ইরান যুদ্ধ নিয়ে অবস্থান স্পষ্ট করলেন মোদীআমেরিকার ট্যারিফ হুমকি থেকে আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতিতে টানাপড়েন, এই আবহেই গত জানুয়ারি মাসে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সই করে ভারত। প্রধানমন্ত্রী ইতিমধ্যেই যাকে ‘ল্যান্ডমার্ক’ চুক্তি বলে জানিয়েছিলেন। এদিনও ভারত ও ইউরোপের সংযোগ নিয়ে মুখ খোলেন মোদী। মোদী বলেন, 'ইউক্রেন থেকে পশ্চিম এশিয়া, সংঘর্ষের পরিস্থিতি ভারত ও ইউরোপ সংযোগ নতুন স্থিরতার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।'সেইসঙ্গে বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়েও ভারতের অবস্থান তুলে ধরেন মোদী। প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'গণতন্ত্রই সবকিছুর সমাধান। আশা করব ইউক্রেন থেকে পশ্চিম এশিয়া, শান্তির পথেই সবকিছুর সমাধান হবে'
প্রসঙ্গত, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার স্টাব আজ নয়াদিল্লিতে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা করেন। দুই নেতা বিভিন্ন ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা করেন এবং বহুপাক্ষিক ফোরামে সহযোগিতা সহ আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিষয়গুলিতে মতামত বিনিময় করেন। আলোচনার পরে বেশ কয়েকটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। প্রধানমন্ত্রী মোদী প্রেসিডেন্ট স্টাবের সম্মানে একটি মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করেন। প্রেসিডেন্ট স্টাব চার দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে গতকাল নয়াদিল্লিতে আসেন। বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানান বিদেশ প্রতিমন্ত্রী কীর্তি বর্ধন সিং। প্রেসিডেন্ট স্টাবকে আনুষ্ঠানিক স্বাগত জানানো হয় এবং গার্ড অফ অনার দেওয়া হয়।
#WATCH | Delhi: At a joint press statement with the President of Finland, Alexander Stubb, Prime Minister Narendra Modi says, "Today, the world is going through a period of instability and uncertainty. Conflict persists in many parts of the world, from Ukraine to West Asia. In… pic.twitter.com/6fQ2ISqyWZ
— ANI (@ANI) March 5, 2026
যুদ্ধ নিয়ে অবস্থান
যৌথ বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেন, বিশ্ব আজ অস্থিতিশীলতা এবং অনিশ্চয়তার এক সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ইউক্রেন থেকে পশ্চিম এশিয়া পর্যন্ত বিশ্বের অনেক জায়গায় সংঘাত চলছে। এমন একটি বৈশ্বিক পরিবেশে, বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় দুটি কূটনৈতিক শক্তি ভারত এবং ইউরোপ তাদের সম্পর্কের এক স্বর্ণযুগে প্রবেশ করছে। আমাদের ক্রমবর্ধমান সহযোগিতা বিশ্বব্যাপী স্থিতিশীলতা, বৃদ্ধি এবং সমৃদ্ধির জন্য নতুন প্রেরণা জোগাচ্ছে। ২০২৬ সালের গোড়ার দিকে, ঐতিহাসিক ভারত-ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেন, এই চুক্তি ভারত ও ফিনল্যান্ডের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং প্রযুক্তিগত সহযোগিতা আরও জোরদার করবে। ভারত ও ফিনল্যান্ড ডিজিটাল প্রযুক্তি, কাঠামো এবং স্থায়িত্বের মতো ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার।
উল্লেখ্য, নরেন্দ্র মোদীর সফরের পরই ইরানে হামলা চালিয়েছে ইজরায়েল। যা নিয়ে দেশের অন্দরে জোর বিতর্ক তৈরি হয়েছে। মোদীকে বারবার কটাক্ষ করেছেন বিরোধীরা। এই পরিস্থিতিতে বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেছেন ভারতে নিযুক্ত ইজরায়েলের রাষ্ট্রদূত রুভেন আজার। সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে রুভেন বলেন, 'মোদীর সফরের পরই যে তেহরানে অভিযান চালানো হবে, তা আগে থেকে জানা ছিল না। তিনি ইজরায়েল ছাড়তেই হঠাৎ করেই আমাদের কাছে আদর্শ সুযোগ চলে আসে। মোদীর সফরের সময় আঞ্চলিক উন্নয়ন নিয়ে কথা হয়েছিল। কিন্তু ইরানের অভিযান নিয়ে আমরা কেউই জানতাম না।' তিনি আরও বলেন, 'মোদীর সফরের প্রায় দু'দিন পর ইরানে অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত হয়। ২৮ ফেব্রুয়ারি অনুমোদন দেয় মন্ত্রিসভা।' এদিন ইরান ও ইজরায়েল যুদ্ধে ভারত কোনপক্ষে সেই অবস্থান স্পষ্ট করে দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।