সৌরভ দাসের বিরুদ্ধে আর্জি মাদ্রাজ হাইঈকোর্টে।ককরোচ জনতা পার্টির মুখপাত্র সৌরভ দাস ও কেন্দ্রীয় সরকারকে নোটিস পাঠাল মাদ্রাজ হাইকোর্ট। সৌরভ এবং তাঁর পরিবারের অতীত খতিয়ে দেখার দাবিতে আদালতে একটি আর্জি জমা পড়েছিল। তাতে বলা হয়, তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সৌরভের পাসপোর্ট ও আধার কার্ড বাতিল করতে হবে। এমনকি তাঁর সোশ্যাল মিডিয়ার অ্যাকাউন্টগুলিও বন্ধ করে দেওয়ার আর্জি জানানো হয়েছে ওই আর্জিতে। চেন্নাইয়ের বাসিন্দা আর গণেশ কুমার নামে এক ব্যক্তি এই আবেদন করেছেন। মামলাটির শুনানি হয় প্রধান বিচারপতি সুশ্রুত অরবিন্দ ধর্মাধিকারী এবং বিচারপতি জি অরুণ মুরগনের ডিভিশন বেঞ্চে।
ওই আর্জিতে অভিযোগ করা হয়েছে, সৌরভ একাধিকবার আদালত এবং বিচারপতিদের সম্পর্কে আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন। দেশের প্রধান বিচারপতি এবং সুপ্রিম কোর্টের অন্যান্য বিচারপতিদের সম্পর্কেও অসম্মানজনক মন্তব্য করেছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের অ্যাকাউন্ট থেকে বিচারব্যবস্থা নিয়েও নানা ধরনের মন্তব্য করেন সৌরভ। সৌরভের পাশাপাশি তাঁর পরিবারের বিষয়েও বিস্তারিত তথ্য জানাতে হবে। তাঁর মা এবং বাবার পরিচয় ও অতীত খতিয়ে দেখা হোক। আবেদনে দাবি, সৌরভের বাবা পুদুচেরিতে থাকেন।
আবেদনকারীর আইনজীবী বি জগন্নাথ আদালতকে জানিয়েছেন, গত ৭ অক্টোবরই সংশ্লিষ্ট সরকারি দফতরগুলিতে অভিযোগ জানানো হয়েছিল। কিন্তু সেখান থেকে কোনও উত্তর মেলেনি। সেই কারণেই হাইকোর্টের দ্বারস্থ হতে হয়েছে। আইনজীবীর বক্তব্য, বিচারব্যবস্থা সম্পর্কে সৌরভ যে ধরনের মন্তব্য করেন, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
হাইকোর্টের নোটিশ
এই মামলায় সৌরভ দাস এবং কেন্দ্রীয় সরকারের একাধিক দফতরকে নোটিস পাঠিয়েছে আদালত। ছ’সপ্তাহের মধ্যে জবাব দিতে হবে তাঁদের। তবে আদালত এখনও সৌরভের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগকে সত্য বলে মেনে নেয়নি। মামলার চূড়ান্ত রায়ও ঘোষণা হয়নি।
সিজেপির প্রতিক্রিয়া
সৌরভের বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টিও। দলের মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা এক্সে লিখেছেন, 'এখানে যা ঘটছে, তা লজ্জাজনক। কারও কাজ আপনার পছন্দ নয় বলে তাঁকে হেনস্থা করা হচ্ছে। আর কত দিন আমরা এসব সহ্য করব?'
এর আগে দিল্লিতে সৌরভের ঠিকানা নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। দিল্লির স্পেশাল এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট তাঁর বর্তমান ঠিকানার প্রমাণ চেয়েছিলেন। গত সপ্তাহে মামলার শুনানিতে ম্যাজিস্ট্রেট জানান, সৌরভের জমা দেওয়া নথিতে কোনও ভাড়ার চুক্তিপত্র বা লিজ সংক্রান্ত কাগজ নেই। ফলে ওই নথি থেকে দিল্লিতে তিনি ঠিক কোথায় থাকেন, তা প্রমাণিত হচ্ছে না। প্রয়োজনীয় নথি জোগাড় করার জন্য সৌরভের আইনজীবীরা আদালতের কাছে আরও সময় চান। তাঁদের সেই আবেদন মঞ্জুর করে পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে ১৭ নভেম্বর। ওই দিন জমা দেওয়া নথিপত্র খতিয়ে দেখা হবে।
বলে রাখি, ককরোচ জনতা পার্টির গুরুত্বপূর্ণ সদস্য সৌরভ দাস। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে নিয়মিত সরব হয়েছেন। এই দাবিতে দিল্লিতে বিক্ষোভের সময় সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কাকেও গ্রেফতার করা হয়। ৮ দিন তিহাড় জেলে থাকতে হয় দু'জনকে। পরে আদালতের নির্দেশে মুক্তি পান।