তরমুজ খেয়ে কিশোরের মৃত্যু, বমি-শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি ৫ শিশু

সোমবার বিকেলে ঘুরকোট গ্রামে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। পরিবারের সদস্যরা জানান, একটি বিয়ের অনুষ্ঠান সেরে শিশুরা মামার বাড়িতে বেড়াতে এসেছিল। দুপুরে তারা বাড়িতে রাখা তরমুজ-সহ অন্যান্য খাবার খায়। প্রথমে সব কিছু স্বাভাবিক থাকলেও, প্রায় দু’ঘণ্টার মধ্যেই একে একে পাঁচজনের বমি, ডায়রিয়া ও শ্বাসকষ্ট শুরু হয়।

Advertisement
তরমুজ খেয়ে কিশোরের মৃত্যু, বমি-শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি ৫ শিশু
হাইলাইটস
  • ছত্তিশগড়ের জাঞ্জগির-চম্পা জেলায় একটি বিয়েবাড়ির আনন্দ মুহূর্তেই পরিণত হল শোকে।
  • বাড়িতে রাখা তরমুজ খাওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে পাঁচ শিশু।

ছত্তিশগড়ের জাঞ্জগির-চম্পা জেলায় একটি বিয়েবাড়ির আনন্দ মুহূর্তেই পরিণত হল শোকে। বাড়িতে রাখা তরমুজ খাওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে পাঁচ শিশু। তাঁদের মধ্যে এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে, বাকি চারজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

সোমবার বিকেলে ঘুরকোট গ্রামে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। পরিবারের সদস্যরা জানান, একটি বিয়ের অনুষ্ঠান সেরে শিশুরা মামার বাড়িতে বেড়াতে এসেছিল। দুপুরে তারা বাড়িতে রাখা তরমুজ-সহ অন্যান্য খাবার খায়। প্রথমে সব কিছু স্বাভাবিক থাকলেও, প্রায় দু’ঘণ্টার মধ্যেই একে একে পাঁচজনের বমি, ডায়রিয়া ও শ্বাসকষ্ট শুরু হয়।

পরিস্থিতি দ্রুত খারাপ হতে থাকায় পরিবারের লোকজন আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। তড়িঘড়ি শিশুদের জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু হাসপাতালে পৌঁছনোর আগেই ১৫ বছরের অখিলেশ ধীওয়ারের মৃত্যু হয়। পরে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

অসুস্থ শিশুদের মধ্যে রয়েছে শ্রী ধীওয়ার, পিন্টু ধীওয়ার, নরেন্দ্র ধীওয়ার এবং হিতেশ ধীওয়ার। তাঁদের সকলকেই হাসপাতালে ভর্তি করে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। চিকিৎসকদের দাবি, আপাতত চারজনের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল।

ঘটনার পরই খাদ্য বিষক্রিয়ার আশঙ্কায় তদন্ত শুরু করেছে জেলা প্রশাসন। খবর পেয়ে প্রশাসনিক ও স্বাস্থ্য দফতরের আধিকারিকরা ঘটনাস্থল এবং হাসপাতালে পৌঁছে যান। শিশুদের খাওয়া তরমুজ ও অন্যান্য খাদ্যের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে।

মৃত কিশোরের দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে ভিসেরা নমুনাও সংরক্ষণ করা হয়েছে।

জেলা হাসপাতালের সিভিল সার্জন ডাঃ এস কুজুর বলেন, “বমি, ডায়রিয়া ও শ্বাসকষ্টের উপসর্গ নিয়ে পাঁচ শিশুকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। সঙ্গে সঙ্গেই চিকিৎসা শুরু করা হয়। একজনের মৃত্যু হয়েছে, তবে বাকি চারজন বর্তমানে স্থিতিশীল। প্রাথমিকভাবে এটি খাদ্য বিষক্রিয়ার ঘটনা বলেই মনে হচ্ছে। পরীক্ষার রিপোর্ট এলেই প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে।”

এই ঘটনার পর গোটা গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবারের আনন্দঘন মুহূর্ত কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ভয়াবহ ট্র্যাজেডিতে পরিণত হওয়ায় আতঙ্কে রয়েছেন গ্রামবাসীরাও।

Advertisement

 

POST A COMMENT
Advertisement