IIT Kanpur: চান্স না পেয়ে IIT কানপুরের ওয়েবসাইট হ্যাক ছাত্রের, শাস্তি হিসেবে মিলল চাকরি!

IIT কানপুরে BTech কোর্সে ভর্তি হতে না পেরে প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট হ্যাক করেছিলেন এক ছাত্র। কিন্তু তাঁর বিরুদ্ধে কোনও FIR হল না। শাস্তি হিসেবে তিনি সেখানেই পেলেন চাকরি!

Advertisement
চান্স না পেয়ে IIT কানপুরের ওয়েবসাইট হ্যাক ছাত্রের, শাস্তি হিসেবে মিলল চাকরি!আইআইটি কানপুর
হাইলাইটস
  • IIT কানপুরে ভর্তি হতে না পেরে ওয়েবসাইট হ্যাক
  • কিন্তু ছাত্রের বিরুদ্ধে কোনও FIR হল না
  • শাস্তি হিসেবে তিনি সেখানেই পেলেন চাকরি!

IIT কানপুরে BTech সাইবার সিকিউরিটি কোর্সে ভর্তি হতে না পেরে প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট হ্যাক করেছিলেন এক ছাত্র। ওয়েবসাইটে লিখেছিলেন, 'All I Need Is Just a Fair Chance' । অর্থাৎ আমার শুধু একটি ন্যায্য সুযোগ চাই। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়ালেও, কড়া আইনি পদক্ষেপের বদলে ছাত্রটির প্রতিভাকে কাজে লাগানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে IIT কানপুর।

প্রথমে ওই ছাত্রের বিরুদ্ধে FIR দায়েরের বিষয়টি বিবেচনা করা হলেও, পরে সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে কর্তৃপক্ষ। পরিবর্তে, IIT-র সাইবার সিকিউরিটি গবেষণা ও উদ্ভাবন কেন্দ্র C3iHub-এ তাঁকে ইন্টার্নশিপের সুযোগ দেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে।

IIT কানপুরের ডিরেক্টর মণীন্দ্র আগরওয়াল বলেন, 'ভর্তি প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই শেষ হয়ে গিয়েছিল এবং তা নিয়ে আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতাও রয়েছে। তাই তাঁকে এখন ভর্তি করানো সম্ভব নয়। কিন্তু একজন মেধাবী ছাত্রের ভবিষ্যৎ নষ্ট করতে চায় না প্রতিষ্ঠান। সেই কারণেই ইন্টার্নশিপের সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি আগামী বছর নিয়ম মেনে আবার ভর্তি প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।'

কীভাবে সামনে এল ঘটনা?
ওয়েবসাইট হ্যাক করার পর ছাত্রটি সেখানে লিখে দেয়, 'Site is Hacked, All I Need Is Just a Fair Chance'। এরপর সে X এবং রেডিট সহ বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে হ্যাকের স্ক্রিনশট শেয়ার করে নিজেই ঘটনার দায় স্বীকার করে।

ছাত্রটির দাবি, তাঁর উদ্দেশ্য কোনও ভাবেই IIT-র সিস্টেমের ক্ষতি করা ছিল না। ভর্তি না পাওয়ার পর নিজের সাইবার সিকিউরিটি দক্ষতা প্রমাণ করতেই তিনি এই পদক্ষেপ নিয়েছিলেন।

IIT-র বক্তব্য
মণীন্দ্র আগরওয়াল জানান, BTech সাইবার সিকিউরিটি কোর্সে ভর্তির সময় আবেদনকারীদের দক্ষতা প্রমাণের জন্য হ্যাকাথনের মতো একাধিক সুযোগ দেওয়া হয়। কিন্তু ওই ছাত্র নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় নিজের সক্ষমতা যথাযথভাবে তুলে ধরতে পারেননি।

তিনি স্পষ্ট করে বলেন, 'পারমিশন ছাড়া কোনও প্রতিষ্ঠানের সিস্টেমে প্রবেশ করে দক্ষতা প্রমাণ করা কখনওই গ্রহণযোগ্য নয়। এর মাধ্যমে অন্য ছাত্রদের কাছে ভুল বার্তা যাক, তা IIT চায় না।'

Advertisement

সাইবার বিশেষজ্ঞদের জন্য খোলা দরজা
ডিরেক্টর আরও জানান, যাঁদের সাইবার সিকিউরিটি ক্ষেত্রে দক্ষতা রয়েছে, তাঁরা চাইলে C3iHub-এ ইন্টার্নশিপ বা চাকরির জন্য নিজেদের সিভি পাঠাতে পারেন। যোগ্য প্রার্থীদের আবেদন বিবেচনা করা হবে।

তিনি বলেন, 'শিক্ষার্থীদের সবসময় বৈধ ও নৈতিক উপায়ে নিজেদের দক্ষতা প্রমাণ করা উচিত। বেআইনি উপায়ে সুযোগ পাওয়ার চেষ্টা করলে তার গুরুতর আইনি পরিণতি হতে পারে।'

নতুন বিতর্কের সূত্রপাত
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। অসাধারণ প্রযুক্তিগত দক্ষতার স্বীকৃতি দেওয়া এবং সাইবার আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করার মধ্যে ভারসাম্য কোথায় টানা উচিত?

অনেকেই IIT কানপুরের মানবিক সিদ্ধান্তের প্রশংসা করলেও, প্রতিষ্ঠান স্পষ্ট জানিয়েছে, এথিক্যাল হ্যাকিং এবং রেসপনসিবল ডিসক্লোজারই দক্ষতা প্রদর্শনের একমাত্র গ্রহণযোগ্য পথ। অনুমতি ছাড়া কোনও সিস্টেমে প্রবেশ করা কখনও সমর্থনযোগ্য নয়।

 

POST A COMMENT
Advertisement