জুন মালিয়া ও দেব অধিকারী তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদদের নিয়ে বড় খবর। তাঁরা এনডিএ বা বিজেপি-তে যোগ দেবেন না। খবর সূত্রের। বরং, পৃথক ব্লক করে দল চালাতে পারেন। রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি, তৃণমূলের সাংসদ হিসেবেই তাঁরা লোকসভায় কাজ করে যাবেন। তবে প্রত্যক্ষভাবে বিজেপি বা এনডিএ জোটকে সমর্থন করবেন না বা তাঁদের সঙ্গে নিজেদের মিশিয়ে দেবেন না।
সূত্রের এও দাবি, তৃণমূলের ২০ জন লোকসভার ও একাধিক রাজ্যসভার সাংসদ বিল পাশের ক্ষেত্রে NDA-কে সমর্থন করতে পারেন। সেহেতু সংসদে মহিলা সংরক্ষণ বিল এবং ডিলিমিটেশন বিল আবারও পাশ করানোর চেষ্টা করতে পারে। এর আগের বার সংসদে এই বিল পাশ করানোর চেষ্টা করেছিল নরেন্দ্র মোদীর সরকার। তবে লোকসভাতে সংখ্যা গরিষ্ঠতা না পাওয়ায় সেই বিল পাশ করা যায়নি।
প্রসঙ্গত, সোমবার থেকে দিল্লির সংসদীয় রাজনীতিতে বড়সড় হেরফের ঘটতে থাকে। সেদিন সকালে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের বাড়িতে বৈঠকে বসেন এক ঝাঁক তৃণমূল সাংসদ। সেখানে হাজির হয়েছিলেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও। তারপর সেদিন সন্ধেবেলাতেই ফের বীরভূমের সাংসদ শতাব্দী রায়ের বাড়িতেও বৈঠক হয়। তখনও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তাতে যোগ দিয়েছিলেন। ফলে জল্পনা শুরু হয়, ওই সাংসদরা কি তাহলে বিজেপিতে যোগ দেবেন?
সেই জল্পনা যে মিথ্য়া নয় তা প্রমাণ করে দেন বারাসতের তৃণমূল সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার। তিনি জানান, তৃণমূলের ২০ জন সাংসদ সংসদে পৃথক কাজ করবেন। এনডিএ-তে যোগ দেবেন। তিনি মুখ্য সচেতক হিসেবে কাজ চালিয়ে যাবেন। কারা কারা সেদিনের বৈঠকে যোগ দিয়েছিলেন সেই নামের একটি প্রাথমিক তালিকাও তিনি দিয়েছিলেন।
এদিকে কাকলির সেই বক্তব্যে সিলমোহর দেন শতাব্দীও। তিনি জানান, দলে থেকে কাজ করতে পারছিলেন না। সেজন্য তাঁরা পৃথক ব্লক গড়ছেন। তিনি উপ মুখ্যসচেতকের কাজ করবেন। দলের অন্যরা কী সিদ্ধান্ত নেবেন সেই বিষয়ে তাঁর জানা নেই বলেও দাবি করেছিলেন।
তবে এখন জানা যাচ্ছে, ওই বিদ্রোহী সাংসদরা এনডিএ বা বিজেপিতে যোগ দেবেন না। বরং তাঁরা আলাদা ব্লক করে কাজ চালিয়ে যাবেন। যদিও সংসদীয় গণতন্ত্রে সেটা সম্ভব বলেই মত রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের।