পথচারীদের জন্য পরিকাঠামো গড়ে তোলা ও রক্ষণাবেক্ষণ করা সরকারি কর্তৃপক্ষের বাধ্যতামূলক দায়িত্ব।রাস্তা থাকলে ফুটপাতও থাকবে। নিরাপদে নির্দিষ্ট ফুটপাথে হাঁটা দেশের নাগরিকদের মৌলিক অধিকার। শুক্রবার এক ঐতিহাসিক রায়ে এমটাই বলল সুপ্রিম কোর্ট। শীর্ষ আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, গাড়ি চলাচলের সুবিধার চেয়েও পথচারীদের অধিকার বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ফলে রাস্তার পাশে নিরাপদ ফুটপাত তৈরি ও তার রক্ষণাবেক্ষণ করা সরকারের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে।
বিচারপতি পি এস নরসিমহা এবং বিচারপতি এ এস চন্দুরকরের বেঞ্চ জানায়, সংবিধানের ১৯ এবং ২১ নম্বর অনুচ্ছেদের অধীনে নাগরিকদের হাঁটার অধিকারও পড়ে। কোনও এলাকায় রাস্তা থাকলে সেখানে পথচারীদের জন্য পৃথক ফুটপাতও থাকতে হবে। এই দায়িত্ব পালন না করলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপও করা যাবে।
পথচারীদের গুরুত্ব উপেক্ষা করা হয়েছে, পর্যবেক্ষণ আদালতের
আদালতের পর্যবেক্ষণ, দীর্ঘদিন ধরে দেশের শহরগুলির প্ল্যানিংয়ের সময় মোটরবাইক, গাড়ি, বাসকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। ফলে পথচারীরা ক্রমেই উপেক্ষিত থেকে গিয়েছেন। নিরাপদ ফুটপাতের অভাবকে আদালত 'সভ্যতার সমস্যা' বলেও উল্লেখ করেছে।
সুপ্রিম কোর্টের মতে, জনসাধারণের রাস্তা কেবল গাড়ির জন্য নয়। পথচারীদের চলাচলের স্বাধীনতাও সাংবিধানিক অধিকার। কিন্তু বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রেই পথচারীদের যেন রাস্তায় 'বাধা' হিসেবে দেখা হয়। এই পরিস্থিতির বদল হওয়া প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেছে বেঞ্চ।
দায়িত্বে কারা?
আদালত জানিয়েছে, নগরোন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, পুরসভা, পৌরসভা এবং পঞ্চায়েতগুলির উপরই ফুটপাত নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণের মূল দায়িত্ব বর্তায়। যদি কোনও এলাকায় নিরাপদে হাঁটার ব্যবস্থা না থাকে, তা হলে নাগরিকেরা আদালতের দ্বারস্থ হতে পারবেন।
শুধু দুর্ঘটনার ক্ষতিপূরণ নয়, পথচারীদের মৌলিক অধিকার রক্ষার দাবিতেও আইনি লড়াই করা যাবে বলে জানিয়েছে আদালত।
আলাদা আইন তৈরির সুপারিশ
রায়ে সুপ্রিম কোর্ট আরও বলেছে, দেশে পথচারীদের অধিকার নিয়ে নির্দিষ্ট কোনও আইন নেই। তাই এই বিষয়ে আলাদা আইনি কাঠামো তৈরি করা প্রয়োজন। আদালত কেন্দ্রীয় মন্ত্রক এবং আইন কমিশনের কাছে রায়ের কপি পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে।
কোন মামলার শুনানিতে এই মন্তব্য?
এক পাঁচ বছরের শিশুর মৃত্যুর মামলার শুনানিতে এই গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ করে সুপ্রিম কোর্ট। স্কুলে যাওয়ার পথে বাবার সঙ্গে হাঁটার সময় একটি ট্যাঙ্কারের ধাক্কায় মৃত্যু হয় ওই শিশুর। আদালত জানায়, যেখানে দুর্ঘটনাটি ঘটেছিল সেখানে কোনও ফুটপাত বা রাস্তা পারাপারের ব্যবস্থা ছিল না।
আলোচ্য মামলায় শিশুটির পরিবারের ক্ষতিপূরণ কমিয়ে দেওয়ার যে নির্দেশ হাইকোর্ট দিয়েছিল, তাও বাতিল করেছে সুপ্রিম কোর্ট। ক্ষতিপূরণের পরিমাণ বাড়িয়ে ১১.৪৪ লক্ষ টাকা করা হয়েছে।
একই সঙ্গে পথচারীদের অধিকার এবং পরিকাঠামো সংক্রান্ত বৃহত্তর সমস্যাগুলি খতিয়ে দেখতে বিষয়টিকে পৃথক মামলায় রূপান্তরের নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত। এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের সহযোগিতাও চাওয়া হয়েছে।