সুপ্রিম কোর্টভারতে মৃত্যুদণ্ডে ফাঁসি বদলে অন্য কোনও উপায় কার্যকর করার আবেদন খারিজ করে দিল সুপ্রিম কোর্ট। দেশের শীর্ষ আদালত জানিয়ে দিয়েছে, মৃত্যুদণ্ডের ক্ষেত্রে ফাঁসির বিকল্প হিসেবে কম বেদনাদায়ক কোনও পদ্ধতি আপাতত নেই। তাই ফাঁসিই বহাল থাকছে।
তবুও বিতর্ক সম্পূর্ণ ভাবে বন্ধ হল না
সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি বিক্রম নাথ ও সন্দীপ মেহতার বেঞ্চ ফাঁসিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার পদ্ধতিকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে দায়ের করা আবেদনগুলি খারিজ করে দিয়েছে। আবেদনে দাবি করা হয়েছিল, ফাঁসিতে ঝোলানোর সময় যন্ত্রণা হয় এবং মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দিদের মৃত্যুর মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হয়। এই মামলার রায়দান পর্ব গত ২২ জানুয়ারি স্থগিত রেখেছিল সুপ্রিম কোর্ট। যদিও এই রায়ে বিতর্ক পুরোপুরি থামছে না।
মৃত্যুদণ্ডের বিকল্প পদ্ধতি নিয়ে আলোচনার অবকাশ
সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট করে দিয়েছে, এই সিদ্ধান্ত কেন্দ্রকে বর্তমান পদ্ধতি নিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ পর্যালোচনা করা বা এমন কোনও বিকল্প পদ্ধতি খতিয়ে দেখা থেকে বিরত করছে না, যা মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময় যন্ত্রণা কমাতে পারে। অর্থাত্ ফাঁসির থেকেও কম যন্ত্রণাদায়ক কোনও পদ্ধতি থাকলে, তা নিয়ে কেন্দ্রকে আলোচনার অবকাশও রেখে দিল শীর্ষ আদালত।
ইনজেকশন, গুলি কিংবা বিদ্যুত্স্পৃষ্ট পদ্ধতি খারিজ
আবেদনকারীর দাবি ছিল, ফাঁসিতে ঝোলানোর বদলে কোনও মারণ ইনজেকশন, গুলি করা কিংবা বিদ্যুস্পৃষ্ট করে মৃত্যুদণ্ডের ব্যবস্থা হোক। আবেদনকারীদের যুক্তি ছিল, কোনও ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ডের সাজা হলেও তাঁর সাংবিধানিকভাবে সুরক্ষিত মর্যাদা নষ্ট হয়ে যায় না। তাই রাষ্ট্রের দায়িত্ব হল, যতটা সম্ভব কম যন্ত্রণা দিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা।
তবে সুপ্রিম কোর্ট ওই বিকল্প পদ্ধতিগুলির কোনওটিই গ্রহণ করার নির্দেশ বা নির্দিষ্ট করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়নি। এই মামলায় মৃত্যুদণ্ডের সাংবিধানিক বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ জানানো হয়নি। আদালতের সামনে প্রশ্ন ছিল আরও নির্দিষ্ট, মৃত্যুদণ্ড কীভাবে কার্যকর করা উচিত। ভারতের ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থায় এখনও ‘বিরলতমের মধ্যে বিরল’ মামলায় মৃত্যুদণ্ডের বিধান রয়েছে। বর্তমান ব্যবস্থায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দিকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যু পর্যন্ত দণ্ড কার্যকর করা হয়।
আলোচনার দরজা খোলা রাখা হল
আবেদন খারিজ করে সুপ্রিম কোর্ট আপাতত এই ব্যবস্থাকেই বহাল রেখেছে। তবে একইসঙ্গে বিকল্প পদ্ধতি নিয়ে বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করা কিংবা আরও বিস্তৃত পর্যালোচনা করার সুযোগ কেন্দ্রীয় সরকারের জন্য খোলা রেখেছে। আদালত ইঙ্গিত দিয়েছে, ভবিষ্যতে কোনও পরিবর্তন করতে হলে তার ভিত্তি হতে হবে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ। সেই প্রমাণে দেখাতে হবে যে প্রস্তাবিত বিকল্প পদ্ধতিতে যন্ত্রণা কম হয় এবং মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দির মর্যাদা আরও ভাল ভাবে সুরক্ষিত থাকে।