কেতনকে প্রথমে পঙ্গু করার ছক, পরে খুনের প্ল্যান, লোহাগড় হত্যা মামলায় চাঞ্চল্যকর তথ্য

পুলিশের দাবি, অভিযুক্তদের লক্ষ্য ছিল এমনভাবে অপরাধ ঘটানো, যাতে সেটি পুরোপুরি দুর্ঘটনা বলে মনে হয়। এবং কোনও প্রমাণ না থাকে। তদন্তে জানা গিয়েছে, সিয়া গুগলে এমন ধীরগতির বিষ সম্পর্কে খোঁজ করেছিলেন, যা সহজে শনাক্ত করা যায় না।

Advertisement
কেতনকে প্রথমে পঙ্গু করার ছক, পরে খুনের প্ল্যান, লোহাগড় হত্যা মামলায় চাঞ্চল্যকর তথ্যপুনে হত্যা মামলা।-ফাইল ছবি
হাইলাইটস
  • পুনের বহুল আলোচিত কেতন আগরওয়াল হত্যা মামলার তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য।
  • পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত সিয়া গোয়েল ও চেতন চৌধুরীর প্রথম পরিকল্পনা ছিল না কেতনকে খুন করা।

পুনের বহুল আলোচিত কেতন আগরওয়াল হত্যা মামলার তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত সিয়া গোয়েল ও চেতন চৌধুরীর প্রথম পরিকল্পনা ছিল না কেতনকে খুন করা। বরং একটি সাজানো দুর্ঘটনার মাধ্যমে তাঁকে চিরতরে পঙ্গু করে দেওয়ার ছক কষেছিল তারা।

তদন্তকারীদের দাবি, এমন একটি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটানোর পরিকল্পনা ছিল, যাতে কেতনের হাত বা পা গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। উদ্দেশ্য ছিল ঘটনাটিকে নিছক দুর্ঘটনা বলে তুলে ধরা, যাতে কারও মনে সন্দেহ না জাগে। পুলিশের মতে, সিয়ার ধারণা ছিল, কেতন স্থায়ীভাবে পঙ্গু হয়ে গেলে পরিবারের সদস্যদের বিয়ে ভেঙে দিতে রাজি করানো অনেক সহজ হবে।

তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, বালি ভ্রমণ এড়াতে সিয়া ও চেতন নানা অজুহাত খুঁজছিল। সেই সময়ই তারা দুর্ঘটনা বা ডাকাতির নাটক সাজিয়ে কেতনকে গুরুতর জখম করার পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করে। তবে পরে সেই পরিকল্পনা বদলে যায় এবং তারা হত্যার সিদ্ধান্ত নেয়।

পুলিশের দাবি, অভিযুক্তদের লক্ষ্য ছিল এমনভাবে অপরাধ ঘটানো, যাতে সেটি পুরোপুরি দুর্ঘটনা বলে মনে হয়। এবং কোনও প্রমাণ না থাকে। তদন্তে জানা গিয়েছে, সিয়া গুগলে এমন ধীরগতির বিষ সম্পর্কে খোঁজ করেছিলেন, যা সহজে শনাক্ত করা যায় না।

তদন্তে আরও উঠে এসেছে, পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য সিয়া ও চেতন লোনাভালার টাইগার পয়েন্ট, ভিসাপুর ফোর্ট-সহ একাধিক জায়গা ঘুরে দেখেছিল। শেষ পর্যন্ত তারা লোহাগড় দুর্গকেই অপরাধের জন্য উপযুক্ত স্থান হিসেবে বেছে নেয়।

পুলিশের বক্তব্য, ৩১ মে-র আগেই কেতনকে লোহাগড় দুর্গ থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়ার পরিকল্পনা তৈরি হয়েছিল। তবে ওই দিন সিয়া ও কেতন দুর্গে গেলেও সিয়া শুধু এলাকা পর্যবেক্ষণ করেন এবং পরিস্থিতি বুঝে নেন। সুযোগ থাকলেও তিনি সেদিন কোনও ঝুঁকি নেননি। পরে চেতন চৌধুরীর সঙ্গে আলোচনা করে লোহাগড় দুর্গকেই চূড়ান্তভাবে হত্যার স্থান হিসেবে নির্ধারণ করা হয়।

Advertisement

এরপর ১৪ জুন ফের লোহাগড় দুর্গে যান সিয়া ও কেতন। তদন্তকারীদের দাবি, সেদিনও পরিকল্পনা কার্যকর করতে পারেননি সিয়া। পরে তিনি 'সাপ দেখেছি' বলে অজুহাত দেন।

এদিকে, ১৯ জুন মহাবালেশ্বরের একটি রিসর্টে সিয়ার জন্মদিন উদযাপনের পরিকল্পনা করেছিলেন কেতন। পুলিশের দাবি, সেই সফর এড়াতেই সিয়া ও চেতন ১৮ জুন আবার লোহাগড়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, ১৪ জুন থেকে ১৮ জুনের মধ্যে পুনের বেভারলি হিলস এলাকায় এক ব্যক্তিকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়ার মহড়াও একাধিকবার দিয়েছিল সিয়া গোয়েল ও চেতন চৌধুরী। তদন্তকারীদের মতে, সেই মহড়াই ছিল কেতনকে হত্যার পরিকল্পনার প্রস্তুতির অংশ।

 

POST A COMMENT
Advertisement