Supreme Court On SIR: 'Form 6 সংশোধনের অনুমতি তো দিইনি,' জানাল সুপ্রিম কোর্ট, SIR মামলায় কমিশনকে নোটিস

SIR মামলায় নির্বাচন কমিশনকে নোটিস জারি করল সুপ্রিম কোর্ট। কোর্টের প্রধান বিচারপতি বলেন, 'আমরা সাংবিধানিক কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আইন অনুযায়ী কাজের প্রত্যাশা করি।' একইসঙ্গে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, Form-6 বদলের ক্ষেত্রে দেশের শীর্ষ আদালত কোনও অনুমতিই দেয়নি।

Advertisement
'Form 6 সংশোধনের অনুমতি তো দিইনি,' জানাল সুপ্রিম কোর্ট, SIR মামলায় কমিশনকে নোটিসনির্বাচন কমিশনকে নোটিস সুপ্রিম কোর্টের
হাইলাইটস
  • Form 6 সংশোধনের অনুমতি তো দিইনি
  • SIR মামলায় নির্বাচন কমিশনকে নোটিস জারি করল সুপ্রিম কোর্ট
  • আইন লঙ্ঘন হলে কী হবে?

SIR বা স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন সহ নির্বাচন কমিশনের একাধিক সিদ্ধান্তের বৈধতা নিয়ে দায়ের হয়েছিল জনস্বার্থ মামলা। সোমবার সেই মামলায় নির্বাচন কমিশনকে নোটিস জারি করল সুপ্রিম কোর্ট। সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি বলেন, 'আমরা সাংবিধানিক কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আইন অনুযায়ী কাজের প্রত্যাশা করি।' নির্বাচন কমিশন আইন অমান্য করে ফর্ম-৬ ও SIR সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে কি না, জমা পড়া নথি দেখে তা যাচাই করবে শীর্ষ আদালত।

ফর্ম ৬ পরিবর্তনের অনুমতি দেয়নি সুপ্রিম কোর্ট

ফর্ম ৬-এর পরিবর্তন এবং স্পেশাল ইন্টেনসিভ রিভিশন (SIR) সংক্রান্ত একাধিক সিদ্ধান্ত আইন মেনে নেওয়া হয়েছে কি না, তা যাচাই করতে কমিশনকে তাদের সমস্ত সিদ্ধান্তের মূল রেকর্ড আদালতে পেশ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শুনানিকালে প্রধান বিচারপতি স্পষ্ট বলেন, 'নথি জমা পড়লে আমরা দেখতে চাই ফর্ম-৬ আসলে কে সংশোধন করেছেন। আমরা কিন্তু ফর্ম ৬-এর এই পরিবর্তনে কোনও অনুমোদন দিইনি।' সেই সঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন, 'যদি কোনও বেআইনি কাজ হয়ে থাকে, তবে তার পরিণতিও ভোগ করতে হবে।' আদালত আরও উল্লেখ করে, 'আমরা আশা করি সাংবিধানিক কর্তৃপক্ষ আইন অনুসারেই কাজ করবে।'

আবেদনকারীদের পক্ষে আইনজীবী তথা মমতা তৃণমূলের সাংসদ মেনকা গুরুস্বামী আদালতে সওয়াল করেন। তিনি বলেন, 'বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রের নাগরিকদের ভোটাধিকার আজ মারাত্মকভাবে প্রভাবিত হচ্ছে। দিল্লিতে যেখানে সংখ্যাটি প্রায় ৩০ লাখ, সেখানে পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ৯০ লাখ লোক প্রভাবিত হয়েছেন।'

মামলাকারীর আইনজীবী বিকাশ সিং এক সপ্তাহের মধ্যে নির্বাচন কমিশনের জবাবদিহির আর্জি জানান। তবে সুপ্রিম কোর্ট নোটিস জারি করলেও জবাব দেওয়ার জন্য কোনও নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেয়নি।

জ্ঞানেশ কুমারকে CEC পদ থেকে সরানোর দাবি
জনস্বার্থ মামলাকারী বর্তমান জাতীয় নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে CEC পদ থেকে অপসারিত করারও আবেদন জানিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, যে সাংবিধানিক বিধানের অধীনে জাতীয় নির্বাচন কমিশনারকে নিয়োগ করা হয়েছে, তার পরিপন্থীভাবে তিনি কাজ করছেন এবং একতরফাভাবে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। মামলাকারীর বক্তব্য, নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত সর্বসম্মতভাবে অথবা সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে নেওয়া বাধ্যতামূলক। কিন্তু জ্ঞানেশ কুমার একাই একাধিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। বিকাশ সিং বলেন, 'এই বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টকে হস্তক্ষেপ করতেই হবে, না হলে দেশ জ্বলে উঠবে।'

Advertisement

এর পরিপ্রেক্ষিতে CJI বলেন, 'প্রক্রিয়ায় কোনও ত্রুটি পাওয়া গেলে আদালত তার ফলাফল বাতিল করতে পারে।' মামলাকারী অবশ্য দাবি করেন, 'নির্বাচনের ফল বাতিল করা সম্ভব নয়। নির্বাচন কমিশনকে শুধুমাত্র সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া উচিত।' CJI তখন বলেন, 'অর্থাৎ সংশোধিত বিধানের ব্যাখ্যা অনুযায়ী সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে প্রথমে সর্বসম্মতির চেষ্টা করতে হবে। সর্বসম্মতি না হলে সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া যেতে পারে। আর সেই প্রক্রিয়া অনুসরণ না করা হলে সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্ত বাতিল করা যেতে পারে। আগে নির্বাচন কমিশনকে জবাব দেওয়ার সুযোগ দেওয়া উচিত। একটি বাধ্যতামূলক আইন রয়েছে এবং আদালত আশা করে নির্বাচন কমিশন সেই আইন মেনেই কাজ করেছে। যদি আইন লঙ্ঘন করা হয়ে থাকে, তাহলে সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্ত বাতিল করা যেতে পারে।'

CEC-সহ নির্বাচন কমিশনের সদস্যদের ‘ইমিউনিটি’ নিয়েও প্রশ্ন

নির্বাচন কমিশনার এবং নির্বাচন কমিশনের অন্যান্য সদস্যদের বিরুদ্ধে মামলা করা বা তাঁদের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের ক্ষেত্রে দেওয়া ব্যাপক সুরক্ষার বিষয়টিও তোলা হয়েছে। এমনকী অবসর নেওয়ার পরেও তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা বা প্রসিকিউশন থেকে এই ধরনের সুরক্ষা কেন থাকবে, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন মামলাকারী। মামলাকারী বিশেষভাবে আইনের Section 16-এর অধীনে CEC-কে দেওয়া এই ধরনের সুরক্ষা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং দাবি করেন, অন্য কোনও সরকারি আধিকারিককে এমন ‘blanket immunity’ দেওয়া হয়নি।

এরপরই জ্ঞানেশ কুমার একাই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, নাকি সংখ্যাগরিষ্ঠতা ছিল, তার রেকর্ড চায় সুপ্রিম কোর্ট। অর্থাৎ, এখন মূলত কমিশনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়াই আদালতের নজরে। নির্বাচন কমিশনের জবাব এবং সিদ্ধান্তগুলির রেকর্ড সামনে আসার পরই এই বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করবে সুপ্রিম কোর্ট।

POST A COMMENT
Advertisement