
উত্তর প্রদেশের সুলতানপুর জেলায় হঠাৎ ঝড় ও ভারী বৃষ্টিতে ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে এসেছে।
জেলার বালদিরাই, হালিয়াপুর, অখণ্ড নগর, বান্ধুয়া কালা ও কুড়ওয়ারসহ একাধিক এলাকা প্রবল ঝড়-বৃষ্টির কবলে পড়ে। ঝোড়ো হাওয়ায় গাছ উপড়ে পড়ে, ঘরবাড়ি ভেঙে যায় এবং একাধিক দুর্ঘটনা ঘটে। মৃতদের মধ্যে রয়েছেন কুড়ওয়ারেরবুধবারের এই দুর্যোগে দুই শিশুসহ অন্তত ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আরও ২০ জনের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে। বাসিন্দা ২০ বছর বয়সী মহেন্দ্র তিওয়ারি। একটি বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে তাঁর উপর পড়লে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়। জানা গেছে, বোনের বিয়ের জন্য মাত্র ১০ দিন আগে তিনি বাড়ি ফিরেছিলেন।
বালদিরাই এলাকায় প্রাণ হারিয়েছে আরও দু’জন। আট বছরের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী মহিমা বাড়ির ওপর ইট পড়ে মারা যায়। আর ৫৮ বছরের রামবরণ গাছ ভেঙে পড়ায় প্রাণ হারান। তাঁর স্ত্রী গুরুতর জখম অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি। হালিয়াপুরে কাঁচা বাড়ির দেওয়াল ও খড়ের চাল ধসে মৃত্যু হয়েছে তিন সন্তানের মা ৩৫ বছরের রিতার। অখণ্ড নগরে আট বছরের সুরমন ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারায়, আহত হয় আরও দু’জন, যাঁদের অন্যত্র চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে।
এছাড়াও বান্ধুয়া কালায় বাড়ির কাছে গাছ পড়ে ৪০ বছরের সুষমা গুপ্তা এবং কুড়ওয়ারে দেওয়াল ধসে ৭০ বছরের কেওয়ালা দেবীর মৃত্যু হয়েছে। জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে অন্তত ২১ জন আহতের চিকিৎসা চলছে। স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলিকে সতর্ক রাখা হয়েছে বলে প্রশাসন জানিয়েছে।
ঝড়ের জেরে পরিকাঠামোরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। পূর্বাঞ্চল এক্সপ্রেসওয়ের একটি টোল প্লাজা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় কয়েক ঘণ্টা যান চলাচল ব্যাহত হয়। জেলা শাসক ইন্দ্রজিৎ সিং এই মর্মান্তিক ঘটনায় শোকপ্রকাশ করে দ্রুত ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, রাজ্য দুর্যোগ মোকাবিলা তহবিল থেকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।
ত্রাণ ও উদ্ধার কাজে রাজস্ব ও স্বাস্থ্য দপ্তরের দল নামানো হয়েছে। পাশাপাশি ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ হিসাবও নেওয়া হচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাসিন্দাদের সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে, খারাপ আবহাওয়ায় ঘরের বাইরে না বেরোনোর জন্য এবং সরকারি নির্দেশ মেনে চলার জন্য।