Puri Khaja: খাজা তৈরি দেখে বমি পাবে! পুরীতে একাধিক দোকানের কয়েক কুইন্টাল খাজা নষ্ট করল প্রশাসন

পুরীতে খাজার দোকানগুলিতে অভিযান চালায় খাদ্য সুরক্ষা দফতর। জগন্নাথ ধামের আশপাশে প্রচুর খাজার দোকানে অভিযান চালানো হয়। যে খাজা পুরীতে যাওয়া ভক্তদের কাছে অমৃত-সম। দেখা গিয়েছে, বেশির ভাগ দোকানেই অত্যন্ত নিম্নমানের দ্রব্য দিয়ে খাজা তৈরি করা হচ্ছে। পোকা ধরা ময়দা সহ নানা বিষাক্ত জিনিস।

Advertisement
খাজা তৈরি দেখে বমি পাবে! পুরীতে একাধিক দোকানের কয়েক কুইন্টাল খাজা নষ্ট করল প্রশাসনপুরীতে খাজার একাধিক দোকানে অভিযান
হাইলাইটস
  • পুরীর খাজা অত্যন্ত নিম্নমানের 
  • ৪ কুইন্টাল খাজা নষ্ট করা হল
  • খাজা বেলার কাঠের পাটাতনেই খালি পায়ে দাঁড়ান শ্রমিকরা

জগন্নাথ ধাম পুরীতে গেলে খাজা খান না, বা আনেন না, এমন পর্যটক নেই। জগন্নাথের প্রসাদেও থাকে খাজা। সেই খাজাতেই এবার বিষ? পুরীতে জগন্নাথ ধামের আশপাশে বিভিন্ন দোকানে পচা, নিম্নমানের প্রায় ৪ কুইন্টাল খাজা নষ্ট করলেন ওড়িশার খাদ্য নিরাপত্তা আধিকারিকরা। 

পুরীর খাজা অত্যন্ত নিম্নমানের 

বৃহস্পতিবার পুরীতে খাজার দোকানগুলিতে অভিযান চালায় খাদ্য সুরক্ষা দফতর। জগন্নাথ ধামের আশপাশে প্রচুর খাজার দোকানে অভিযান চালানো হয়। যে খাজা পুরীতে যাওয়া ভক্তদের কাছে অমৃত-সম। দেখা গিয়েছে, বেশির ভাগ দোকানেই অত্যন্ত নিম্নমানের দ্রব্য দিয়ে খাজা তৈরি করা হচ্ছে। পোকা ধরা ময়দা সহ নানা বিষাক্ত জিনিস।

যে পাটাতনে খাজা বেলা হচ্ছে, সেখানেই দাঁড়ান কর্মীরা
যে পাটাতনে খাজা বেলা হচ্ছে, সেখানেই দাঁড়ান কর্মীরা

৪ কুইন্টাল খাজা নষ্ট করা হল

পুরী শহরের ডিএসপি রশমিরঞ্জন মহাপাত্র জানান, অত্যন্ত নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর ভাবে খাজা বানানো চলছে। জগন্নাথ ধামের মূল গেটের কাছেই ৪টি নামী খাজার দোকানে অভিযান চালানো হয়েছে। তাঁর কথায়, 'অভিযান চলাকালীন, আমরা দেখলাম, খাজা তৈরির জন্য যে সামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে, তা অত্যন্ত নিম্নমানের। আমরা ৪ কুইন্টাল খাজা নষ্ট করতে নির্দেশ দিই। ওই ৪টি দোকানকেি নোটিস ধরানো হয়েছে ও ৪৫ হাজার টাকা করে জরিমানা করেছি।'

খাজা বেলার কাঠের পাটাতনেই খালি পায়ে দাঁড়ান শ্রমিকরা

তিনি আরও জানান, যে কাঠের থালায় খাজা বেলা হচ্ছে, সেই সব কাঠের থালাগুলিতে কর্মীরা নোংরা পায়েই দাঁড়াচ্ছেনও। পায়ের নোংরাও মিশছে খাজায়। খাদ্য নিরাপত্তা আধিকারিক বেদশ্রী সাহু জানিয়েছেন, অভিযানে খাজা তৈরির ইউনিটগুলিতে ভয়াবহ অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের ছবি ধরা পড়েছে। খাজা তৈরি ও রোল করার কাজে ব্যবহৃত কাঠের পাটাতনই শ্রমিকরা দাঁড়ানোর জায়গা হিসেবে ব্যবহার করেন। নিম্নমানের বেশ কিছু উপকরণ বাজেয়াপ্ত করে পরীক্ষার জন্য পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে।

অত্যন্ত নিম্নমানের খাজা
অত্যন্ত নিম্নমানের খাজা

খাদ্য সুরক্ষা আধিকারিক বেদশ্রী সাহু জানালেন, যে পরিবেশে ওই খাজা তৈরি হচ্ছিল, তা ক্রেতাদের স্বাস্থ্যের জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে পুরীর মন্দিরের আশপাশে ভক্তরা ভগবান জগন্নাথের ঐতিহ্যবাহী প্রসাদ হিসেবে বিশ্বাস করে খাজা কেনেন। সেই জায়গায় এমন অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাজা তৈরি হওয়া নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পুরীর বাসিন্দা ও জগন্নাথদেবের ভক্ত শঙ্কর দাস বলেন, 'মানুষ গভীর ভক্তি ও বিশ্বাসের সঙ্গে ভগবান জগন্নাথের প্রসাদ হিসেবে খাজা খান। যাঁরা এমন অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তা তৈরি ও বিক্রি করছেন, তাঁরা ভক্তদের বিশ্বাস নিয়ে ছেলেখেলা করছেন। এটি বিশ্বাসভঙ্গের সামিল। সারা বছর ধরেই প্রশাসনের এমন অভিযান চালিয়ে যাওয়া উচিত।'

Advertisement

TAGS:
POST A COMMENT
Advertisement