‘একজনও ভুক্তভোগী দেখান!’ গড়করির চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে ময়দানে পুনওয়ালা,দেশজুড়ে ২০ শতাংশ ইথানল মেশানো ‘E20 পেট্রোল’ বাধ্যতামূলক করেছে কেন্দ্র। আর তারপর থেকেই গাড়ি ও বাইকচালকদের একাংশ তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। অনেকেই মাইলেজ কমে যাওয়া এবং ইঞ্জিনের পার্টস বিকল হয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ তুলছেন। এসবের মাঝেই পাল্টা চ্যালেঞ্জ করেছিলেন কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণ মন্ত্রী নীতিন গড়করি। তিনি চ্যালেঞ্জ করে বলেছিলেন, ইথানল মেশানো তেলের কারণে গাড়ি নষ্ট হয়েছে, এমন একজনকেও কেউ সামনে এনে দেখাক। ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর সেই চ্যালেঞ্জ লুফে নিলেন আন্দোলনকারীরা। বৃহস্পতিবার তাঁরা জানালেন, এক জন নয়, এমন ছয় জন ভুক্তভোগীকে মন্ত্রীর সামনে হাজির করতে প্রস্তুত তাঁরা। তবে শর্ত একটাই; বৈঠক হতে হবে সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরার সামনে এবং তা লাইভ-স্ট্রিম করতে হবে।
গত রবিবার দিল্লির যন্তর মন্তরে 'টিম ভারত'-এর ব্যানারে E20 জ্বালানির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ-আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন সমাজকর্মী তহসিন পুনওয়ালা। তিনি এক ভিডিও বার্তায় গড়করির এই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেন।
‘মন্ত্রীর বাড়ি গেলে পুলিশ গ্রেফতার করবে, বৈঠক হোক ক্যামেরার সামনে’
তহসিন পুনওয়ালা তাঁর ভিডিও বার্তায় বলেন, তিনি E20 পেট্রোলের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত গাড়ি এবং তার মালিকদের নিয়ে সরাসরি নীতিন গড়করির সরকারি বাসভবনে যেতে চেয়েছিলেন। কিন্তু দিল্লি পুলিশ তাঁকে মন্ত্রীর বাসভবনে যেতে নিষেধ করেছে। পুনওয়ালার কথায়, 'আমরা নীতিন গড়করিজির চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেছি। আমাদের কাছে এমন ছয় জন গাড়ি মালিক রয়েছেন যাঁদের গাড়ি ই২০ জ্বালানির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কিন্তু আমরা মন্ত্রীর বাড়ি যেতে পারছি না, গেলেই আমাদের আটক বা গ্রেফতার করা হবে। তাই দিল্লির পুলিশ বা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক আমাদের অ্যাপয়েন্টমেন্টের ব্যবস্থা করে দিক। তবে আমাদের একটাই শর্ত, যা আলোচনা হবে তা মিডিয়ার সামনে লাইভ হতে হবে।'
‘বেটা বাড়াও স্কিম!’
সম্প্রতি ‘ইন্ডিয়া টুডে টিভি’-কে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে নীতিন গড়করি ইথানল নীতির পক্ষে সওয়াল করেন। বলেন, E20-র কারণে কোনও পেট্রোল গাড়ি নষ্ট হয়েছে, এমন কোনও প্রমাণ নেই। পাশাপাশি, ইথানল ব্যবসায় তাঁর পরিবারের যুক্ত থাকার প্রসঙ্গে গড়করি জানান, এই ব্যবসায় তাঁর শেয়ার মাত্র ০.০৭ শতাংশ। ফলে এতে তাঁর কোনও ব্যক্তিগত আর্থিক লাভ নেই।
গড়করির এই দাবির পাল্টা আক্রমণ করেন পুনওয়ালা। বলেন, 'আপনি বলছেন আপনার পরিবারের শেয়ার মাত্র ০.০৭ শতাংশ। কিন্তু আপনার দুই ছেলে যে ইথানল ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত, সেখান থেকে বছরে প্রায় ৫০ থেকে ১০০ কোটি টাকা আয় হয়। এই ব্যবসা দিন দিন বাড়ছে। এটা আসলে ‘বেটা বাড়াও স্কিম’।'
মাইলেজ কমা ও ইঞ্জিনের ক্ষতি নিয়ে বিতর্ক তুঙ্গে
‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নীতিন গড়করি স্বীকার করেছেন যে, সাধারণ পেট্রোলের তুলনায় ইথানলের ক্যালোরিফিক ভ্যালু কম।তাই মাইলেজ কিছুটা কমতে পারে। তবে গাড়ি বিকল হওয়ার দাবি তিনি মানেননি। তিনি জানান, পুরনো গাড়ির ওয়াশারগুলি আগে মেটালের হতো। এখন সেগুলি রবারের হয়। গাড়ি কোম্পানিগুলিকে সেগুলি পাল্টে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর জন্য ক্রেতাদের এক পয়সাও খরচ হবে না।
আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, তাঁরা ইথানল মেশানোর বিরোধী নন। কিন্তু ভারতের ৮০ শতাংশ গাড়ি যেখানে ‘E10’ ইঞ্জিনের উপযোগী, সেখানে জোর করে E20 পেট্রোল চাপিয়ে দেওয়ার ফলে ইঞ্জিনের রবার পার্টস ও ফুয়েল ইনজেকশন সিস্টেম নষ্ট হচ্ছে। ‘অটোমোটিভ রিসার্চ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্ডিয়া’ (ARAI)-র একটি অপ্রকাশিত রিপোর্টেও E10 ইঞ্জিনে E20 ব্যবহারের ক্ষতির দিকটি উঠে এসেছে বলে তাঁদের দাবি। আগামিদিনে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভুক্তভোগীদের সঙ্গে আলোচনায় বসেন কিনা, এখন সেটাই দেখার।