Nizamabad murder: ২ কোটি টাকার লোভে স্বামীকে খুন, প্রেমিক ও খুনিদের সঙ্গে ষড়যন্ত্র শিক্ষিকার

বিমার টাকার লোভে স্বামীকে খুনের ছক, এমনই চাঞ্চল্যকর ঘটনা সামনে এল তেলঙ্গানার নিজামাবাদ জেলা থেকে। পুলিশ জানিয়েছে, ২ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের বিমার টাকা আদায়ের উদ্দেশ্যে এক মহিলা তাঁর স্বামীকে খুনের পরিকল্পনা করেন। প্রেমিক এবং ভাড়াটে খুনিদের সাহায্যে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে পরে সেটিকে ‘হার্ট অ্যাটাক’ বলে চালানোর চেষ্টা করা হয়।

Advertisement
২ কোটি টাকার লোভে স্বামীকে খুন, প্রেমিক ও খুনিদের সঙ্গে ষড়যন্ত্র শিক্ষিকার
হাইলাইটস
  • বিমার টাকার লোভে স্বামীকে খুনের ছক, এমনই চাঞ্চল্যকর ঘটনা সামনে এল তেলঙ্গানার নিজামাবাদ জেলা থেকে।
  • পুলিশ জানিয়েছে, ২ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের বিমার টাকা আদায়ের উদ্দেশ্যে এক মহিলা তাঁর স্বামীকে খুনের পরিকল্পনা করেন।

বিমার টাকার লোভে স্বামীকে খুনের ছক, এমনই চাঞ্চল্যকর ঘটনা সামনে এল তেলঙ্গানার নিজামাবাদ জেলা থেকে। পুলিশ জানিয়েছে, ২ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের বিমার টাকা আদায়ের উদ্দেশ্যে এক মহিলা তাঁর স্বামীকে খুনের পরিকল্পনা করেন। প্রেমিক এবং ভাড়াটে খুনিদের সাহায্যে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে পরে সেটিকে ‘হার্ট অ্যাটাক’ বলে চালানোর চেষ্টা করা হয়।

নিহত ব্যক্তির নাম পলনাতি রমেশ। তিনি নিজামাবাদের মাকলুর মণ্ডলের বোরগাম (কে) গ্রামের বাসিন্দা। প্রায় ১৩ বছর আগে সৌম্যর সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। প্রেমের সম্পর্ক থেকেই এই দাম্পত্য জীবন শুরু হয়েছিল। রমেশ একটি বেসরকারি আর্থিক সংস্থায় কর্মরত ছিলেন, অন্যদিকে সৌম্য কাজ করতেন একটি বেসরকারি স্কুলে।

তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, ওই স্কুলেই কর্মরত শারীরশিক্ষার শিক্ষক দিলীপের সঙ্গে সৌম্যর অবৈধ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এই সম্পর্ক নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই অশান্তি চলত। অভিযোগ, সেই অশান্তির মধ্যেই রমেশকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন সৌম্য।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দিলীপ তার আত্মীয় অভিষেকের সঙ্গে যোগাযোগ করে। অভিষেক আবার জিতেন্দ্র নামে এক চুক্তিভিত্তিক খুনির সঙ্গে যোগাযোগ করায়। জিতেন্দ্রের মাধ্যমে আরও তিনজনকে নিয়োগ করা হয়। খুনের জন্য সৌম্য নিজের আংটি বন্ধক রেখে অভিযুক্তদের ৩৫ হাজার টাকা অগ্রিম দিয়েছিলেন বলে দাবি পুলিশের।

প্রথমবার ২০২৫ সালের আগস্ট মাসে রমেশকে খুনের চেষ্টা হয়। আরমুর থেকে নিজামাবাদ যাওয়ার পথে তাঁর বাইকে গাড়ি চাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। তবে সে যাত্রায় প্রাণে বেঁচে যান রমেশ এবং মাকলুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। মামলাও রুজু হয়। কিন্তু তাতেও থেমে থাকেনি অভিযুক্তরা।

চূড়ান্ত পরিকল্পনা অনুযায়ী, ১৯ ডিসেম্বর রাতে খাবারের পর সৌম্য স্বামীর পানীয়তে দশটি ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে দেন বলে অভিযোগ। রমেশ গভীর ঘুমে চলে গেলে সৌম্য প্রেমিক দিলীপকে খবর দেন। ভাড়াটে খুনিরা সাড়া না দেওয়ায় দিলীপ ও অভিষেক নিজেরাই বোরগাম গ্রামে পৌঁছে তোয়ালে ও বালিশ ব্যবহার করে রমেশকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এরপর সৌম্য দাবি করেন, স্বামীর মৃত্যু হার্ট অ্যাটাকের কারণে হয়েছে। সন্দেহ না হওয়ায় দ্রুত শেষকৃত্যও সম্পন্ন করা হয়।

Advertisement

তবে ঘটনায় মোড় ঘোরে যখন রমেশের ভাই কেথির, যিনি ইজরায়েলে কর্মরত, মৃত্যু নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে বিদেশ থেকেই মাকলুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে ২৪ ডিসেম্বর রমেশের দেহ কবর থেকে তুলে পুনরায় ময়নাতদন্ত করা হয়। রিপোর্টে স্পষ্টভাবে হত্যার প্রমাণ মেলে।

পুলিশ ইতিমধ্যেই সৌম্য, দিলীপ, অভিষেক এবং চুক্তিভিত্তিক খুনি চক্রের কয়েকজন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে। সকলকেই বিচারিক হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। তবে মহসিন নামে এক অভিযুক্ত এখনও পলাতক। 'পলাতককে ধরতে তল্লাশি চলছে,' জানিয়েছেন এসিপি রাজা ভেঙ্কট রেড্ডি।

জিজ্ঞাসাবাদের সময় সৌম্য স্বীকার করেছেন, রমেশের নামে ২ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের একাধিক বীমা পলিসি ছিল। সেই টাকার লোভেই এই ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে পুলিশের অনুমান।

 

POST A COMMENT
Advertisement