বস্তারে দীপাবলি অনুষ্ঠানে মোদী নকশালবাদ ও মাওবাদী সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ভারতের বড় সাফল্য এসেছে বলে দাবি করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তাঁর কথায়, কেন্দ্রীয় সরকারের নীতি এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সাহস, সংযম ও দৃঢ় সংকল্পের ফলেই এই সাফল্য সম্ভব হয়েছে। রবিবার ছত্তিশগড়ের বস্তারে দীপাবলি উপলক্ষে নিরাপত্তা বাহিনীর জওয়ানদের সঙ্গে সময় কাটান প্রধানমন্ত্রী। সেখানেই তিনি দাবি করেন, গত এক বছরে কর্তব্যরত অবস্থায় কোনও সিআরপিএফ জওয়ানের মৃত্যু হয়নি। গত ৪৭ বছরে এমন ঘটনা এই প্রথম বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মোদী বলেন, ২০১৪ সালের পর থেকে দেশে মাওবাদী সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বড় পরিবর্তন এসেছে। তাঁর দাবি, ২০১৪ সালে বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় আসার পর অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় রাজনৈতিক সদিচ্ছা আরও শক্তিশালী হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর কথায়, দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হলে শত্রুদের বিরুদ্ধে দৃঢ় সংকল্প এবং সুনির্দিষ্ট কৌশল নিয়ে লড়াই করতে হবে। দীর্ঘদিন ধরে দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার ক্ষেত্রে যে রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাব ছিল, ২০১৪ সালের পর তা বদলেছে।
২০১৪ সালের আগে ও পরের পরিস্থিতির তুলনা মোদীর
নকশালবাদ মোকাবিলায় আগের সরকারগুলির ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন প্রধানমন্ত্রী। ২০০৪ থেকে ২০১৩ সালের পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি দাবি করেন, ওই সময়ে প্রতি বছর নকশালদের হাতে নিহত নিরাপত্তা কর্মীর সংখ্যা ছিল নিহত নকশালদের সংখ্যার চেয়েও বেশি। তাঁর অভিযোগ, সেই সময়ের সরকারগুলি নকশালবাদকে কার্যত নিরাময়-অযোগ্য সমস্যা হিসেবে দেখেছিল এবং যথাযথ পদক্ষেপ করেনি।
মোদী বলেন, মাওবাদীরা শুধু নিরাপত্তা বাহিনীর উপর হামলা চালায়নি, সাধারণ মানুষকেও নিশানা করেছে। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় বাধা দিয়েছে। এমনকী বহু এলাকায় মানুষকে ভোটাধিকার প্রয়োগ থেকেও বঞ্চিত করা হয়েছে। এক বছরে দেশে প্রায় ২ হাজার নকশাল হামলার ঘটনাও ঘটেছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি।
২০১০ সালে ছত্তিশগড়ের দান্তেওয়াড়ায় নকশাল হামলায় ৭৬ জন সিআরপিএফ জওয়ানের মৃত্যুর ঘটনাও স্মরণ করেন প্রধানমন্ত্রী। একই বছরে ওই জেলাতেই অন্য একটি ঘটনায় ৪৪ জন সাধারণ নাগরিকের মৃত্যুর কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরে এই ধরনের হামলা চলেছে। শুধু ছত্তিশগড়েই ওই সময়ের মধ্যে ১ হাজারের বেশি নিরাপত্তা কর্মীর মৃত্যু হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, সেই সময় প্রভাবশালী নেতাদের কাছ থেকে এই ঘটনাগুলির বিরুদ্ধে যথেষ্ট প্রতিবাদ শোনা যায়নি।
নকশালমুক্ত ভারত, ২০২৬ সালের দীপাবলি বিশেষ: মোদী
২০২৬ সালের দীপাবলিকে বিশেষ বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর দাবি, কয়েক দশকের নকশালবাদ ও মাওবাদী সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ভারত জয়ী হয়েছে। দেশের প্রতিটি জেলা এখন নকশালমুক্ত বলেও দাবি করেন তিনি।
মোদীর কথায়, দেশের কোটি কোটি মানুষ এখন নকশালবাদের আতঙ্ক ছাড়াই উৎসব পালন করতে পারছেন। নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের আত্মত্যাগ, নিষ্ঠা ও কর্তব্যপরায়ণতার কারণেই এই সাফল্য এসেছে বলে জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৪০ কোটি দেশবাসীর প্রতিনিধি হিসেবে তিনি বস্তারে এসেছেন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে। দেশের সীমান্তে যাঁরা নিরাপত্তার দায়িত্ব সামলান এবং দেশের অভ্যন্তরে যাঁরা নিরাপত্তা বজায় রাখেন, দু'পক্ষের ভূমিকাই দেশের ঐক্য ও অখণ্ডতা রক্ষার ক্ষেত্রে সমান গুরুত্বপূর্ণ।
দেশের বিভিন্ন প্রান্তে কর্তব্যরত নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের দীপাবলির শুভেচ্ছাও জানান প্রধানমন্ত্রী। তাঁদের পরিষেবার জন্য গোটা দেশ গর্বিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।