Sonam Wangchuk: 'আর বড়জোর ২ দিন বাঁচবেন,' সোনমকে জোর করে খাওয়ানো হোক, হাইকোর্টে মামলা

১৮ দিন ধরে অনশন চালিয়ে যাওয়া সমাজকর্মী ও শিক্ষাসংস্কারক সোনম ওয়াংচুককে দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করে জোর করে তরল খাদ্য দেওয়ার নির্দেশ চেয়ে দিল্লি হাইকোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের। ২ দিনের মধ্যে খাবার না খেলে তাঁর প্রাণসংশয়ের আশঙ্কা।

Advertisement
 'আর বড়জোর ২ দিন বাঁচবেন,' সোনমকে জোর করে খাওয়ানো হোক, হাইকোর্টে মামলাঅনশনরত সোনম ওয়াংচুক
হাইলাইটস
  • আর বড়জোর ২ দিন বাঁচবেন
  • অবিলম্বে খাবার দিতে হবে সোনমকে
  • দিল্লি হাইকোর্টে দায়ের হল মামলা

টানা ১৮ দিন ধরে অনশন চালিয়ে যাওয়া সমাজকর্মী ও শিক্ষাসংস্কারক সোনম ওয়াংচুককে দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করে জোর করে তরল খাদ্য দেওয়ার নির্দেশ চেয়ে দিল্লি হাইকোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা (PIL) দায়ের করা হয়েছে। মামলায় দাবি করা হয়েছে, অবিলম্বে চিকিৎসা না হলে আগামী দু'দিনের বেশি দেহে প্রাণ না-ও থাকতে পারে সোনমের। তাঁর সমর্থনে একদিনের গণ অনশন কর্মসূচির ডাক দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি। 

'থ্রি ইডিয়টস' ছবির জনপ্রিয় চরিত্র ফুংসুখ ওয়াংড়ুর অনুপ্রেরণা হিসেবে পরিচিত লাদাখের শিক্ষাসংস্কারক সোনম ওয়াংচুক বর্তমানে দিল্লির যন্তর মন্তরে অনির্দিষ্টকালের অনশনে বসেছেন। ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)-র ডাকে শুরু হওয়া এই আন্দোলনের মূল দাবি, NEET-UG প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ।

আইনজীবী ও সমাজকর্মী রাকেশ কুমার সাইনির দায়ের করা এই জনস্বার্থ মামলায় বলা হয়েছে, সোনম ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হচ্ছে। তিনি যদি অনশন চালিয়ে যান, তাহলে আগামী দু'দিনের মধ্যেই তাঁর মৃত্যু হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে কেন্দ্র ও দিল্লি সরকারকে নির্দেশ দিয়ে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করানো এবং শরীরের প্রয়োজনীয় পুষ্টি, ভিটামিন ও খনিজ উপাদান তরল খাদ্যের মাধ্যমে জোর করে দেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে।

আবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, সোনম ওয়াংচুকের মৃত্যু হলে তা দেশ ও বিশ্বের কাছে অত্যন্ত লজ্জাজনক ঘটনা হবে। তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় দ্রুত চিকিৎসা করানোই একমাত্র উপায় বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

সর্বশেষ স্বাস্থ্য আপডেট অনুযায়ী, গত ২৮ জুন অনশন শুরু করার পর থেকে সোনম ওয়াংচুকের ওজন প্রায় সাড়ে ৮ কেজি কমেছে। তাঁর রক্তচাপ নেমে এসেছে ১০৯/৭০-এ। ইতিমধ্যেই শিক্ষাবিদ, বিরোধী রাজনৈতিক নেতাদের পাশাপাশি চলচ্চিত্র জগতের একাধিক ব্যক্তিত্ব তাঁর আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন।

জনস্বার্থ মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়েছে, সরকার সোনম ওয়াংচুকের সঙ্গে এমন আচরণ করছে যেন তিনি কোনও 'কুখ্যাত অপরাধী', 'জঙ্গি' বা 'দেশদ্রোহী'। যদিও তাঁর অনশন নিয়ে এখনও পর্যন্ত কেন্দ্রের তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

Advertisement

কেন অনশনে সোনম ওয়াংচুক?
NEET-UG প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার, প্রশ্নফাঁসের জেরে আত্মহত্যা করেছেন বলে দাবি করা পড়ুয়াদের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণ এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে এই আন্দোলনের ডাক দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)। কয়েক মাস আগে ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক আন্দোলন হিসেবে এই সংগঠনের সূচনা করেন অভিজিৎ দিপকে।

গত কয়েক দিনে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া ছবিতে দেখা গিয়েছে, অত্যন্ত দুর্বল অবস্থায় সাদা গদির উপর শুয়ে রয়েছেন সোনম ওয়াংচুক। চিকিৎসকরা নিয়মিত তাঁর শারীরিক অবস্থার উপর নজর রাখছেন। আন্দোলনের শুরু থেকেই তাঁর পাশে রয়েছেন CJP-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে।

তাঁর দাবি, বারবার অনশন ভাঙার অনুরোধ জানানো হলেও তাতে সাড়া দেননি সোনম। BBC-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, 'বসতে বা দাঁড়াতে গেলেই ওঁর মাথা ঘুরছে। এমনকী বাথরুম পর্যন্ত হেঁটে যেতেও কষ্ট হচ্ছে। তিনি প্রবল যন্ত্রণার মধ্যে রয়েছেন।'

গত সপ্তাহে এক্স-এ পোস্ট করা একটি ভিডিও বার্তায় সোনম ওয়াংচুক নিজেকে 'আধুনিক গান্ধী' বা 'নায়ক' বলতে অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, 'অনেকে আমাকে একবিংশ শতাব্দীর গান্ধী বা আধুনিক গান্ধী বলেন। কেউ কেউ নায়কও বলেন। কিন্তু আমি শুধু একজন সাধারণ নাগরিক, যে নিজের দায়িত্ব পালন করার চেষ্টা করেছে।' পাশাপাশি তিনি আন্দোলনের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানান।

এদিকে, ককরোচ জনতা পার্টি আগামী ২০ জুলাই, সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশনের প্রথম দিনে সংসদ চলো প্রতিবাদ মিছিলের ঘোষণা করেছে। দিল্লি হাইকোর্ট কবে এই জনস্বার্থ মামলার শুনানি করবে, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহল এবং আন্দোলনকারীদের।

 

POST A COMMENT
Advertisement