
পুনের তরুণ ব্যবসায়ী কেতন আগরওয়াল হত্যা মামলায় এবার প্রতিক্রিয়া দিলেন প্রধান অভিযুক্ত সিয়া গোয়েলের বাবা প্রবীণ গোয়েল। এক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, যদি আদালতে সিয়ার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তবে তার কঠোরতম শাস্তিই হওয়া উচিত। এমনকি তিনি বলেন, প্রয়োজনে মেয়েকে সেই একই দুর্গ থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া হোক, যেখানে কেতনের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে।
১৮ জুন পুনের কাছে লোহাগড় দুর্গে খাদে পড়ে মৃত্যু হয় ২৫ বছর বয়সী রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী কেতন আগরওয়ালের। তদন্তে পুলিশের দাবি, এটি দুর্ঘটনা নয়, বরং পূর্বপরিকল্পিত খুন। অভিযোগ, কেতনের বাগদত্তা সিয়া গোয়েল এবং তাঁর কথিত প্রেমিক চেতন চৌধুরী মিলে কেতনকে খাদে ঠেলে ফেলে হত্যা করেন। বর্তমানে দু'জনই বিচারবিভাগীয় হেফাজতে রয়েছেন।
সাক্ষাৎকারে প্রবীণ গোয়েল বলেন, 'আমি এখনও বিশ্বাস করতে পারছি না, আমার মেয়ে এমন কাজ করতে পারে। সে কোনও দিন আমার কাছে মিথ্যা বলেনি। সবসময় সঠিক পথেই চলেছে।' তিনি জানান, মেয়ের গ্রেফতারের খবর পাওয়ার পর এতটাই ভেঙে পড়েছিলেন যে তাঁকে আইসিইউতে ভর্তি হতে হয়েছিল।
তবে একজন বাবা হিসেবে আবেগের কথা স্বীকার করলেও তিনি স্পষ্ট করে দেন, ন্যায়বিচারের পথে কোনও বাধা হওয়া উচিত নয়। তাঁর কথায়, 'যদি সিয়া দোষী প্রমাণিত হয়, তাহলে আদালতের উচিত কঠোরতম শাস্তি দেওয়া। একজন বাবা হিসেবে আমি এর বেশি কিছু বলতে পারি না।'
এরপর আরও কড়া মন্তব্য করে তিনি বলেন, 'যদি ও দোষী সাব্যস্ত হয়, তাহলে ওকে সেই একই দুর্গে নিয়ে গিয়ে একই জায়গা থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দাও। হ্যাঁ, প্রয়োজন হলে মৃত্যুদণ্ডও দেওয়া হোক।'
অন্যদিকে, সিয়ার মা পূজা গোয়েলও মেয়ের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ মানতে নারাজ। তিনি দাবি করেন, কেতন ও সিয়ার সম্পর্ক স্বাভাবিকই ছিল। দু'জন নিয়মিত ভিডিও কলে কথা বলতেন, একসঙ্গে সময় কাটাতেন এবং কেতন তাঁদের বাড়িতেও যাতায়াত করতেন। তাঁর কথায়, 'ওদের সম্পর্কের মধ্যে কোনও অশান্তির ইঙ্গিত আমরা কখনও পাইনি।'
পুলিশের দাবি, সিয়া কেতনকে বিয়ে করতে চাইছিলেন না। তবে পরিবারের সম্মানের কথা ভেবে বাগদান ভাঙার সাহস পাননি। সেই কারণেই প্রেমিক চেতন চৌধুরীর সঙ্গে মিলে কেতনকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করেন। তদন্তে আরও অভিযোগ, ঘটনার আগেও একবার কেতনকে হত্যার চেষ্টা হয়েছিল, কিন্তু তা ব্যর্থ হয়। পরে ১৮ জুন লোহাগড় দুর্গে নিয়ে গিয়ে তাঁকে খাদে ঠেলে ফেলে দেওয়া হয়।
তবে সিয়ার পরিবার এই অভিযোগ মানতে নারাজ। তাঁদের দাবি, সিয়া বিয়ে নিয়ে যথেষ্ট উৎসাহী ছিলেন। এমনকি বালিতে প্রাক্-বিবাহ ভ্রমণের প্রস্তুতির জন্য পরিবার প্রায় ৫০ হাজার টাকা খরচ করেছিল। পূজা গোয়েলের প্রশ্ন, 'যদি ও বিয়ে করতে না চাইত, তাহলে এত প্রস্তুতি কেন নিত?'
এদিকে কেতনের বাবা বিশাল আগরওয়ালও অভিযোগ করেছেন, সিয়ার পরিবার তাঁদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করেছিল। যদিও সেই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন প্রবীণ গোয়েল। তাঁর দাবি, মেয়ের অন্য কোনও সম্পর্ক ছিল বা বিয়ে নিয়ে আপত্তি ছিল, এমন কোনও বিষয় তাঁদের জানা ছিল না।
কেতন হত্যা মামলার তদন্ত এখনও চলছে। ফরেনসিক রিপোর্ট, ডিজিটাল তথ্যপ্রমাণ, মোবাইল ফোনের রেকর্ড এবং অন্যান্য সাক্ষ্যপ্রমাণ খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। পাশাপাশি এই ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত ছিলেন কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।