর্য কখনও বিরোধীদের দেশপ্রেম নিয়ে প্রশ্ন তোলেননি। এর আগে রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেছিলেন, তেজস্বী সূর্য বিরোধীদের দেশভক্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।'
পরিস্থিতি সামলাতে অধিবেশন মুলতুবি
এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা স্পষ্ট করে জানান, সংসদীয় নিয়ম অনুযায়ী কোনও অপ্রকাশিত বই বা সংবাদপত্র সংসদে উদ্ধৃত করা যায় না। এমনকী কোনও বই প্রকাশিত হলেও তা পড়ে শোনানো বা উল্লেখ করাও নিয়ম বিরুদ্ধ। তিনি জানান, এই বিষয়ে আগেই সাংসদদের স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে স্পিকার ও মন্ত্রীদের আপত্তি সত্ত্বেও রাহুল গান্ধী নিজের অবস্থানে অনড় থাকেন। তাঁর দাবি, ম্যাগাজিনের ওই বইটি '১০০ শতাংশ অথেন্টিক' এবং সরকার যদি কোনও বই প্রকাশের অনুমতি না দেয়, তার মানেই সেই বইয়ে সত্য কথা লেখা আছে। তাঁর অভিযোগ, সরকার জাতীয় নিরাপত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়েও স্বচ্ছতা বজায় রাখছে না।
রাহুল গান্ধীর বক্তব্যকে সমর্থন করেন সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব। তবে তাঁকে কথা বলতে দেওয়া হয়নি। এরপর আবার উঠে দাঁড়িয়ে অমিত শাহ অভিযোগ করেন, রাহুল গান্ধী সংসদকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছেন।