গত মাসেই রেকর্ড হারে বেড়েছিল, পুজোর আগে ফের চিনির দাম বৃদ্ধির আশঙ্কা

এই পরিস্থিতিতে উৎসবের আগে চিনি কলগুলিকে বাজারে পর্যাপ্ত পরিমাণে চিনি সরবরাহ করার নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্র। একই সঙ্গে দাম যাতে অস্বাভাবিক ভাবে না বাড়ে, সেদিকেও নজর রাখতে বলা হয়েছে।

Advertisement
গত মাসেই রেকর্ড হারে বেড়েছিল, পুজোর আগে ফের চিনির দাম বৃদ্ধির আশঙ্কা  ফাইল ছবি
হাইলাইটস
  • গত মাসেই দেশে চিনির দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছিল
  • এর পর সাম্প্রতিক দিনে দাম কিছুটা কমলেও এখনও তা দু’মাস আগের তুলনায় প্রায় ২০ শতাংশ বেশি

উৎসবের মরশুমে দেশে ফের চিনির দাম বাড়ার আশঙ্কা। পরিস্থিতি সামাল দিতে এখন থেকেই চিনি কলগুলিকে পর্যাপ্ত সরবরাহ বজায় রাখার নির্দেশ দিল কেন্দ্র। শুধু তাই নয়, অযৌক্তিকভাবে দাম বাড়ানো হলে প্রয়োজনীয় সংশোধনমূলক পদক্ষেপ করা হবে বলেও স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে সরকার। বৃহস্পতিবার খাদ্য মন্ত্রকের এক আধিকারিকের বক্তব্য উদ্ধৃত করে এই খবর জানিয়েছে রয়টার্স।

গত মাসেই দেশে চিনির দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছিল। বাজারে সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সরকার ১০ লক্ষ মেট্রিক টন পর্যন্ত চিনি শুল্কমুক্ত আমদানির অনুমতি দেয়। এর পর সাম্প্রতিক দিনে দাম কিছুটা কমলেও এখনও তা দু’মাস আগের তুলনায় প্রায় ২০ শতাংশ বেশি।

চিনি কেন এতটা দামি হল?

খাদ্য মন্ত্রকের যুগ্মসচিব অশ্বিনী শ্রীবাস্তব জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক সময়ে চিনির দাম বৃদ্ধির পিছনে হঠাৎ করে চাহিদা বেড়ে যাওয়াই মূল কারণ নয়। বরং উৎসবের মরশুমে আরও বেশি দামে চিনি বিক্রির আশায় বাজারে মজুতদারি করা হয়েছিল।

তাঁর বক্তব্য, কিছু ক্ষেত্রে বেশি দামের প্রত্যাশায় চিনি ধরে রাখা হয়েছিল। এর ফলে বাজারে সরবরাহের উপর চাপ তৈরি হয় এবং দামও বেড়ে যায়।

এই পরিস্থিতিতে উৎসবের আগে চিনি কলগুলিকে বাজারে পর্যাপ্ত পরিমাণে চিনি সরবরাহ করার নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্র। একই সঙ্গে দাম যাতে অস্বাভাবিক ভাবে না বাড়ে, সেদিকেও নজর রাখতে বলা হয়েছে।

উৎসবের মরশুমে বাড়ে চিনির চাহিদা

ভারতে সাধারণত অগাস্ট থেকে নভেম্বর পর্যন্ত চিনির চাহিদা বাড়তে থাকে। এই সময় একের পর এক উৎসব রয়েছে। গণেশ চতুর্থী, দশেরা থেকে শুরু করে দীপাবলি- প্রতিটি উৎসবেই মিষ্টি ও নানা ধরনের মিষ্টিজাতীয় খাবারের চাহিদা বেড়ে যায়।

উৎসবের সময়ে বাড়িতে মিষ্টি তৈরি করা থেকে শুরু করে দোকানে তৈরি মিষ্টির বিক্রি- সব ক্ষেত্রেই চিনির ব্যবহার বাড়ে। ফলে এই সময় বাজারে চিনির সরবরাহে সামান্য ঘাটতি তৈরি হলেও তার প্রভাব পড়তে পারে দামের উপর। সরকার তাই উৎসবের আগেই উৎপাদন, মজুত এবং বাজারে বিক্রির পরিমাণের উপর নজরদারি বাড়াতে চাইছে।

