SIR, ECI NET বিতর্কের সেই DG IT সীমা খান্নাকে নিয়ে কী নির্দেশ কমিশনের?

গত ২৮ জুলাইয়ের নির্দেশে আইটি ও আইসিটি বিভাগের ডেপুটি নির্বাচন কমিশনার সঞ্জয় কুমারের বদলি। সীমা খান্নাকে কোনও ডেপুটি নির্বাচন কমিশনারের পরিবর্তে সরাসরি কমিশনের কাছে রিপোর্ট করতেন। নির্বাচন কমিশনার এসএস সান্ধু এবং বিবেক যোশী ওই নির্দেশ নিয়ে আপত্তি জানান। এরপরেই নির্দেশটি কার্যকর করার সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখা হয়।

Advertisement
SIR, ECI NET বিতর্কের সেই DG IT সীমা খান্নাকে নিয়ে কী নির্দেশ কমিশনের?  সীমা খান্নাকে নিয়ে কী সিদ্ধান্ত নিল কমিশন।
হাইলাইটস
  • দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তির পর বাস্তবায়িত হয়নি।
  • যুক্তি দিল নির্বাচন কমিশন।

বাংলার ভোটের সময় নির্বাচন কমিশনের আইটি বিভাগের প্রধান সীমা খান্নার ভূমিকায় প্রশ্ন তুলেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিযোগ করেছিলেন, এআই দিয়ে নাম ডিলিট করেছে সীমা। সেই সীমা খান্নাকে নিয়ে কমিশনের নতুন সিদ্ধান্ত। তাঁর কাজের উপর নজরদারির ব্যবস্থা ফের আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা হল। ২৮ জুলাই এই নজরদারি সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নোট দিয়েছিলেন দুই নির্বাচন কমিশনার। যদিও নির্বাচন কমিশনের দাবি, ওই নির্দেশ কখনও কার্যকরই হয়নি। তা হলে তিন মাস পর নতুন করে নির্দেশ জারি করার প্রয়োজন পড়ল কেন? আর দুই নির্বাচন কমিশনারের অভিযোগই বা কী ছিল? এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে পিছিয়ে যেতে হবে কয়েক মাস আগে।

৪ নভেম্বর কাজের দায়িত্ব বণ্টন সংক্রান্ত নতুন নির্দেশ জারি করে নির্বাচন কমিশন। ওই নির্দেশে সিনিয়র ডেপুটি নির্বাচন কমিশনার পবনকুমার শর্মাকে আইটি এবং আইসিটি বিভাগের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। নতুন নির্দেশের ফলে আইটি বিভাগের ডিরেক্টর জেনারেল সীমা খান্নাকে এবার থেকে তাঁর মাধ্যমে ফাইল পাঠাতে হবে। নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্তকে কার্যত অবস্থান পরিবর্তন বলেই মনে করা হচ্ছে। তবে নির্বাচন কমিশনের এক সিনিয়র কর্তাকে উদ্ধৃত করে সংবাদ সংস্থা পিটিআইয়ের দাবি, আইটি ডিজির কাজের কাঠামোয় কোনও পরিবর্তন হয়নি।

২৮ জুলাই দায়িত্ব

গত ২৮ জুলাই সীমা খান্নাকে সরাসরি কমিশনের কাছে রিপোর্ট করার নির্দেশ দিয়েছিলেন মনীশ গর্গ। সেই সময় সীমা খান্না ডেপুটি নির্বাচন কমিশনার সঞ্জয় কুমারের অধীনে কাজ করতেন। সঞ্জয় কুমারকে দিল্লি সরকারের অধীনে বদলি করা হলে ওই নির্দেশ জারি করেন গর্গ। নির্বাচন কমিশনের যুক্তি ছিল, নির্বাচন কমিশনার বিবেক যোশী ও সুখবীর সান্ধুর আপত্তির পর ২৮ জুলাইয়ের নির্দেশ কখনও কার্যকরই হয়নি। সঞ্জয় কুমার কমিশন ছাড়ার পরেও সীমা খান্না সিনিয়র ডেপুটি নির্বাচন কমিশনার মনীশ গর্গের মাধ্যমে ফাইল পাঠাতেন। অগাস্টে সঞ্জয় কুমার কমিশন ছেড়ে চলে যাওয়ার পর লিঙ্ক অফিসার হিসাবে আইটি বিভাগের দায়িত্ব সামলাচ্ছিলেন গর্গ।

