জয়পুর হত্যাকাণ্ড।-ফাইল ছবিরাজস্থানের জয়পুরে নীরজা শর্মা হত্যা মামলায় তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে নতুন নতুন তথ্য। পুলিশের দাবি, অভিযুক্ত মেয়ে আয়ুশী শর্মার মধ্যে 'একজন পরিপূর্ণ অপরাধীর মানসিকতা' ছিল। চূড়ান্ত বর্ষের এলএলবি-র ছাত্রী হওয়ায় আইন সম্পর্কেও তার ভালো জ্ঞান ছিল, যা জিজ্ঞাসাবাদের সময় পুলিশের নজরে আসে। তদন্তকারীদের অভিযোগ, আয়ুশী অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় উত্তর দিচ্ছিল এবং নিজের বিরুদ্ধে অভিযোগ এড়ানোর চেষ্টা করছিল।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আয়ুশীর বাবা বিজয় শর্মা, যিনি আদালতের কর্মী ছিলেন, প্রায় এক বছর আগে মারা যান। এরপর সহানুভূতিমূলক নিয়োগের সুযোগ তৈরি হলে আয়ুশী নিজে চাকরি করতে চেয়েছিল। কিন্তু পরিবারের পরামর্শে সেই চাকরি পান তাঁর মা নীরজা শর্মা। অভিযোগ, এই সিদ্ধান্তেই ক্ষুব্ধ হয়ে আয়ুশী বাড়ি ছেড়ে বাবার পুরনো বাড়িতে চলে যায় এবং সেখান থেকেই মাকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করতে শুরু করে।
তদন্তে উঠে এসেছে, আয়ুশী তার খুড়তুতো ভাই বলরামের কাছে মাকে হত্যার প্রস্তাব দেয়। অভিযোগ, বিনিময়ে সে বিপুল মূল্যের জমি, বাড়ির মালিকানা এবং ভবিষ্যতে চাকরির সুবিধা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। পরে বলরাম বিষয়টি তার বাবা মোহন শর্মাকে জানায়। অভিযোগ, এরপরই নীরজাকে হত্যার ষড়যন্ত্র শুরু হয়।
প্রথমে একটি থার গাড়ি দিয়ে নীরজাকে চাপা দিয়ে ঘটনাকে দুর্ঘটনা বলে দেখানোর চেষ্টা করা হয়। তবে সেই পরিকল্পনা ব্যর্থ হলে নীরজা সন্দেহপ্রবণ হয়ে বাড়ির চারপাশে লোহার বেড়া ও সিসিটিভি ক্যামেরা বসান। কিন্তু তদন্তকারীদের দাবি, তাতেও পরিকল্পনা থামেনি। পরে সাত লক্ষ টাকার বিনিময়ে এক ব্যক্তিকে ভাড়া করে হরিয়ানার নম্বরযুক্ত একটি স্করপিও গাড়ির মাধ্যমে নীরজাকে ধাক্কা মেরে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ।
এদিকে তদন্তের সময় নীরজার ভাই রাকেশ শর্মাও পুলিশের কাছে একাধিক বিস্ফোরক দাবি করেছেন। তাঁর অভিযোগ, আয়ুশীর সঙ্গে তাঁর ভাই বলরামের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল এবং বলরাম একটি ভিডিও দেখিয়ে তাঁকে ব্ল্যাকমেল করত। পাশাপাশি, তিনি দাবি করেছেন, এক বছর আগে আয়ুশীর বাবার মৃত্যুর ঘটনাতেও তার ভূমিকা থাকতে পারে। তবে এই অভিযোগগুলির তদন্ত এখনও চলছে এবং আদালতে সেগুলির সত্যতা প্রমাণিত হয়নি।