এতদিন যে সব ধরনের রুপো আমদানি ‘ফ্রি’ ক্যাটেগরিতে ছিল, তার বেশ কিছু অংশকে এবার ‘রেস্ট্রিক্টেড’ বা সীমাবদ্ধ তালিকায় আনা হয়েছে। বিদেশ থেকে রুপো আমদানিতে লাগাম টানল কেন্দ্র। শনিবার, ১৬ মে থেকে লাগু নয়া নিয়ম। কেন্দ্রীয় বাণিজ্য মন্ত্রকের অধীনস্থ ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ফরেন ট্রেড (DGFT) এমনটাই জানিয়েছে। ফলে, এতদিন যে সব ধরনের রুপো আমদানি ‘ফ্রি’ ক্যাটেগরিতে ছিল, তার বেশ কিছু অংশকে এবার ‘রেস্ট্রিক্টেড’ তালিকায় আনা হয়েছে। এখন থেকে শুধুমাত্র নির্দিষ্ট শর্ত মেনেই দেশে রুপো আমদানি করা যাবে।
বিশেষত ৯৯.৯ শতাংশ বিশুদ্ধতার রুপোর বার আমদানিতে বড় বদল আনা হয়েছে। এই ধরনের সিলভার বার এতদিন সহজেই আমদানি করা যেত। কিন্তু নতুন বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, তা আর সম্ভব হবে না। কেন্দ্র জানিয়েছে, Chapter 71 of ITC (HS) 2022-র অধীনে আমদানি নীতিতে সংশোধন আনা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় সরকারের দাবি, রুপো আমদানির ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও নিয়ন্ত্রণ বাড়াতেই এই পদক্ষেপ। শুধু ৯৯.৯ শতাংশ বিশুদ্ধতার রুপো নয়, অন্যান্য সিলভার বারকেও ‘রেস্ট্রিক্টেড’ তালিকায় আনা হয়েছে। অর্থাৎ এখন থেকে এই ধরনের রুপো আমদানি করতে গেলে নির্দিষ্ট শর্ত মানতে হবে।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, আমদানির ক্ষেত্রে Chapter 71-এর Policy Condition No. 7 কার্যকর হবে। ফলে ব্যবসায়ী বা আমদানিকারীরা আর আগের মতো সরাসরি রুপো আনতে পারবেন না। সরকারের অনুমোদন এবং নির্দিষ্ট নথিপত্রের ভিত্তিতেই আমদানির অনুমতি মিলবে।
বাণিজ্য মহলের একাংশের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে রুপোর দামের ওঠানামা এবং বেআইনি আমদানি রুখতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গত ১-২ বছরে দেশে রুপোর চাহিদা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। গয়না শিল্প থেকে শুরু করে ইলেকট্রনিক্স ও শিল্পক্ষেত্রে রুপোর ব্যবহার বাড়ছে। সেই কারণেই আমদানির উপর কড়া নিয়ন্ত্রণে জোর দিচ্ছে কেন্দ্র।
বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, নতুন নিয়মের প্রভাবে স্বল্পমেয়াদে দেশে রুপোর দামে কিছুটা প্রভাব পড়তে পারে। আমদানির প্রক্রিয়া জটিল হওয়ায় বাজারে সরবরাহে সাময়িক চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তবে দীর্ঘমেয়াদে এই পদক্ষেপ আমদানি ব্যবস্থাকে আরও নিয়ন্ত্রিত ও স্বচ্ছ করে তুলবে বলেই মনে করা হচ্ছে।