Advertisement

বুধবার জারি করা নতুন নির্দেশ অনুযায়ী, আইটি বিভাগের ডিজি সীমা খান্না এবার থেকে সিনিয়র ডেপুটি নির্বাচন কমিশনার মনীশ গর্গের পরিবর্তে নবনিযুক্ত ডেপুটি নির্বাচন কমিশনার প্রকাশরাজ পুরোহিতের তত্ত্বাবধানে কাজ করবেন।  

২৮ জুলাই থেকে ৪ নভেম্বর পর্যন্ত সীমা খান্না কি ডেপুটি নির্বাচন কমিশনারের তত্ত্বাবধান ছাড়াই সরাসরি মুখ্য নির্বাচন কমিশনার এবং দুই নির্বাচন কমিশনারকে নিয়ে গঠিত কমিশনের কাছে রিপোর্ট করতেন? 

কমিশনের ব্যাখ্যা

এনিয়ে একটি ইংরেজি দৈনিকের রিপোর্টের পর নির্বাচন কমিশনের তরফে একটি বিবৃতি জারি করা হয়। সেখানে বলা হয়, দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তির পর নির্দেশ বাস্তবায়িত হয়নি। ফলে সঞ্জয় কুমার নির্বাচন কমিশন থেকে চলে যাওয়ার পরেও সীমা খান্না মনীশ গর্গের তত্ত্বাবধানেই কাজ করেছেন। এবার কয়েক দিন আগে ডেপুটি নির্বাচন কমিশনার হিসাবে যোগ দেওয়া প্রকাশরাজ পুরোহিতের অধীনে এবার থেকে তিনি কাজ করবেন।

সুপ্রিম কোর্টে হলফনামা

২৬ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্টে জমা দেওয়া হলফনামাতেও একই যুক্তি দিয়েছিল কমিশন। তাদের বক্তব্য ছিল, ২৮ জুলাইয়ের নির্দেশ অতিরিক্ত সচিব স্তরের আধিকারিক মনীশ গর্গ জারি করেছিলেন। কিন্তু ৩০ জুলাই দুই নির্বাচন কমিশনারের যৌথ নির্দেশের কারণে তা কখনও কার্যকর হয়নি। প্রশ্ন উঠছে, জুলাইয়ের নির্দেশ যদি কার্যকরই না হয়ে থাকে, তা হলে ৩ মাস পর নতুন করে নির্দেশ জারি করার প্রয়োজন হল কেন? এর উত্তর খুঁজতে গেলে পৌঁছতে হবে নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব সফটওয়্যার ECI NET বিতর্কে।

ECI NET বিতর্ক

চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি ইসিআই নেট চালু করে নির্বাচন কমিশন। প্রায় ১০০ কোটি ভোটারের জন্য তৈরি এই প্রযুক্তি ব্যবস্থার আওতায় ৪০টিরও বেশি অ্যাপ ও পোর্টালকে এক ছাতার তলায় আনা হয়। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের দাবি ছিল, আইন মেনেই এই ব্যবস্থা তৈরি করা হয়েছে। ওই ব্যবস্থাতেই কারচুপির অভিযোগ তুলেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। 

আইন কী বলছে?

জনপ্রতিনিধিত্ব আইন ১৯৫০ এবং ভোটার নিবন্ধন বিধি ১৯৬০ অনুযায়ী, ভোটার তালিকা তৈরির দায়িত্ব ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার বা ইআরও-র। সাধারণত মহকুমাশাসক বা সমমর্যাদার কোনও আধিকারিক এই দায়িত্ব পালন করেন। ভোটার তালিকা তৈরি, নাম অন্তর্ভুক্তি বা বাদ দেওয়া নিয়ে দাবি-আপত্তি শোনা এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা তাঁদেরই। যাতে কোনও নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা দফতরের হাতে ভোটার তালিকার সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ না থাকে। 
 

POST A COMMENT
Advertisement