রেস্তোঁরা ব্যবসায় ট্যাক্স ফাঁকিসারা ভারতের বড় বড় রেস্তোরাঁ চেইনের বিরুদ্ধে তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে ইনকাম ট্যাক্স ডিপার্টমেন্ট। হায়দরাবাদের একটি রেস্তোরাঁয় প্রায় ৭০ হাজার কোটি টাকার গোপন টার্নওভার ধরা পড়ার পরেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
তদন্তের মাধ্যম জানা গিয়েছে, কয়েকটি রেস্তোরাঁ বিলিং সফটওয়্যারকে কারচুপি করে বিক্রির পরিমাণ কম দেখিয়ে কর ফাঁকি দিচ্ছিল। এই কারচুপি নাকি চলছিল ২০১৯–২০ অর্থবর্ষ থেকে।
আয়কর কর্তাদের তরফ থেকে খবর মিলেছে, দেশের বিভিন্ন রাজ্যে একাধিক রেস্তোরাঁয় আর্থিক নথি, পয়েন্ট-অব-সেল (POS) সিস্টেম এবং বিলিং ডেটা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তার মাধ্যমেই চলছে তদন্ত।
এই তদন্ত শুরু হয়েছিল গত বছরের নভেম্বর মাসে। হায়দরাবাদের কয়েকটি রেস্তোরাঁয় নিয়মিত চেকিংয়ের সময় গরমিল ধরা পড়ে। তখন আয়কর আধিকারিকরা দেখেন, দোকানে যত গ্রাহক রয়েছে, বিলিং সফটওয়্যারে দেখানো বিক্রির পরিমাণ তার চেয়ে অনেক কম। আর এই তথ্য দেখেই চমকে ওঠেন তদন্তকারীরা।
প্রথমে বিষয়টি একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলে মনে করা হচ্ছিল। তবে পরে দেখা যায়, একই ধরনের বিলিং প্ল্যাটফর্ম বহু রেস্তোরাঁ ব্যবহার করছে। এমনকী দেশজুড়ে এই সফটওয়্যারটি এক লক্ষেরও বেশি রেস্তোরাঁয় ব্যবহার করে। আর এটা ভারতের মোট রেস্তোরাঁ বাজারের প্রায় ১০ শতাংশ।
এরপরই তদন্তের পরিধি আরও বাড়ানো হয়। এমনকী বিভিন্ন শহরে থাকা রেস্তোরাঁ চেইনগুলির দিকেও রাখা হয় নজর। তদন্তকারীরা ২০২৫–২৬ পর্যন্ত ছয় অর্থবর্ষের প্রায় ৬০ টেরাবাইট লেনদেনের তথ্য বিশ্লেষণ করেছেন। সেখান থেকেই খুঁজছেন কোথায় সমস্যা।
তদন্তে উঠে এসেছে, কিছু রেস্তোরাঁ বিলিং সিস্টেমে বিক্রির পুরো তথ্য ঢুকিয়ে পরে নগদ লেনদেনের কিছু অংশ মুছে দিয়েছে। এর মাধ্যমেই তাঁরা কর ফাঁকি দিয়েছে। কোথাও কোথাও ৩০ দিন পর্যন্ত নগদ বিল একসঙ্গে ডিলিট করা হতো।
প্রাথমিকভাবে তদন্তকারীরা মনে করছেন, হায়দরাবাদের কিছু বিরিয়ানি চেইন এই সফটওয়্যার ব্যবহার শুরু করেছিল। পরে দেশের অন্যান্য রেস্তোরাঁও একই পদ্ধতি ব্যবহার করে থাকতে পারে বলে জানা গিয়েছে।
আয়কর দফতর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ও ডেটা অ্যানালিটিক্স ব্যবহার করে প্রায় ১.৭৭ লক্ষ রেস্তোরাঁ আইডির তথ্য বিশ্লেষণ করেছে। সেগুলোকে GST রেজিস্ট্রেশন, PAN ও অন্যান্য তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে সন্দেহজনক লেনদেন চিহ্নিত করেছে।
শুধু অন্ধ্রপ্রদেশ ও তেলেঙ্গনার ৪০টি রেস্তোরাঁর নমুনা বিশ্লেষণেই প্রায় ৪০০ কোটি টাকার অলিখিত লেনদেন ধরা পড়েছে। অনেক ক্ষেত্রে মোট বিক্রির ২৫ শতাংশ পর্যন্ত গোপন রাখা হয়েছে বলেও অভিযোগ।
তদন্তকারীরা বিশেষভাবে নজর দিচ্ছেন বেঙ্গালুরু, চেন্নাই ও মুম্বইয়ের মতো শহরে। সেখানে যেই সব দোকানে বেশি বিরিয়ানি বিক্রি হয়, সেখানেই নজর ছিল।
আয়কর দফতর জানিয়েছে, আপাতত তদন্ত চলছে একটি নির্দিষ্ট বিলিং সফটওয়্যার প্ল্যাটফর্মকে কেন্দ্র করে। তবে ভবিষ্যতে রেস্তোরাঁগুলিতে ব্যবহৃত অন্য POS সিস্টেমগুলিও তদন্তের আওতায় আসতে পারে।