Super El Nino: ১৪০ বছর পর আসছে সুপার এল নিনো, দেশে হু হু করে বাড়বে তাপমাত্রা

চলতি মাসেই আসছে সুপার এল নিনো। IMD এবং আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা লেটেস্ট ওয়েদার বুলেটিনে একটি বড় সতর্কবার্তা জারি করেছেন। ছাব্বিশের এল নিনো গত ১৪০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী হতে পারে।

Advertisement
১৪০ বছর পর আসছে সুপার এল নিনো, দেশে হু হু করে বাড়বে তাপমাত্রাএল নিনোর প্রভাবে কী হবে?
হাইলাইটস
  • চলতি মাসেই আসছে সুপার এল নিনো
  • লেটেস্ট ওয়েদার বুলেটিনে একটি বড় সতর্কবার্তা জারি
  • গত ১৪০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী হতে পারে

মে মাসের শুরুতে বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি ও মেঘের আনাগোনা তীব্র গরম থেকে স্বস্তি এনেছিল। তবে ৯ মে-এর পর হাওয়া বদল হতে চলেছে। IMD এবং আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা লেটেস্ট ওয়েদার বুলেটিনে একটি বড় সতর্কবার্তা জারি করেছেন। আসতে চলেছে সুপার এল নিনো। এর প্রভাব কী?

বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, চলতি বছরের মাঝামাঝি এল নিনো শুধু ভারতেই নয়, বিশ্বজুড়ে তাপমাত্রাকে রেকর্ড মাত্রায় পৌঁছে দিতে পারে। এই পরিবর্তনটি কেবল স্বল্পস্থায়ী তাপপ্রবাহ নয়, বরং এটি আসন্ন বর্ষা এবং কৃষিক্ষেত্রেও গুরুতর প্রভাব সৃষ্টি করতে পারে। 

সুপার এল নিনো কী? কতটা বিপজ্জনক? 
প্রশান্ত মহাসাগরে উষ্ণতা বৃদ্ধিকে এল নিনো বলা হয়। কিন্তু যখন সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি (প্রায় ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস) বেড়ে যায়, তখন তাকে সুপার এল নিনো বলা হয়। জিরো কার্বন অ্যানালিটিক্স-এর সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুসারে, ছাব্বিশের এল নিনো গত ১৪০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী হতে পারে। 

এই ঘটনাটি বায়ুমণ্ডলের উল্লেখযোগ্য পরিমাণে তাপ উৎপন্ন করে যা বৃষ্টিপাতের ধরণ পরিবর্তন করে দেয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এল নিনো সক্রিয় থাকলে ভারতে মৌসুমী বায়ু দুর্বল হয়ে পড়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। যার ফলে খরা পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। ৯ মে-এর পর সূর্যের তাপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই এল নিনো কার্যকলাপের ফলে তাপমাত্রা আকস্মিক বৃদ্ধি পাবে। 

IMD সতর্কতা 
মৌসম ভবন চলতি মে মাসের পূর্বাভাসে জানিয়েছে, দেশের অনেক অংশ বৃষ্টিপাতের কারণে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা স্বাভাবিকের নীচে থাকলেও কিছু রাজ্যে তীব্র তাপপ্রবাহের ঝুঁকি রয়েছে। গুজরাত, মহারাষ্ট্র, দক্ষিণ ভারত এবং উত্তর পশ্চিম ভারতের কিছু এলাকায় রাতেও তাপমাত্রা বাড়বে। 

WMO (বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা) একটি সতর্কতা জারি করে জানিয়েছে, চলতি মে থেকে জুলাই মাসের মধ্যে এল নিনো সম্পূর্ণরূপে সক্রিয় হওয়ার ৬১ শতাংশ সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিবর্তন এত দ্রুত ঘটবে যে মানুষ প্রতিক্রিয়া দেখানোর সময় পাবে না। যার ফলে স্বাস্থ্য সমস্যা আরও বাড়তে পারে। 

Advertisement

ভারতের জন্য সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হল মৌসুমী বায়ু। ডাউন টু আর্থ-এর একটি লেটেস্ট সমীক্ষা অনুযায়ী, এল নিনোর কারণে দক্ষিণ পশ্চিম মৌসুমী বায়ু স্বাভাবিকের চেয়ে কম হতে পারে। বিজ্ঞানীরা মনে করেন, প্রশান্ত মহাসাগরে ক্রমবর্ধমান তাপ ভারতীয় মৌসুমী বায়ুকে দুর্বল করে দেয়। 

জলবায়ু বি়জ্ঞানীরা মনে করেন, বিশ্ব উষ্ণায়নের কারণে পৃথিবী ইতিমধ্যেই উষ্ণ হচ্ছে। যার ফলে সুপার এল নিনোর ঝুঁকি বেড়ে গিয়েছে। নাসার বিজ্ঞানীদের মতে, বিশ্বের তাপমাত্রা ইতিমধ্যেই ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি পৌঁছেছে এবং একটি এল নিনো এর ফলে আরও ০.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বাড়াতে পারে। 

এর অর্থ হল, ছাব্বিশ সাল ইতিহাসের উষ্ণতম বছর হিসেবে প্রমাণিত হতে পারে। ৯ মে-এর পর যে আবহাওয়ার পরিবর্তন ঘটবে, তা এই বৃহত্তর বিশ্বব্যাপী পরিবর্তনেরই একটি অংশ। আগামী দিনগুলিতে শুধু তাপপ্রবাহের জন্যই নয়, বরং অপ্রত্যাশিত ঝড় এবং অসময়ের বৃষ্টির মতো চরম আবহাওয়ার জন্যও প্রস্তুত থাকতে হবে। 

 

POST A COMMENT
Advertisement