সিকিমের রংপো ট্যাক্সি স্ট্যান্ডে ভাড়া নিয়ে জুলুমের অভিযোগ, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবিস্রেফ অসহায়তার সুযোগ নিয়ে ছাত্রছাত্রী ও সাধারণ যাত্রীদের পকেট কাটার এক নজিরবিহীন ও লজ্জাজনক ঘটনার সাক্ষী থাকল সিকিম-বাংলা সীমান্তের রাংপো ট্যাক্সি স্ট্যান্ড। রবিবার বেলা পৌনে বারোটা নাগাদ সেখানে কার্যত প্রকাশ্য ‘লুঠপাট’ চালাচ্ছে একশ্রেণির চালক বলে অভিযোগ উঠেছে। শিলিগুড়িতে ‘কুয়েট’ (CUET) প্রবেশিকা পরীক্ষা দিতে যাওয়ার পথে চরম হেনস্থার শিকার হতে হলো বহু পরীক্ষার্থীকে। স্বাভাবিকভাবেই এই ঘটনায় রংপো ট্যাক্সি স্ট্যান্ডের চালকদের ভূমিকা এবং প্রশাসনের নজরদারি নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠে গিয়েছে।
জানা গিয়েছে, রবিবার সকাল থেকেই রাংপো ট্যাক্সি স্ট্যান্ডে ছিল চোখে পড়ার মতো ভিড়। যার সিংহভাগই শিলিগুড়িমুখী পরীক্ষার্থী এবং জরুরি প্রয়োজনে যাতায়াত করা সাধারণ মানুষ। আর যাত্রীদের এই বিপুল ভিড় এবং গন্তব্যে পৌঁছনোর তাগিদকে হাতিয়ার করেই ‘শকুনি’র মতো থাবা বসায় স্ট্যান্ডের কিছু চালক। রংপো থেকে শিলিগুড়ি আসার সাধারণ গাড়ির ভাড়া মাথাপিছু যেখানে ৩০০ টাকা, সেখানে এদিন কার্যত জোরজুলুম করে যাত্রীপিছু ৪০০ টাকা করে আদায় করা হয়। এক ভুক্তভোগী ছাত্রের অভিযোগ, তিনি এবং তাঁর ভাই যখন চালককে জানান যে তাঁরা পরীক্ষার্থী এবং এভাবে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া অন্যায়, তখন ওই চালক বিন্দুমাত্র সৌজন্য না দেখিয়ে উল্টে অত্যন্ত অভদ্রভাবে চিৎকার করে বলেন, “গাড়ি থেকে নেমে যান, গিয়ে অন্য গাড়ি খুঁজুন!”
বাধ্য হয়ে এবং সময়ের মধ্যে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছনোর তাগিদে চোখের জল ফেলেই অতিরিক্ত টাকা গুনতে হয় ওই দুই ভাইকে। শুধু তাই নয়, নিয়ম ভেঙে এই বাড়তি ভাড়ার কোনও রসিদ বা টিকিটও যাত্রীদের দেওয়া হয়নি। এই প্রকাশ্য তোলাবাজি ও চালকদের একাংশের মস্তানির বিরুদ্ধে সরব হয়েছে ‘অল সিকিম ভয়েস অফ চৌফার’-ও (All Sikkim Voice Of Chauffeur)। চলন্ত গাড়ি থেকেই ক্ষুব্ধ ছাত্ররা জানিয়েছেন, তাঁরা ইতিমধ্যেই ওই নির্দিষ্ট গাড়ির নম্বর চিহ্নিত করেছেন এবং তা প্রশাসনের হাতে তুলে দেবেন। প্রশ্ন উঠছে, প্রকাশ্য দিবালোকে এভাবে পরীক্ষার্থীদের ওপর জুলুম চলার সময় পরিবহণ দফতর বা স্থানীয় পুলিশ-প্রশাসন কোন কুম্ভকর্ণের ঘুমে মগ্ন ছিল? অবিলম্বে এই ঘটনার তদন্ত ও দোষী চালকদের লাইসেন্স বাতিলের দাবি তুলেছেন ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা।