NEET আন্দোলন নিয়ে পর্যবেক্ষণ কোর্টের প্রতিবাদীদের উপর পুলিশের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ নিয়ে দেশজুড়ে বিতর্কের আবহে গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ সুপ্রিম কোর্টের। সোমবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ মৌখিকভাবে জানিয়েছে, 'শুধু আন্দোলন হচ্ছে বলেই লাঠিচার্জ করা যায় না।'
দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছাত্র আন্দোলনের সময় পুলিশের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ ওঠে। সেই সংক্রান্ত একটি নতুন মামলার শুনানির আবেদনও করা হয় এদিন আদালতে। এর মধ্যে একটি মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, আন্দোলনে অংশ নেওয়া ছাত্রছাত্রীদেরও মারধর করা হয়েছে। যদিও পুলিশের তরফেও পাল্টা একটি আবেদন করা হয়।
তিন সদস্যের বেঞ্চের বিচারপতি জয়মালা বাগচী বলেন, 'উভয় বিষয়ই সমান গুরুত্বপূর্ণ। পুলিশকর্মীদের উপরও হামলা হওয়া উচিত নয়। পুলিশ কেন পর্যাপ্ত স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর অনুসরণ করছে না, সে বিষয়ে রাজ্যের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া যেতে পারে।'
আদালত জানিয়েছে, সব নতুন মামলার শুনানি মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই হবে। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেন, 'আগামীকাল সব মামলার একসঙ্গে শুনানি হবে। প্রত্যেক নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা উচিত। কোথাও অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ হয়ে থাকলে তা রোধ করতে হবে। এ জন্য নির্দিষ্ট প্রোটোকল থাকা জরুরি। বিষয়টি শুধু দিল্লির নয়, দেশের বিভিন্ন জায়গায় আন্দোলন হয়েছে। শুধুমাত্র আন্দোলন হচ্ছে বলে লাঠিচার্জ করা যায় না। গণতন্ত্রে আত্মনিয়ন্ত্রিত শৃঙ্খলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।'
একই সঙ্গে প্রধান বিচারপতি মন্তব্য করেন, তরুণদের শান্তিপূর্ণভাবে মত প্রকাশের অধিকার এবং সমাজবিরোধী শক্তিকে আন্দোলনের সুযোগ না দেওয়ার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে।
তাঁর কথায়, 'যুবক-যুবতীরা যদি আন্দোলন করতে চান, তাহলে তাদের সেই সুযোগ দেওয়ার জন্য একটি নির্দিষ্ট প্রোটোকল থাকা উচিত। কিন্তু সমাজবিরোধী উপাদান যাতে সেই সুযোগের অপব্যবহার করতে না পারে, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।'
এরই মধ্যে ২৫ জুলাই 'বিহার বন্ধ' কর্মসূচির সময় সিওয়ানে ছাত্র আন্দোলনের মধ্যে AK-47 থেকে গুলি চালানোর অভিযোগে এক পুলিশকর্মীকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। ওই ঘটনায় রাজ্যসভার সাংসদ মনোজ কুমার ঝা সুপ্রিম কোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা (PIL) দায়ের করেছেন।
বিহারে বনধে চলাকালীন রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় ছাত্র সংগঠনগুলির বিক্ষোভ হয়। একাধিক জায়গায় আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ বাধে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠিচার্জ, কাঁদানে গ্যাস এবং জলকামান ব্যবহার করে।
সিওয়ানের গুলিকাণ্ডে আহত তিনজন বর্তমানে পাটনার জয়প্রভা মেডান্তা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, তাঁদের অবস্থা স্থিতিশীল। জখমদের মধ্যে রয়েছেন ১৫ বছরের মহম্মদ আরিফ। পরিবারের দাবি, বিহার বনধের দিন দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফেরার সময় তাঁর গলায় গুলি লাগে। পরে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে গুলি বের করা হয় এবং বর্তমানে তিনি বিপন্মুক্ত।
লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীও বিষয়টি তুলে ধরে বলেন, দিল্লিতে আন্দোলনরত ছাত্রদের বিরুদ্ধে পেলেট গান এবং বিহারে AK-47 ব্যবহারের অভিযোগ একই ধরনের প্রবণতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।