সিকিমে স্নো ফল প্রকৃতির খামখেয়ালিপনা চলছে সিকিমে। একদিকে ভয়ঙ্কর তুষারপাত, অন্যদিকে দাবানল এবং জলসঙ্কট। পূর্ব এবং উত্তর সিকিমে নাগাড়ে চলা তুষারপাতের জেরে প্রায় ৩ হাজার পর্যটক আটকে পড়েছিলেন ছাঙ্গু লেক এবং ১৫ মাইল এলাকা। ঘটনায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছিলেন পরিজনেরা। তবে সিকিম প্রশাসন জানাচ্ছে, প্রত্যেক পর্যটককেই নিরাপদে উদ্ধার করে আনা সম্ভব হয়েছে।
মাধ্যমিক তথা দশম শ্রেণীর একাধিক বোর্ডের পরীক্ষা শেষ হতে না হতেই পর্যটকরা পাড়ি দিয়েছেন সিকিম। সম্প্রতি ভরা মরশুমে পর্যটকদের ঢল নেমেছে নাথু লা, ছাঙ্গুর মতো স্পটে। সবুজ প্রকৃতি আর সাদা বরফে মোড়া পাহাড় দেখতে সিকিমে গিজগিজ করছে ভ্রমণপিপাসুরা। তার মাঝেই পূর্ব সিকিমে শুরু হয় তুষারপাত। যা মঙ্গলবার আরও বাড়ে। নাথু লা থেকে ফেরার সময় শেরথাংয়ে স্নো ফলে আটকে পড়েন বহু মানুষ। জানা গিয়েছে, ১৫ মাইল এবং ছাঙ্গুর মাঝে আটকে পড়েছিল টুরিস্টদের ৫৪১টি গাড়ি। যাতে ছিলেন ২ হাজার ৭৩৬ জন।
কয়েক মিনিটের মধ্যে রাস্তা ঢেকে যায় সাদা, পুরু বরফে। গাড়ি পিছলে যেতে শুরু করে। ফলে চালকরা আর ঝুঁকি নিয়ে এগোতে পারেননি। দুর্ঘটনার আশঙ্কায় যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেয় প্রশাসন। বুধবার সকালে তুষার সরিয়ে পর্যটকদের ফেরানোর ব্যবস্থা করা হয়।
প্রাথমিক ভাবে আটকে পড়া ৪৬ জনকে সেনা উদ্ধার করে। রাতভর তাদের রাখা হয় সেনা ছাউনিতে। উদ্ধার অভিযানের নাম দেওয়া হয় 'অপারেশন হিমরাহত'। এরপর মঙ্গলবার থেকে বুধবার সকালের মধ্যে সিকিম পুলিশ, প্রশাসন, পর্যটন বিভাগের সাহায্য বাকি সমস্ত আটকে পড়া টুরিস্টকেই উদ্ধার করে আনা সম্ভব হয়েছে বলে খবর। রাস্তা থেকে বরফ সরিয়ে গাড়ি চলাচলের উপযুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। আটকে থাকা গাড়িগুলিকেও গ্যাংটকে ফেরানো হচ্ছে।
উল্লেখ্য, জানুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহের পরেই উত্তর ও পূর্ব সিকিমে সে ভাবে স্নোফল হয়নি। পশ্চিমী ঝঞ্ঝার দাপটও এবার তেমন একটা ছিল না সিকিমে। জেরেই সিকিম, দার্জিলিং এবং কালিম্পং এখনও বৃষ্টিহীন। তবে স্নো ফলে মুগ্ধ টুরিস্টরা। তবে বুধবার থেকে টুরিস্ট স্পটগুলিতে আর তেমন বৃষ্টি বা তুষারপাতের সম্ভাবনা নেই। ধীরে ধীরে পরিষ্কার হবে আবহাওয়া। যদিও মঙ্গনে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে।
এদিকে, পশ্চিম সিকিমে দাবানল দেখা যাচ্ছে। আবার গ্যাংটক এলাকা জলসঙ্কটে ভুগছে। ৯১% বৃষ্টির ঘাটতির কারণে এই সমস্যা বলে জানা যাচ্ছে।