Saayoni Ghosh: মমতা ঘনিষ্ঠ সায়নী এখন মোদীপন্থী, প্রথমবার NDA বৈঠকে গিয়ে কেমন লাগল?

একটা সময়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ সায়নী ঘোষ এখন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর গুণমুগ্ধ। রাজনৈতিক ভোলবদল হল কীকরে? NDA বৈঠকে যোগ দিয়ে আপ্লুত সাংসদ।

Advertisement
মমতা ঘনিষ্ঠ সায়নী এখন মোদীপন্থী, প্রথমবার NDA বৈঠকে গিয়ে কেমন লাগল? সায়নী ঘোষ
হাইলাইটস
  • একটা সময়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ
  • সেই সায়নী এখন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ভক্ত
  • NDA বৈঠকে যোগ দিয়ে আপ্লুত সাংসদ

পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট আমূল বদলে গিয়েছে। একটা সময়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ সায়নী ঘোষ তাঁর অবস্থানও পরিবর্তন করে ফেলেছেন। তিনি এখন প্রধানমন্ত্রী মোদীর ভক্ত। একটা সময়ে  BJP-র বিরুদ্ধে গলার স্বর চড়ানো এই সাংসদ প্রথমবার যোগ দিলেন NDA বৈঠকে। আর সেই বৈঠকে তাঁর এক অন্যরকম অনুভূতি হল, তা ধরা পড়ল সায়নীর বক্তব্যেই। 

রাজনীতিতে কে, কখন, কার পক্ষ নেবে তা বলা কঠিন হয়ে উঠেছে বর্তমানে। একসময়ে পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা TMC সুপ্রিমোর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিসেবেই পরিচিত ছিলেন সায়নী। তরুণী সাংসদের রাজনৈতিক জীবন ৩৬০ ডিগ্রি ঘুরে গিয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূলের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে NCPI-তে যাওয়ার পর সায়নী এখন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের ভক্ত হয়ে উঠেছেন। 

২০২৪ সালে সায়নী ঘোষ যাদবপুর আসন থেকে তৃণমূলের টিকিটে লোকসভায় নির্বাচিত হন। এরপর তিনি রাজপথ থেকে সংসদ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং BJP-র বিরুদ্ধে আক্রমণ চালিয়ে যান। তবে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বদলে যাওয়ায় সায়নী ঘোষের রাজনীতিতেও পরিবর্তন এসেছে। এখন তাঁর নিশানায় আর BJP নয় বরং রয়েছে বিরোধী দলগুলি। 

মঙ্গলবার সংসদ ভবন চত্বরের লাইব্রেরি বিল্ডিংয়ে NDA সংসদীয় দলের 'মঙ্গল মিলন' বৈঠক বসেছিল। প্রথমবারের মতো তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে NCPI-তে যোগদানকারী সমস্ত সাংসদরাই সেই বৈঠকে যোগ দেন। সায়নী ঘোষ, কাকলি ঘোষ দস্তিদার, শতাব্দী রায়, জুন মালিয়াদের দেখা যায় সেই বৈঠকে। 

বৈঠক থেকে বেরিয়ে সংবাদমাধ্যঠমের সামনে সায়নী বলেন, 'আমি NDA বৈঠকে ছিলাম। প্রধানমন্ত্রী নকেন্দ্র মোদীর উপস্থিতিতে এই বৈঠক ছিল তথ্যবহুল। অনেক জ্ঞানার্জন করতে পেরেছি।' আপ্লুত সায়নী আরও বলেন, 'আমরা অনেক কিছু শিখতে পারলাম। সভায় আমাদের কথা আলাদা ভাবে উল্লেখ করা হয়েছিল। সভাটি খুবই সমৃদ্ধ ছিল। প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং অন্যান্য মন্ত্রীরা উপস্থিত ছিলেন। মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে এবং ব্লু ইকনমির উপর একটি প্রেজেন্টেশনও দেওয়া হয়েছে। এটি একটি ইতিবাচক দিক, প্রথমবারের মতো নির্বাচিত সাংসদ হিসেবে এই ধরনের অভিজ্ঞতাগুলি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।'

সায়নীর মতে, কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গ যুক্ত নেতারা যেভাবে বিভিন্ন নীতি এবং আসন্ন আইন প্রণয়ন কর্মসূচির রূপরেখা তুলে ধরেছেন, তা তাঁকে দেশের গতিপথ সম্পর্কে আরও গভীর ধারণা দিচ্ছে। অর্থাৎ একটা সময়ে BJP ও কেন্দ্রীয় সরকারের কড়া সমালোচক সায়নী এখন তাঁর সুর পুরোপুরি পাল্টে ফেলেছেন এবং মোদীর প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়েছেন। 

Advertisement

বিরোধী থেকে প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসক
সায়নী ঘোষের মনোভাবের এই পরিবর্তন শুধু সভাতেই সীমাবদ্ধ নেই। নীতিগত বিষয়েও তাঁর অবস্থানে পরিবর্তন এসেছে। দুই বছর ঘকে সায়নী ঘোষ মোদী সরকারের একজন সোচ্চার সমালোচক ছিলেন। মোদী সরকারকে আক্রমণ করার জন্য তিনি তাঁর বক্তৃতায় প্রায়শই গান ও কবিতা ব্যবহার করতেন। এভাবেই তিনি দেশজুড়ে পরিচিতি লাভ করেছিলেন। তবে পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনের ফলাফলের পর তিনি তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তন করেন এবং এখন মোদী সরকারের অন্যতম বড় সমর্থক হয়ে উঠেছেন। 

প্রকাশ্যেই মোদী সরকারের প্রশ্নপত্র ফাঁস বিরোধী বিল সংক্রান্ত পদক্ষেপকে সমর্থন জানালেন সায়নী। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, TMC থেকে বেরিয়ে আসার পর তিনি এখন জাতীয় পর্যায়ে নিজেকে একজন মোদীপন্থী নেত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সচেষ্ট। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ শিবির থেকে সরে এসে মোদী সরকারের কর্মকাণ্ডের প্রশংসা, সায়নী ঘোষের রাজনৈতিক জীবনে একটি বড় ধরনের ইউ-টার্ন। 

সায়নী বলেন, 'NDA বৈঠকে আমরা পরিসংখ্যান সহ দেশের অগ্রগতি, বৈদেশিক বাণিজ্য চুক্তি এবং কৃষকদের বিষয়ে তথ্য পেয়েছি। এর মাধ্যমে আমরা জনগণের কাছে এই বিষয়গুলি ব্যাখ্যা করতে সক্ষম হব।' বৈঠকের প্রশংসা করে তিনি আরও বলেন, 'এর আগে আমরা এমন কিছু দেখিনি। কোন কোন বিল আসছে, তা আমাদের জানানো হয়েছে।' NDA-র বৈঠকে এই প্রথমবার যাওয়ার সুযোগ পেয়ে আপ্লুত সায়নীর বক্তব্য স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে, আগামী দিনে জাতীয় রাজনীতিতে তিনি নিজেকে আকর্ষণীয় ভূমিকায় নিয়ে যেতে চাইছেন। 
 

 

POST A COMMENT
Advertisement