পুনে হত্যা মামলা।-ফাইল ছবিপুনের বহুল আলোচিত কেতন আগরওয়াল হত্যা মামলার তদন্তে নতুন মোড়। পুলিশের সন্দেহ, অভিযুক্ত সিয়া গোয়েল এবং তাঁর প্রেমিক চেতন চৌধুরী হত্যাকাণ্ডের কয়েক মাস আগেই গোপনে বিয়ে করেছিলেন। তদন্তে উদ্ধার হওয়া একাধিক চ্যাট ও ডিজিটাল তথ্যের ভিত্তিতে এই সম্ভাবনা সামনে এসেছে। এখন পুলিশ খতিয়ে দেখছে, তাঁদের বিয়ে আইনিভাবে নিবন্ধিত হয়েছিল কি না।
পুনে গ্রামীণ পুলিশের দাবি, ২০ বছর বয়সি সিয়া গোয়েল এবং ২২ বছর বয়সি চেতন চৌধুরী ২৫ বছর বয়সি কেতন আগরওয়ালকে হত্যার অভিযোগে গ্রেফতার। অভিযোগ, গত ১৮ জুন পুনে জেলার লোহগড় দুর্গে ঘুরতে নিয়ে গিয়ে একটি খাড়া পাহাড়ের ধাক্কা দিয়ে কেতনকে নিচে ফেলে দেওয়া হয়। চলতি বছরের নভেম্বরে কেতন ও সিয়ার বিয়ে হওয়ার কথা ছিল।
চ্যাটে মিলল গোপন বিয়ের ইঙ্গিত
তদন্তের অংশ হিসেবে পুলিশ অভিযুক্তদের মোবাইল ফোন, মেসেজ এবং অন্যান্য ডিজিটাল তথ্য খতিয়ে দেখছে। তদন্তকারীদের দাবি, সিয়া ও চেতনের মধ্যে হওয়া কিছু ব্যক্তিগত চ্যাটে এমন ইঙ্গিত মিলেছে যে তাঁরা নিজেদের স্বামী-স্ত্রী হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এছাড়াও, তাঁদের সম্পর্ককে বৈবাহিক বলে বোঝায়, এমন আরও কিছু তথ্যও তদন্তকারীদের হাতে এসেছে।
তবে এখনও পর্যন্ত পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি যে তাঁদের বিয়ে সত্যিই হয়েছিল। বিষয়টি যাচাই করতে বিবাহ নিবন্ধনের নথি-সহ সংশ্লিষ্ট সরকারি রেকর্ড পরীক্ষা করা হচ্ছে।
কেতনই ছিল সম্পর্কের 'বাধা'?
তদন্তকারীদের প্রাথমিক ধারণা, সিয়া ও চেতনের সম্পর্কের পথে সবচেয়ে বড় বাধা ছিলেন কেতন আগরওয়াল। সেই কারণেই তাঁকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয় বলে পুলিশের অভিযোগ।
পুলিশের দাবি, হত্যাকাণ্ডের আগে অভিযুক্তরা পরিকল্পনা করেই পুরো ঘটনাটি ঘটায় এবং অপরাধ সংঘটনের আগে একাধিকবার মহড়াও দেয়। বর্তমানে সিয়া গোয়েল ও চেতন চৌধুরী বিচারবিভাগীয় হেফাজতে রয়েছেন। ডিজিটাল প্রমাণ, ফরেনসিক রিপোর্ট এবং অন্যান্য তথ্যের ভিত্তিতে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে পুলিশ।
তবে গোপনে বিয়ের দাবি এখনও তদন্তাধীন। আদালতে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত এই অভিযোগকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে ধরা হচ্ছে না।