সোনম ওয়াংচুকলাদাখের ক্লাইমেট অ্যাক্টিভিস্ট সোনাম ওয়াংচুককে অবিলম্বে মুক্তি দিতে চলছে সরকার। তাঁর ডিটেনশন প্রত্যাহার করল কেন্দ্রীয় সরকার।
প্রসঙ্গত, লাদাখের অশান্তির জন্য সোনমের বিরদ্ধে জাতীয় নিরাপত্তা আইন (NSA) জারি করা হয়েছিল। তাঁকে রাখা হয়েছিল ডিটেনশনে। আর সেই NSA প্রত্যাহার করল কেন্দ্রে। যার ফলে দ্রুত তিনি মুক্তির আকাশ দেখবেন বলে আশা করা যায়।
কেন বন্দি করা হয়েছিল?
লাদাখ অশান্তিতে মদত দেওয়ার অভিযোগ ছিল সোনমের বিরুদ্ধে। তখনই তাঁকে আটক করা হয়। তখন থেকেই তিনি জেলে ছিলেন।
তাঁর উপর জাতীয় নিরাপত্তা আইন লাগু করা হয়েছিল। তিনি যোধপুর জেলে আটক ছিলেন। যদিও কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে সোনমের উপর থেকে সেই আইন তুলে নেওয়া হয়েছে। যার ফলে তিনি মুক্তি পাবেন বলে জানা যাচ্ছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক জানিয়েছে, আইন শৃঙ্খলার পরিস্থিতি বজায় রাখতার জন্য লেহ-এর জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশ মতো সোনম ওয়াংচুককে আটক করা হয়েছিল। তিনি ইতিমধ্যেই ৬ মাস বন্দিদশা কাটিয়ে ফেলেছেন। তাই পরিস্থিতি বিবেচনা করার পরই সোনমকে ছাড়া হচ্ছে।
পাশাপাশি অমিত শাহের মন্ত্রকের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে লাদাখের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখতে চায় সরকার। আর সেই দিকটি মাথায় রাখার পরই একাধিক দিক বিবেচনা করে সোনমকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ সরকার বুঝিয়ে দিয়েছেন যে এটা কোনও হঠকারী সিদ্ধান্ত নয়।
NSA নিয়ম কী?
জাতীয় সুরক্ষা আইন বা ন্যাশনাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট জাতীয় স্বার্থে ব্যবহার করা হয়। এই আইনের অধীনে যে কোনও ব্যক্তিকে ১২ মাস পর্যন্ত আটকে রাখতে পারে সরকার। কিন্তু সরকার যদি চায়, তাহলে এই সময়ের আগেই NSA তুলে নিতে পারে। আর সোনমের ক্ষেত্রেও এমনটাই করা হল। যার ফলে তাঁর দ্রুত মুক্তির আশা দেখছেন পরিবার-পরিজন এবং ভক্তেরা।
কী হয়েছিল?
দীর্ঘদিন ধরে লাদাখের পরিবেশ নিয়ে সরব ছিলেন সোনম। কিন্তু গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে লাদাখকে রাজ্যের মর্যাদা প্রদান এবং ষষ্ঠ তফসিলের সাংবিধানিক সুরক্ষার দাবিতে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। হিংস্র আন্দোলন শুরু হয়। এই সময়ই সোনমকে ন্যাশনাল সিকিউরিটি অ্যাক্টের আওতায় আনা হয়। তবে এখন তাঁর উপর থেকে প্রত্যাহার করা হল জাতীয় সুরক্ষা আইন। তাঁকে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। আর তাতেই খুশির হাওয়া উঠেছে লাদাখে।