দিল্লিতে একটি অনুষ্ঠানে প্রয়াত মনমোহন সিংয়ের স্ত্রী গুরুশরণ কৌরের সঙ্গে সনিয়া গান্ধী-- ছবি: PTIসংসদে বিশেষ অধিবেশন এবং মহিলা সংরক্ষণ বিল নিয়ে যখন দেশজুড়ে চর্চা তুঙ্গে, ঠিক তখনই কেন্দ্রীয় সরকারের অভিসন্ধি নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন কংগ্রেস সংসদীয় দলের সভানেত্রী সনিয়া গান্ধী। তাঁর মতে, সরকারের এই তৎপরতার আসল উদ্দেশ্য মহিলা সংরক্ষণ নয়, বরং ডিলিমিটেশন বা লোকসভা কেন্দ্রের পুনর্বিন্যাস। একটি জাতীয় সংবাদপত্রে প্রকাশিত নিবন্ধে তিনি এই প্রক্রিয়াকে সংবিধানের ওপর আক্রমণ এবং অত্যন্ত বিপজ্জনক বলে অভিহিত করেছেন।
কেবল অঙ্কের হিসেব মেনে করলে চলবে না
সনিয়া গান্ধীর স্পষ্ট বক্তব্য, লোকসভার শক্তি বৃদ্ধির জন্য যদি ডিলিমিটেশন করতেই হয়, তবে তা কেবল অঙ্কের হিসেব মেনে করলে চলবে না। এতে রাজনৈতিক এবং আঞ্চলিক সাম্য থাকা বাঞ্ছনীয়। বিশেষ করে দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলি, যারা জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে সফল হয়েছে, তারা আসন সংখ্যা কমে যাওয়ার ভয়ে শঙ্কিত। সনিয়ার আশঙ্কা, কেন্দ্রের এই পদক্ষেপে যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো ভেঙে পড়তে পারে।
একটি সর্বভারতীয় পত্রিকায় নিবন্ধে সনিয়া অভিযোগ করেছেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আসল উদ্দেশ্য হল, কাস্ট সেন্সাসকে আরও দীর্ঘায়িত করা এবং বেলাইন করা। তিনি মনে করিয়ে দেন, ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে যখন ‘নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম’ পাশ হয়েছিল, তখন সংবিধানের ৩৩৪-এ অনুচ্ছেদ ধারা যুক্ত করা হয়েছিল। যেখানে বলা ছিল, পরবর্তী জনগণনা এবং ডিলিমিটেশনের পরেই মহিলা সংরক্ষণ কার্যকর হবে।
'ইউ-টার্ন নিতে কেন ৩০ মাস সময় লাগল?'
কংগ্রেস নেত্রীর প্রশ্ন, 'বিরোধী পক্ষ যখন ২০২৪ সাল থেকেই এই সংরক্ষণ চালুর দাবি তুলেছিল, তখন সরকার কেন শোনেনি? এখন কেন হঠাৎ অনুচ্ছেদ ৩৩৪-এ সংশোধন করে ২০২৯ থেকে এটি চালুর কথা বলা হচ্ছে? প্রধানমন্ত্রীর এই ইউ-টার্ন নিতে কেন ৩০ মাস সময় লাগল?'
তামিলনাড়ু এবং পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচন যখন দোরগোড়ায়, ঠিক সেই সময়ে এই বিশেষ অধিবেশন ডাকার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সনিয়া। তাঁর দাবি, বিরোধী পক্ষকে রক্ষণাত্মক অবস্থায় ঠেলে দিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা তুলতেই সরকার এই তাড়াহুড়ো করছে। প্রধানমন্ত্রীর স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, মোদীজি সত্য গোপন করে বিরোধী দলগুলোর ওপর বিল ‘বুলডোজ’ করার চেষ্টা করছেন।
সমর্থন জানিয়েছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী
সনিয়া গান্ধীর এই অবস্থানকে সমর্থন জানিয়েছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। তিনি এক্স হ্যান্ডেলে লিখেছেন, তড়িঘড়ি ডিলিমিটেশনের ফলে যে অসাম্য ও ঝুঁকি তৈরি হবে, তা নিয়ে সনিয়া গান্ধী সঠিকভাবেই সতর্ক করেছেন। ভারতের সংসদীয় ইতিহাসে ডিলিমিটেশন সব সময়ই একটি স্পর্শকাতর বিষয়। উত্তর ও দক্ষিণ ভারতের মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দীর্ঘদিনের। সনিয়া গান্ধীর এই কড়া সমালোচনা সেই বিতর্ককেই আবার উস্কে দিল।