সনিয়া গান্ধীর স্মৃতিকথা।১৯৯২ সালে অযোধ্যায় মসজিদ ধ্বংসের ঘটনা উঠে এল সনিয়া গান্ধীর লেখায়। নিজের স্মৃতিকথায় তাঁর বক্তব্য, টেলিভিশনের পর্দায় যখন অযোধ্যায় মসজিদ ভাঙার দৃশ্য দেখছিলেন, তখন তাঁর চোখে জল চলে এসেছিল। সেই সময় সনিয়ার মনে হয়েছিল, মহাত্মা গান্ধী, জওহরলাল নেহরু এবং তাঁদের সহযোগীরা যে ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র গড়ে তোলার চেষ্টা করেছিলেন, তা রক্ষা করতে এবার দীর্ঘ লড়াই চালাতে হবে।
স্মৃতিকথায় সনিয়া লিখেছেন,'উত্তর ভারতে পরিবর্তনের সেই সময়ে অযোধ্যার ওই মসজিদকে ঘিরে বিতর্ক ক্রমশ তীব্র হয়ে উঠছিল। দাবি করা হচ্ছিল, প্রাচীন হিন্দু মন্দিরের ধ্বংসাবশেষের উপর সেটি তৈরি হয়েছিল। কট্টরপন্থী হিন্দুত্ববাদী সংগঠন, দক্ষিণপন্থী জাতীয়তাবাদী গোষ্ঠী এবং রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে এই দাবি ক্রমশ জোরালো হচ্ছিল। এরপর ১৯৯২ সালের ডিসেম্বরে ওই আন্দোলনের সমর্থকরা, যাঁদের মধ্যে বিজেপি নেতারাও ছিলেন, মসজিদটি ধ্বংস করেন'।
ব্যর্থতা স্বীকার সনিয়ার
বিজেপি এবং হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির উত্থানের পিছনে নিজেদের দলের ব্যর্থতার কথাও স্বীকার করেছেন সনিয়া। তাঁর কথায়,'আমার মনে হয়, অনেক ক্ষেত্রেই আমরা অতিরিক্ত আত্মতুষ্টিতে ভুগেছি। আমাদের মনোভাবে ঢিলেমি ছিল'।
জরুরি অবস্থা নিয়েও মত সনিয়ার
সনিয়ার স্মৃতিকথার নাম 'বিলংগিং: আ জার্নি অফ লভ'। সেখানে জরুরি অবস্থা জারির সিদ্ধান্তকে ভুল বলে মত দিয়েছেন কংগ্রেস নেত্রী। তাঁর অভিমত, জরুরি অবস্থা জারি করা ছিল একটি ভুল সিদ্ধান্ত। তাঁর ধারণা, পরবর্তী সময়ে শাশুড়ি তথা তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীও তা উপলব্ধি করেছিলেন।
পরিবারে মতানৈক্যের দাবি
জরুরি অবস্থা জারির সিদ্ধান্ত পরিবারেও মতের অমিল তৈরি করেছিল বলে দাবি করেছেন সনিয়া। কংগ্রেস নেত্রীর বক্তব্য, তাঁর স্বামী রাজীব গান্ধী মাকে পরবর্তী নির্বাচন পর্যন্ত অপেক্ষা করার পরামর্শ দিয়েছিলেন। সেখানে জরুরি অবস্থা জারির পক্ষে সওয়াল করেছিলেন সঞ্জয় গান্ধী। সে সময় সঞ্জয়ের হাতে মন্ত্রিসভা বা সরকারের কোনও পদ ছিল না। তা সত্ত্বেও ইন্দিরা গান্ধীর উপর তাঁর প্রভাব ছিল। তখন দেশের দ্বিতীয় সর্বাধিক ক্ষমতাশালী ব্যক্তি হিসেবে দেখা হত সঞ্জয়কে। সনিয়ার দাবি, এই পরিস্থিতি পরিবারের মধ্যেও টানাপড়েন তৈরি করেছিল।
কার কথায় এমার্জেন্সি
সনিয়া জানিয়েছেন,'এক পারিবারিক নৈশভোজের আসরেই জরুরি অবস্থা জারির বিষয়ে ইন্দিরাকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে চাপ দিয়েছিলেন সঞ্জয়। বিরোধীদের প্রসঙ্গ তুলে তিনি মাকে বলেছিলেন, ওদের থামাতেই হবে। রাজীব মায়ের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু ইন্দিরা তাঁর কথা শুনতে চাননি'।
সেই সঙ্গে তিনি লিখেছেন,'সঞ্জয় গান্ধীকে নিয়ন্ত্রণে রাখা গেলে জরুরি অবস্থা জারির পর যে বিপুল ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল, তার অধিকাংশই এড়ানো সম্ভব হত'।