Advertisement

প্রায় ৮ লক্ষ টন চিনি আমদানির আবেদন

চিনির জোগান ঠিক রাখতে এবার বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্র। ১০ লক্ষ মেট্রিক টন পর্যন্ত চিনি শুল্ক ছাড়াই আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে এখনও পর্যন্ত প্রায় ৮ লক্ষ মেট্রিক টন চিনি আমদানির জন্য আবেদন জমা পড়েছে বলে জানিয়েছেন খাদ্য মন্ত্রকের যুগ্মসচিব অশ্বিনী শ্রীবাস্তব।

ভারত সাধারণত বিশ্বের অন্যতম বড় চিনি রফতানিকারক দেশ। কিন্তু দেশের বাজারে সরবরাহ ও দামের উপর চাপ তৈরি হওয়ায় এবার পরিস্থিতি কিছুটা অন্যরকম। প্রায় এক দশক পর ব্রাজিল থেকে ফের চিনি আমদানি করছে ভারত। সরকারের আশা, বিদেশ থেকে অতিরিক্ত চিনি এলে দেশের বাজারে সরবরাহ বাড়বে। তার ফলে উৎসবের মরশুমে চাহিদা বাড়লেও দামের উপর চাপ কিছুটা কমানো সম্ভব হবে।

মাসে মাসে উৎপাদনের হিসাব নেবে সরকার

শুধু আমদানির উপর নির্ভর করেই পরিস্থিতি সামাল দিতে চাইছে না কেন্দ্র। দেশীয় চিনি উৎপাদন ও বিক্রির উপরও নজরদারি আরও বাড়ানো হচ্ছে।

চিনি কলগুলিকে প্রতি মাসে উৎপাদন এবং বিক্রির সঠিক তথ্য জমা দিতে বলা হয়েছে। এই তথ্যের ভিত্তিতে বাজারে কতটা চিনি রয়েছে, কতটা বিক্রি হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে সরবরাহে কোনও ঘাটতির সম্ভাবনা রয়েছে কি না, তা বোঝার চেষ্টা করবে সরকার।

সরকারের লক্ষ্য, বাজারে চাহিদা ও জোগানের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা। কোনও এলাকায় সরবরাহ কমে গেলে বা অস্বাভাবিক ভাবে দাম বাড়তে শুরু করলে যাতে দ্রুত পদক্ষেপ করা যায়, সেই ব্যবস্থাই তৈরি করা হচ্ছে।

মজুতদারির উপর নজর

সরকারের বক্তব্য অনুযায়ী, এবার চিনির দাম নিয়ন্ত্রণে অন্যতম বড় বিষয় হল মজুতদারি। উৎসবের সময়ে দাম বাড়তে পারে- এই প্রত্যাশায় যদি কোনও ব্যবসায়ী বা সংস্থা প্রয়োজনের তুলনায় বেশি চিনি মজুত করে রাখে, তাহলে বাজারে কৃত্রিম চাপ তৈরি হতে পারে। সেই কারণেই চিনি কলগুলিকে পর্যাপ্ত সরবরাহ বজায় রাখার পাশাপাশি উৎপাদন ও বিক্রির সঠিক হিসাব দিতে বলা হয়েছে।

গত মাসে রেকর্ড উচ্চতায় ওঠার পর চিনির দাম সাম্প্রতিক দিনে কিছুটা কমেছে ঠিকই। তবে এখনও দাম আগের তুলনায় যথেষ্ট বেশি। সামনে গণেশ চতুর্থী, দশেরা এবং দীপাবলির মতো বড় উৎসব থাকায় চাহিদা আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে বাজারে পর্যাপ্ত চিনি পৌঁছে দেওয়া এবং অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি আটকানোই এখন সরকারের অন্যতম বড় লক্ষ্য। প্রয়োজনে দাম নিয়ন্ত্রণে সংশোধনমূলক পদক্ষেপ করা হবে বলেও ইতিমধ্যে বার্তা দিয়েছে কেন্দ্র।

POST A COMMENT
Advertisement