মমতাকে উপদেষ্টা চান সুদীপ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্য়ায়। মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের দীর্ঘদিনের সঙ্গী। উত্তর কলকাতার সেই সাংসদও এবার হাত ছাড়লেন 'দলনেত্রীর'। নাম লেখালেন বিদ্রোহী শিবিরেই। সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে নিজেই জানালেন সেই কথা।
শনিবারই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের বাড়িতে গিয়ে বৈঠক করেন সুদীপ। তারপর এক ঘণ্টারও বেশি সময় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর সঙ্গেও বৈঠক করেন। তখন থেকেই প্রায় পরিষ্কার হয়ে যায় ওই সাংসদ বিরোধী শিবিরেই যোগ দেবেন। তারপর আজ রবিবার এই বিষয়ে মুখ খোলেন।
সুদীপ বন্দ্যোপাধ্য়ায় বলেন, 'অধিকাংশ সাংসদ, বিধায়ক সবাই উদ্যোগ নিয়েছেন। তাঁরা চান মমতা প্রধান উপদেষ্টা হোক। এভাবে পরিষদীয় দল চলুক। আমাকে এঁদের আবেদন স্পর্শ করেছে। সেজন্য আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি এঁদের সঙ্গে থাকা যেতে পারে। আমার এই দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার ইচ্ছে নেই। নোটবন্দীর সময় আমি লোকসভার দলকে নেতৃত্ব দিয়েছি। কাকলি অনেক কাজ করেছে। উদ্যোগ নিয়েছে। সেজন্য প্রশংসা করতেই হবে। কাল অমিত শাহর সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। প্রথমে ভেবেছিলাম কয়েক মিনিট হবে। সেটা ৭০ মিনিট ধরে চলে। আমার সঙ্গে শুভেন্দুর কথা হয়েছে। আমি এখনও সই করিনি। শুভেন্দু আমাকে দুপুর পর্যন্ত সই করতে বলছিলেন। আমি ওঁকে বলেছিলাম আসতে। ভেবেছিলাম আসবেন না। এখন শুনছি রাতে এলেও আসতে পারেন। মনে হচ্ছে তখন দেখা হবে।'
এদিকে এখন খবর পাওয়া যাচ্ছে, ২০ জন সাংসদের সই করা চিঠি নিয়ে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছেন বিরোধী শিবিরের সাংসদরা। তাঁরা স্পিকারের কাছে আলাদা ব্লক করে লোকসভায় বসার আবেদন জানাবেন। চাইবেন এনডিএর সঙ্গে বসতে। আজ দুপুরে ইতিমধ্যেই তাঁরা বৈঠক সেরেছেন ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গে। সেখানে ছিলেন নিশিকান্ত দুবেও।
প্রসঙ্গত, গত সোমবারই তৃণমূলের সংসদীয় দলে ভাঙন-পর্ব প্রথম প্রকাশ্যে এসেছিল। নেতৃত্বে ছিলেন বারাসতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার। তাঁর দাবি ছিল, প্রায় ২০ জন সাংসদ বিদ্রোহী শিবিরে রয়েছেন। সেই তালিকায় রয়েছেন সায়নী ঘোষ, রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়, জুন মালিয়া, পার্থ ভৌমিক, মালা রায়, বাপি হালদার, শর্মিলা সরকার, প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়, জগদীশ বর্মা বসুনিয়া, অসিত মাল, অরূপ চক্রবর্তী, কালীপদ সরেনের মতো সাংসদরা।