সুস্মিতা দেব সুখেন্দু শেখর রায়ের পর এবার সুস্মিতা দেব। রাজ্যসভা থেকে আরও একটি উইকেট পড়ল তৃণমূলের। বুধবার সকালে তিনি পদত্যাগ করেছেন। ফলে এই আসনগুলিতে এবার BJP-র প্রতিনিধিদের জিতে আসার সম্ভাবনা জোরাল হল। একদিকে যখন লোকসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠ সাংসদই বিদ্রোহী হয়ে উঠেছেন, তখন একের পর এক রাজ্যসভা সাংসদের পদত্যাগ তৃণমূলকে আরও বিপাকে ফেলছে।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালে সুস্মিতা দেবকে কংগ্রেস থেকে তৃণমূলে এনেছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁকে দলে এনে সরাসরি রাজ্যসভার সাংসদ পদ দেওয়া হয়। ত্রিপুরা ও অসমে দলের সংগঠন বাড়ানোর গুরুদায়িত্বও সঁপেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
বাংলার বাইরে থেকে সুস্মিতাকে এনে রাজ্যসভার টিকিট দেওয়ায় সেই সময়ে বাংলার আদি তৃণমূল নেতাদের অন্দরে তীব্র অসন্তোষ ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল।
বাংলা থেকে রাজ্যসভায় ১৬টি আসন রয়েছে। তার মধ্যে রাজ্যসভায় তৃণমূলের মোট সাংসদ সংখ্যা ছিল ১৩ জন। সুখেন্দু শেখর রায় ইতিমধ্যেই তাঁর সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। এবার পদত্যাগ করলেন সুস্মিতা দেবও। এক সপ্তাহের মধ্যে রাজ্য়সভায় ২টি আসন শূন্য হল তৃণমূলের। পশ্চিমবঙ্গে বর্তমানে বিধানসভায় BJP-র বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। ফলে অনায়াসেই এই ২ আসন জিতে যাবে তারা।
অন্যদিকে, কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বে ইতিমধ্যেই ২০ জন লোকসভার সাংসদ স্পিকার ওম বিড়লার কাছে একটি স্বাক্ষরিত চিঠি জমা করেছেন। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য নাম, শতাব্দী রায়, পার্থ ভৌমিক, রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়, কালীপদ সোরেন, জগদীশ বসুনিয়া, জুন মালিয়া। এই বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদরা ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের বাড়িতে এবং পরবর্তীতে শতাব্দী রায়ের বাড়িতে বৈঠক করেছেন। সেখানে উপস্থিত ছিলেন খোদ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এই ২০ জনের দল NDA-র শরিক হতে চায় বলেই স্পিকারকে জানানো হয়েছে চিঠিতে।