রাজনৈতিক নেতাদের ৭৫ বছর বয়স হলে পদ থেকে অবসর নেওয়া উচিত? এই প্রশ্নে নানা বিতর্ক রয়েছে দেশজুড়ে। অতীতে খোদ RSS প্রধান মোহন ভাগবত নিজে এই সওয়ালের পক্ষে দাঁড়িয়ে দাবি করেছিলেন, ৭৫ বছর বয়স হলে পদ থেকে সরে দাঁড়ানো উচিত। অন্যদের কাজ করতে দেওয়া উচিত। বেশি দিন আগে নয়, এই বছরেরই জুলাই মাসে বলেছিলেন। অগাস্টের শেষে একেবারে ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে আরএসএস প্রধানের বক্তব্য, তিনি কখনওই বলেননি, ৭৫ বছর বয়স হলে অবসর নেওয়া উচিত।
RSS-এর ১০০তম জন্মবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে মোহন ভাগবত
রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক (RSS)-এর ১০০তম জন্মবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে মোহন ভাগবত বললেন, 'সঙ্ঘে আমরা সবাই স্বেচ্ছাসেবক। আমাদের যা যা আদেশ দেওয়া হয়, সেই মতো কাজ করি। আমরা কোনও কাজকেই বয়সের দোহাই দিয়ে এড়িয়ে যেতে পারি না। সঙ্ঘ সেবকদের যাঁকে যা কাজ দেওয়া হবে, বয়স বিচার না করে তাঁকে তা করতে হয়।'
৭৫ বছর বয়সে অবসরের প্রসঙ্গ
এরপরেই ৭৫ বছর বয়সে অবসরের প্রসঙ্গ টেনে ভাগবত বললেন, 'আমি কখনও বলিনি, আমাকে অবসর নিতে হবে বা অন্য কারও অবসর নেওয়া উচিত। সঙ্ঘে আমাদের প্রত্যেকের নির্দিষ্ট কাজ রয়েছে, সে আমরা চাই বা না চাই। ধরুন আমার ৮০ বয়সে সঙ্ঘের তরফে আমায় নির্দেশ দেওয়া হল, যাও শাঁখ বাজাও। আমাকে করতে হবে। সঙ্ঘ যা বলবে, আমাদের করতে হবে।' বস্তুত, সেপ্টেম্বর মাসেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ৭৫ বছর বয়স হবে। আবার মোহন ভাগবতেরও ৭৫ বছর বয়স হবে। তার ঠিক আগে অতীতের বক্তব্যের একেবারে উল্টো সুর শোনা গেল ভাগবতের গলায়।
জুলাইয়ে বলেছিলেন ৭৫ বছর বয়সে অবসরের কথা
গত ১০ জুলাই এই ভাগবত-ই মোরোপন্তের জীবনের উপর লেখা একটি ইংরেজি বই প্রকাশের অনুষ্ঠানে নাগপুরে মোরোপন্তের জীবনের নানা কথার স্মৃতিচারণ করেছিলেন। বলেছিলেন, ‘মোরোপন্ত একবার বলেছিলেন, যখন ৭৫-এর শাল গায়ে পড়ে, আপনার থেমে যাওয়া উচিত। তার মানে আপনার বয়স হয়েছে। সরে যান। আমাদের কাজ করতে দিন।’
২০২৯ সালে মোদীর বয়স হবে ৭৯ বছর
এরপরে লোকসভা নির্বাচন ২০২৯ সালে। গত বছর মে মাসে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ নিজে জানিয়েছিলেন, ৭৫ বছরে মোদী অবসর নেবেন না। বিজেপির সংবিধানে এমন কোনও নিয়ম নেই। ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনেও দলকে নেতৃত্ব দেবেন মোদীই। ২০২৯ সালে মোদীর বয়স হবে ৭৯ বছর।