সুপ্রিম কোর্ট - ফাইল ছবিভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির জন্য ফর্ম ৬ নিয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে দিল সুপ্রিম কোর্ট। সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও বিচারপতি বি মোহনার বেঞ্চ জানাল, নির্বাচন কমিশনের নতুন Form 6-কে সুপ্রিম কোর্ট অনুমোদনও দেয়নি আবার খারিজও করা হয়নি। অর্থাত্ অনুমোদন বা প্রত্যাখ্যান, কোনওটিই করা হয়নি।
বিহার SIR মামলার শুনানি চলাকালীন নতুন ফর্ম ৬ তখনও জারি করা হয়নি
সুপ্রিম কোর্টে আবেদনকারীর আইনজীবী যুক্তি দেন, নির্বাচন কমিশন দাবি করছে নতুন ফর্ম ৬ সুপ্রিম কোর্ট কর্তৃক অনুমোদিত হয়েছে। বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী উল্লেখ করেন, বিহার SIR মামলার শুনানি চলাকালীন নতুন ফর্ম ৬ তখনও জারি করা হয়নি। দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত বলেন, আদালতের পূর্ববর্তী মন্তব্যকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা উচিত নয়। আদালত জানিয়েছে, বিষয়টি তাদের নজরে আনা হয়েছে। আগামী ২৭ অক্টোবর মূল আবেদনগুলির সঙ্গে এটিও বিবেচনা করা হবে।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিষয়ে দায়ের করা আরেকটি আবেদনকে সুপ্রিম কোর্ট এই বিষয়ে দায়ের করা অন্যান্য প্রধান আবেদনগুলির সঙ্গে যুক্ত করেছে। ফর্ম ৬ এখনও ১৯৬০ সালের ভোটার নিবন্ধন বিধিমালা অনুসারে একটি বিধিবদ্ধ এবং আইনসম্মত আবেদনপত্র। যে কোনও যোগ্য ভারতীয় নাগরিক ভোটার তালিকায় নিজের নাম অন্তর্ভুক্ত করার জন্য আবেদন করতে এটি ব্যবহার করেন।
ফর্ম ৬ নিয়ে বিতর্ক, SIR-এর সময় নতুন আবেদনকারীদের জন্য অতিরিক্ত ঘোষণাপত্র কেন?
নির্বাচন কমিশনের ফর্ম ৬-এ পরিবর্তন আনা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিরোধীদের অভিযোগ, ভোটার তালিকায় নাম তোলার জন্য ব্যবহৃত এই ফর্মে নির্বাচন কমিশন ইচ্ছেমতো পরিবর্তন এনে সেটিকে কার্যত অকার্যকর করে দিয়েছে। তবে বিতর্কের মূল বিষয় ফর্ম ৬-এর মূল কাঠামো নয়, বরং SIR প্রক্রিয়ার সময় এর সঙ্গে যুক্ত করা অতিরিক্ত ঘোষণাপত্র।
বিতর্কের কেন্দ্রে কী?
SIR প্রক্রিয়া চলাকালীন নির্বাচন কমিশনের অনলাইন পোর্টালে ফর্ম ৬-এর সঙ্গে একটি অতিরিক্ত ঘোষণাপত্র যুক্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। নতুন ভোটার হিসেবে আবেদনকারীদের এই ঘোষণাপত্রে কয়েকটি অতিরিক্ত প্রশ্নের উত্তর দিতে হচ্ছে। মূলত, আবেদনকারী বা তাঁর পরিবারের সদস্যদের নাম আগের ভোটার তালিকায় ছিল কি না, তা জানতে চাওয়া হচ্ছে।
অতিরিক্ত প্রশ্নগুলির মধ্যে রয়েছে
১. আবেদনকারীর নিজের নাম ২০০০-এর দশকের পূর্ববর্তী ভোটার তালিকায় ছিল কি না।
২. আবেদনকারীর নাম না থাকলে, ২০০৩ সালের ভোটার তালিকায় তাঁর বাবা-মা অথবা দাদু-দিদা কিংবা নানা-নানির নাম ছিল কি না।
৩. আবেদনকারী বা তাঁর বাবা-মা এবং দাদু, ঠাকুমার নাম পূর্ববর্তী ভোটার তালিকায় না থাকলে, তার কারণ কী।
এই প্রশ্নগুলিকে ঘিরেই তৈরি হয়েছে বিতর্ক। সমালোচকদের বক্তব্য, নতুন ভোটারদের কাছ থেকে অতিরিক্ত তথ্য চাওয়ার ফলে ভোটার তালিকায় নাম নথিভুক্ত করার প্রক্রিয়া আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে, যাঁদের পরিবারের পুরনো ভোটার তালিকার নথি সংগ্রহ করা কঠিন, তাঁদের ক্ষেত্রে এই শর্ত সমস্যা তৈরি করতে পারে।