এল নিনো ২০২৭ভয়ঙ্কর আকার নিচ্ছে এল নিনো। যার জেরে চরম আবহাওয়ার শিকার হতে পারে ২০২৭। ইতিমধ্যেই বিষয়টা নিয়ে সতর্ক করেছে বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লুএমও)। তারা জানিয়েছে, ক্রান্তীয় প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে তৈরি হওয়া এল নিনো আরও শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে। এটি স্থায়ী হতে পারে ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। যার জেরে আবহাওয়া ব্যবস্থা বিগড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। রেকর্ড গরম পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। ভারতে হতে পারে বর্ষার ঘাটতি।
ডব্লুএমও-এর পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এই শক্তিশালী এল নিনো অ্যাক্টিভ থাকার সম্ভাবনা প্রায় ১০০ শতাংশ। আর এই বিষয়টা চিন্তায় রেখেছে আবহাওয়া বিশেজ্ঞদের।
আসলে এল নিনো হল একটি জলবায়ু পরিস্থিতি। এটি পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে বৃষ্টিপাত ও তাপমাত্রার স্বাভাবিক গতিবিধিতে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে।
সমুদ্রের জল গরম হচ্ছে
বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, ইতিমধ্যেই সমুদ্রের জল অস্বাভাবিকভাবে গরম হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবও ক্রমশ বাড়ছে। আর তাতেই বিপদের আশঙ্কা।
চরম আবহাওয়া চলতেই থাকবে?
বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, এল নিনো হল একটি প্রাকৃতিক জলবায়ু পরিস্থিতি। এল নিনো তৈরি হলে মধ্য ও পূর্ব ক্রান্তীয় প্রশান্ত মহাসাগরের জল অস্বাভাবিকভাবে উষ্ণ হয়ে যায়।
আর সমুদ্রের জল গরম হলেই বায়ুমণ্ডলের স্বাভাবিক সঞ্চালন ব্যবস্থা বদলে যায়। এর প্রভাব পড়তে পারে হাজার হাজার কিলোমিটার দূরের অঞ্চলেও। কোথাও বৃষ্টিপাত বেড়ে যেতে পারে। কোথাও আবার তীব্র গরম পড়ার সম্ভাবনা প্রবল। তাই বর্তমান এল নিনোর শক্তিশালী হয়ে উঠতেই সতর্ক করে দিয়েছেন বিজ্ঞানীরা।
ডব্লুএমও জানিয়েছে, প্রশান্ত মহাসাগরের অস্বাভাবিক উষ্ণ জল এল নিনোকে আরও শক্তিশালী করে তুলতে পারে। আর ২০২৬ সালের শেষের দিকে এর তীব্রতা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছতে পারে। যদিও ২০২৬ সালে এর থেকে মুক্তি মিলবে না। বরং এল নিনোর প্রভাব ২০২৭ সালেও অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এর ফলে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে চরম তাপপ্রবাহ, খরা এবং বন্যার ঝুঁকি বাড়তে পারে।
কেন ২০২৭ সালে চরম আবহাওয়ার আশঙ্কা?
ডব্লুএমও-এর পূর্বাভাস জানাচ্ছে, আগামী পাঁচ বছরেও গোটা বিশ্বে তাপমাত্রা রেকর্ডের কাছাকাছি বা রেকর্ড মাত্রায় থাকতে পারে।
সংস্থাটি দাবি করেছে, ২০২৬ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে অন্তত একটি বছর ২০২৪ সালের বর্তমান তাপমাত্রার রেকর্ডকেও ছাপিয়ে যেতে পারে। সেই সম্ভাবনা প্রায় ৮৬ শতাংশ।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের শেষের দিকে শক্তি বাড়াবে এল নিনো। যার ফলে ২০২৭ সাল হয়ে উঠতে পারে নতুন উষ্ণতম বছর।
আবহাওয়াবিদদের আশঙ্কা, ইতিমধ্যেই উষ্ণ হয়ে ওঠা পৃথিবীর সঙ্গে শক্তিশালী এল নিনোর সংঘাত হলে অস্বাভাবিক গরম পড়তে পারে। সেই সঙ্গে কিছু কিছু জায়গায় ব্যাপক বৃষ্টিপাতের আশঙ্কাও রয়েছে।
এল নিনোর কী প্রভাব ভারতে?
বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, এল নিনো নিয়ে ভারতের ক্ষেত্রে সবচেয়ে চিন্তার বিষয় হল বৃষ্টিপাত। ইতিহাস বলছে, এল নিনোর সঙ্গে ভারতের দুর্বল দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর সম্পর্ক রয়েছে। ২০২৬ সালের বর্ষাও ইতিমধ্যেই কিছুটা দুর্বল হয়েছে। ভারতীয় আবহাওয়া দফতর (আইএমডি) মরসুমের মোট বৃষ্টিপাত দীর্ঘমেয়াদি গড়ের ৯০ শতাংশ হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছিল।
যদি ২০২৭ সালের শুরুর দিকেও এল নিনো সক্রিয় থাকে, তাহলে তাপমাত্রা ও বৃষ্টিপাতের উপর বড় প্রভাব পড়তে পারে। এর ফলে জলের জোগান, কৃষিকাজ এবং তীব্র গরম নিয়ে উদ্বেগ বাড়তে পারে।