বলিউড অভিনেতা সইফ আলি খান এক বড় আইনি সমস্যার মুখোমুখি হয়েছেন। মধ্যপ্রদেশের ভোপাল এবং রাইসেনে অবস্থিত পতৌদি পরিবারের পৈতৃক সম্পত্তি শত্রু সম্পত্তি আইন, ১৯৬৮-এর অধীনে বাজেয়াপ্ত করার প্রস্তুতি নিচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকার। এর আনুমানিক মূল্য প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা। সম্প্রতি মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট তাদের উপর জারি করা স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করে নেওয়ার পর এই আশঙ্কা আরও বাড়ছে।
শত্রু সম্পত্তি আইন ও সাইফের সম্পত্তি
১৯৪৭ সালের দেশভাগের পর যাঁরা পাকিস্তানে পাড়ি দিয়েছিলেন, তাঁদের রেখে যাওয়া সম্পত্তি ভারত সরকার "শত্রু সম্পত্তি" হিসেবে ঘোষণা করে। ভোপালে অবস্থিত সইফ আলি খানের পৈতৃক সম্পত্তির একটি অংশ এই আইন অনুযায়ী শত্রু সম্পত্তি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সাইফের ঠাকুমা সাজিদা সুলতানের বড় বোন আবিদা সুলতান ১৯৫০ সালে পাকিস্তানে চলে যান। ফলে তাঁর অংশের সম্পত্তি এই আইনের আওতায় পড়ে।
কী বলছে হাইকোর্ট?
মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট ২০১৫ সালে সইফ আলি খানের সম্পত্তি নিয়ে শুরু হওয়া মামলায় সম্প্রতি বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ২০১৯ সালে আদালত সইফের ঠাকুমা সাজিদা সুলতানকে সম্পত্তির আইনি উত্তরাধিকারী হিসেবে স্বীকৃতি দিলেও আবিদা সুলতানের পাকিস্তানে চলে যাওয়ার কারণে তাঁর অংশের জমি শত্রু সম্পত্তি হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
গত বছরের ডিসেম্বরে বিচারপতি বিবেক আগরওয়ালের বেঞ্চ সাইফের আবেদন খারিজ করে দেয় এবং তাঁকে আপিল করার জন্য ৩০ দিনের সময় দেয়। তবে এখনও পর্যন্ত সইফ বা তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
যে সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত হওয়ার ঝুঁকিতে
ভোপাল ও রাইসেনে অবস্থিত সইফ আলি খানের পৈতৃক সম্পত্তিগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল:
ফ্ল্যাগ স্টাফ হাউস
নূর-উস-সাবাহ প্যালেস
দার-উস-সালাম
হাবিবি কা বাংলো
আহমেদাবাদ প্যালেস
কোহেফিজা এলাকা
সইফ তাঁর শৈশব কাটিয়েছেন ফ্ল্যাগ স্টাফ হাউসে। এসব সম্পত্তির মধ্যে ক'য়েকটি পর্যটন কেন্দ্র হিসেবেও পরিচিত।
কী হতে পারে পরবর্তী পদক্ষেপ?
যদিও হাইকোর্টের রায় সাইফের পক্ষে যায়নি, তাঁর পরিবার এখনও দ্বৈত বেঞ্চে আপিল করার সুযোগ পেতে পারে। তবে, বিষয়টি দ্রুত না মেটালে কেন্দ্রীয় সরকার এই সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করতে পারে।
নবাবি ঐতিহ্য থেকে আইনি লড়াই
ভোপালের শেষ নবাব হামিদুল্লাহ খানের পরিবার থেকে আসা সইফ আলি খান একদিকে যেমন বলিউডে নিজের জায়গা তৈরি করেছেন, তেমনই তার রাজকীয় ঐতিহ্য ও পৈতৃক সম্পত্তি সবসময় আলোচনায় থেকেছে। তবে শত্রু সম্পত্তি আইনের আওতায় থাকা এই জমি ও প্রাসাদগুলো এখন তার পরিবারের জন্য বড় আইনি চ্যালেঞ্জ।