
রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) কাজ বিশ্বের অন্য যে কোনও সংগঠনের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা, এমনই দাবি করলেন সংঘপ্রধান মোহন ভাগবত। আরএসএস-এর শতবর্ষ উপলক্ষে মুম্বইয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ভাষণ দিতে গিয়ে তিনি বলেন, 'হিন্দু’ কোনও বিশেষ্য নয়, এটি একটি বিশেষণ। ভারতে যাঁরা বাস করেন, প্রত্যেকেই হিন্দু।'
মুম্বইয়ের ওই অনুষ্ঠানে ভাগবত বলেন, সংঘ শুরু থেকেই ঠিক করেছিল, তারা শুধুমাত্র সমগ্র সমাজকে সংগঠিত করার কাজই করবে, এর বাইরে আর কিছু নয়। তাঁর কথায়, 'অনেকে বলেন নরেন্দ্র মোদী আরএসএস-এর প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু তাঁর একটি আলাদা রাজনৈতিক দল আছে, বিজেপি। সংঘ কোনও রাজনৈতিক দল নয়। সংঘের স্বেচ্ছাসেবকরা বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজ করেন, কিন্তু সংঘ ক্ষমতা বা জনপ্রিয়তার সন্ধানে নেই।'
এদিকে, সলমন খানকে আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবতের বক্তৃতা মনোযোগ সহকারে শুনতে দেখা গেছে। তিনি বক্তৃতায় সম্পূর্ণ মগ্ন ছিলেন।তাঁর ছিলেন প্রখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা সুভাষ ঘাই এবং প্রখ্যাত গীতিকার, কবি এবং লেখক প্রসূন যোশীও। তিনজনই মনোযোগ সহকারে মোহন ভাগবতের বক্তৃতা শুনেছিলেন।
আরএসএস প্রধানের বক্তব্য, 'সংঘ কোনও প্রতিযোগিতা বা বিরোধিতার রাজনীতি করতে বেরোয়নি। আমাদের কাজ কারও বিরোধিতা না করেই সম্পন্ন হয়। সংঘ ক্ষমতা খোঁজে না, জনপ্রিয়তা খোঁজে না। দেশে যে ভালো কাজগুলি হচ্ছে, সেগুলি সঠিকভাবে সম্পন্ন করতেই সংঘের অস্তিত্ব।'
ধর্ম ও সমাজব্যবস্থা প্রসঙ্গে ভাগবত বলেন, 'ভারতের চিরন্তন স্বভাব অপরিবর্তিত রয়েছে। ঋষি ও সন্তরা বিশ্বাস করতেন, যেহেতু সবাই আমাদেরই অংশ, তাই জ্ঞান সকলের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া উচিত। ধর্ম ভারতের প্রাণ। একসঙ্গে চলার জন্য শৃঙ্খলা প্রয়োজন। কাউকে বাদ দিয়ে সমাজ এগোতে পারে না।'
তিনি আরও বলেন, 'আমরা বিশ্বনেতা হব, কিন্তু শুধুমাত্র বক্তৃতার মাধ্যমে নয়, উদাহরণ তৈরি করেই। আপনি যদি ভারতীয় হন, তবে এই দক্ষতা আপনি উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছেন। ভারতের মুসলিম ও খ্রিস্টানরাও ভারতেরই অংশ।'
ভাগবত তাঁর ভাষণে বলেন, 'ভারতে চার ধরনের হিন্দু রয়েছেন। প্রথমত, যাঁরা গর্বের সঙ্গে নিজেদের হিন্দু বলে পরিচয় দেন। দ্বিতীয়ত, যাঁরা বলেন, 'হিন্দু হলে কী হয়েছে, এতে গর্বের কী আছে? তৃতীয়ত, যাঁরা প্রকাশ্যে বলতে সংকোচ বোধ করেন, বলেন, আস্তে বলুন, আমরা হিন্দু। চতুর্থত, যাঁরা ভুলে গিয়েছেন যে তাঁরা হিন্দু, অথবা যাঁদের ভুলিয়ে দেওয়া হয়েছে যে তাঁরা হিন্দু।'
সংঘের প্রতিষ্ঠাতা ডঃ কেশব বলিরাম হেডগেওয়ারের প্রসঙ্গ টেনে ভাগবত বলেন, 'সবচেয়ে কঠিন পরিস্থিতিতেও হেডগেওয়ার দু’টি বিষয় কখনও ছাড়েননি, পড়াশোনায় প্রথম শ্রেণির ফল এবং দেশের কাজে সক্রিয় অংশগ্রহণ। এই দু’টিই তাঁর জীবনের মূল আদর্শ ছিল।'
ধর্মনিরপেক্ষতা প্রসঙ্গে মন্তব্য করতে গিয়ে আরএসএস প্রধান বলেন, 'ধর্মনিরপেক্ষতা’ শব্দটি ভুলভাবে ব্যবহার করা হয়। ধর্ম জীবনব্যবস্থার ভিত্তি। তাই একে সাম্প্রদায়িকতা বলাই বেশি যুক্তিযুক্ত।'