TMC Symbol ও Name নিয়ে আর কত সময় লাগবে? কমিশনকে প্রশ্ন সুপ্রিম কোর্টের

তৃণমূল কংগ্রেসের নাম এবং নির্বাচনী প্রতীক নিয়ে বিতর্কের জেরে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন মমতা। বৃহস্পতিবার ওই মামলার শুনানিতে নির্বাচন কমিশনকে সময় বেঁধে দিল দেশের শীর্ষ আদালত।

Advertisement
TMC Symbol ও Name নিয়ে আর কত সময় লাগবে? কমিশনকে প্রশ্ন সুপ্রিম কোর্টেরতৃণমূলের প্রতীক মামলায় সুপ্রিম কোর্টের রায়।
হাইলাইটস
  • সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন মমতা।
  • হস্পতিবার ওই মামলার শুনানি।
  • নির্বাচন কমিশনকে সময় বেঁধে দিল দেশের শীর্ষ আদালত।

তৃণমূল কংগ্রেসের 'ঘাসফুল' প্রতীক সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নিতে কত সময় লাগবে? বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশনের কাছে জানতে চাইল সুপ্রিম কোর্ট। সম্ভাব্য এবং যুক্তিসঙ্গত সময়সীমা জানাতে কমিশনকে নির্দেশও দিয়েছে আদালত। মমতার হয়ে সওয়াল করেন প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিব্বল। নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের সময় নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। সিব্বলের বক্তব্য, ভোটের নির্ঘণ্ট প্রকাশের পরে কেন এই নির্দেশ জারি করল কমিশন? চাইলে জুলাই মাসেই নির্দেশ জারি করা যেত।

সাময়িকভাবে দলের প্রতীক হারানোর পর কমিশনের বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন বাংলার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার ওই মামলার শুনানি হল শীর্ষ আদালতে। বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্ট জানাল, তৃণমূলের নির্বাচনী প্রতীক সংক্রান্ত বিষয়ে কবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব, তা জানাতে হবে কমিশনকে। মামলার পরবর্তী শুনানি সোমবার।

সম্প্রতি তৃণমূলের 'অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস' নাম এবং 'জোড়াফুল' প্রতীক ফ্রিজ করে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। আসলে তৃণমূলের নাম ও প্রতীক দাবি করেছিল মমতা ও ঋতব্রত পক্ষ। দুপক্ষের সঙ্গে কথা বলার পর আপাতত নাম ও জোড়াফুল ব্যবহার না করার সিদ্ধান্ত নেয় কমিশন। ফলে আসন্ন উপনির্বাচনে নাম ও প্রতীক ছাড়াই লড়তে হচ্ছে মমতার দলকে। কমিশনের ওই নির্দেশের বিরুদ্ধেই সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন মমতা।

মমতার আইনজীবীর সওয়াল

এ দিন আদালতে সিব্বল জানান, তাঁদের তরফে একাধিকবার কমিশনের সামনে নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছিল। তা সত্ত্বেও সেই সময় কমিশন কোনও সিদ্ধান্ত নেয়নি। ভোটের নির্ঘণ্ট প্রকাশের পরেই নির্দেশ জারি করা হয়েছে। এর ফলে মমতার গোষ্ঠীর দ্রুত আইনি প্রতিকার পাওয়ার সুযোগ সীমিত হয়ে গিয়েছে বলে আদালতে জানান তিনি।

সুপ্রিম কোর্টে সিব্বল বলেন,'এই নির্দেশ বহাল থাকলে ভবিষ্যতে প্রতিটি নির্বাচনের আগে নির্বাচন কমিশন এমন সিদ্ধান্ত নিতে পারে। তাঁর দাবি, অক্টোবরের মধ্যেই কমিশনের এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। নির্বাচন শেষ হওয়া বা পরবর্তী নির্বাচন পর্যন্ত অপেক্ষা করা উচিত নয়'। তবে একই সঙ্গে সিব্বল স্পষ্ট করে দেন, তাঁরা নির্বাচন স্থগিত করার দাবি জানাচ্ছেন না। একইসঙ্গে কমিশনের উচিত দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া, যাতে এই বিতর্ক বেশিদিন না তলে। 

Advertisement

শুনানির সময় সুপ্রিম কোর্ট প্রশ্ন তোলে, এই পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশন আর কী করতে পারে? কমিশনকে তো দুই পক্ষের দাবি এবং নথিপত্র খতিয়ে দেখেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

নির্বাচন কমিশনের আইনজীবীর সওয়াল

নির্বাচন কমিশনের আইনজীবীরা দ্রুত কোনও সময়সীমা বেঁধে দেওয়ার বিরোধিতা করেন। এনকে কৌল বলেন, কমিশনকে সমস্ত নথি এবং প্রমাণ খতিয়ে দেখতে হয়। ফলে এক মাসের মধ্যে সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া যুক্তিযুক্ত হবে না।

শিবসেনা মামলার প্রসঙ্গ

শুনানিতে শিবসেনা সংক্রান্ত মামলার প্রসঙ্গও ওঠে। বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর পর্যবেক্ষণ,'শিবসেনা সংক্রান্ত মামলায় সিদ্ধান্তে দেরির প্রভাব দেখা গিয়েছিল'। যদিও এনকে কৌলের বক্তব্য, ওই মামলার পরিস্থিতি আলাদা ছিল। সেখানে দু'টি পৃথক মনোনয়নপত্রকে ঘিরে দাবি উঠেছিল। কমিশনকে হাতে থাকা প্রমাণের ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছিল।

দুই গোষ্ঠীর জন্য আলাদা নাম ও প্রতীক

তৃণমূলের 'গোষ্ঠীকোন্দলে'র কারণে আপাতত দুই গোষ্ঠীকেই পুরনো দলের নাম এবং জোড়াফুল প্রতীক ব্যবহার থেকে বিরত করেছে নির্বাচন কমিশন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গোষ্ঠীকে 'মমতা অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস' নাম এবং 'ফুটবল খেলোয়াড়' প্রতীক দেওয়া হয়েছে। ঋতব্রত গোষ্ঠীকে দেওয়া হয়েছে 'গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস' নাম এবং চিহ্ন 'খাম'।

POST A COMMENT
Advertisement