তেলঙ্গানাতে জালি নোটের কারবারইউটিউবের ভিডিও দেখে শেখা নিয়েছিলেন জালনোট তৈরির কৌশল! তারপর ভাড়া বাড়িতেই চলছিল জাল নোট ছাপানোর কারখানা। তেলঙ্গানার হায়দরাবাদের উপকণ্ঠে এমনই একটি জাল নোট তৈরির চক্রের পর্দাফাঁস করল পুলিশ। ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। উদ্ধার হয়েছে মোট ৬ কোটি ৭৮ লক্ষ টাকা মূল্যের জাল নোট। আর এই ঘটনা সামনে আসার পরই এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
গত ১ নভেম্বর রামোজি ফিল্ম সিটির কাছে ৬৫ নম্বর জাতীয় সড়কে একটি গাড়ি আটক করে আবদুল্লাপুরমেট থানার পুলিশ এবং শাদনগর স্পেশাল অপারেশনস টিম। ওই গাড়ি থেকে ৮ লক্ষ টাকা মূল্যের ৫০০ টাকার জাল নোট উদ্ধার করা হয়। তারপর গাড়িতে থাকা চারজনকেই গ্রেফতার করা হয়।
এরপর তদন্তে নেমে হায়দরাবাদের উপকণ্ঠে কুন্টলুর এলাকার একটি ভাড়া বাড়ির সন্ধান পান তদন্তকারীরা। সেখানেই চলছিল জাল নোট ছাপানোর কারখানা। ওই বাড়ি থেকে আরও ১৩৪ বান্ডিল ৫০০ টাকার জাল নোট উদ্ধার করা হয়। যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ৬ কোটি ৭০ লক্ষ টাকা।
এছাড়াও উদ্ধার হয়েছে রঙিন প্রিন্টার, স্ক্যানার, ল্যাপটপ, ল্যামিনেশন মেশিন এবং নোট কাটার বিভিন্ন সরঞ্জাম।
জাল নোট বানানোর কৌশল শিখেছিল ইউটিউব দেখে
ফিউচার সিটি পুলিশের কমিশনার ডক্টর তরুণ যোশী জানিয়েছেন, এই চক্রের মূল অভিযুক্ত মাদুপোজু কর্ণাকার ইউটিউবের বিভিন্ন ভিডিও দেখতেন। তাছাড়া সোশ্যাল মিডিয়ার অন্যান্য কনটেন্ট দেখে জাল নোট তৈরির পদ্ধতি শিখেছিলেন।
তদন্তকারীদের দাবি, প্রথমে আসল ৫০০ টাকার নোট স্ক্যান করতেন কর্ণাকার। এরপর ফটোশপের মতো ইমেজ এডিটিং সফটওয়্যার ব্যবহার করে সেই নোটের ছবি পরিবর্তন করতেন। তারপর তা প্রিন্ট করে তৈরি করা হতো জাল নোট।
অভিযুক্তদের পরিকল্পনা ছিল, প্রতি ১ লক্ষ টাকা আসল নগদের বিনিময়ে ৩ থেকে ৪ লক্ষ টাকা মূল্যের জাল নোট দেওয়ার। কিন্তু এই প্রস্তাবে ক্রেতাদের কাছ থেকে তেমন সাড়া মেলেনি। তাই নতুন কৌশল নেয় অভিযুক্তরা।
পুলিশ সেজে আসল টাকা হাতিয়ে নিত দুষ্কৃতীরা
তদন্তে উঠে এসেছে, সম্ভাব্য ক্রেতাদের বিশ্বাস অর্জনের জন্য প্রথমে কিছু আসল টাকা দেখাত অভিযুক্তরা। এরপর ভুয়ো পরিচয়পত্র, ওয়াকিটকি, নকল পিস্তল এবং জাল নম্বর প্লেট লাগানো গাড়ি নিয়ে নিজেদের পুলিশকর্মী বলে পরিচয় দিত তারা।
পুলিশের দাবি, এরপর ক্রেতাদের ভয় দেখিয়ে তাঁদের কাছ থেকে আসল টাকা ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যেত অভিযুক্তরা।
এই কায়দায় দু'টি পৃথক ঘটনায় দুই সম্ভাব্য ক্রেতার কাছ থেকে যথাক্রমে ২ লক্ষ ও ৩ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
ধৃত চারজনের নাম মাদুপোজু কর্ণাকার, চিন্নোল্লা মানিক্য রেড্ডি, চেরুকুপেল্লি রত্নাকর রেড্ডি এবং করণম অজয় কুমার। এই ঘটনায় আরও তিনজন অভিযুক্ত পলাতক। তাঁদের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ।