ফরিদাবাদের হাসপাতালে ভর্তি তরুণীরাতে বাড়ি ফেরার জন্য গাড়ি খুঁজতে গিয়ে ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতার সাক্ষী হলেন হরিয়ানার ফরিদাবাদের এক মহিলা। জানা গিয়েছে, লিফট দেওয়ার নাম করে চলন্ত ভ্যানে দুই ব্যক্তি ওই মহিলাকে তুলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধর্ষণ করা হয়। বাধা দিলে মারধর করা হয় তাকে এবং পরে তরুণীকে রাস্তায় ফেলে চম্পট দেয় তারা।
ইতিমধ্যেই ওই মহিলার পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নেমে অভিযুক্ত ২ ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে ফরিদাবাদ পুলিশ। উভয় ফরিদাবাদেরই বাসিন্দা। অভিযোগ, ওই মহিলা স্বামীর সঙ্গে থাকেন না। গত ২৯ ডিসেম্বর রাত সাড়ে ৮টা নাগাদ মায়ের সঙ্গে ঝগড়া করে তিনি বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। এক বান্ধবীর সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন তিনি। বোনকে ফোন করে জানিয়েছিলেন, মন খারাপ তাই বান্ধবীর বাড়িতে যাচ্ছেন। ঘণ্টা তিনেকের মধ্যে ফিরে আসবেন বলেও জানিয়েছিলেন নির্যাতিতা।
রাত প্রায় সাড়ে ১২টা নাগাদ বাড়ি ফেরার জন্য বান্ধবীর বাড়ি থেকে তিনি বেরিয়েছিলেন বলে জানান। মেট্রো চকে পৌঁছে গাড়ি খুঁজতে শুরু করেন। নির্যাতিতার বোন পুলিশকে জানান, গাড়ি না পেয়ে মধ্যরাতে নির্যাতিতা অটো চালকদেরও আর্জি জানান কিন্তু কেউ যেতে রাজি হননি। এরপর এক ভ্যান গাড়ি এসে তাঁর সামনে দাঁড়ায় এবং তাঁকে লিফ্ট দিতে চান। বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাস দেন ভিতরে থাকা দুই আরোহী। তাদের আশ্বাসে মহিলা ওই গাড়িতে চড়ে বসেন।
তবে এরপরই ঘটে বিপত্তি। বাড়ির দিকে না গিয়ে অভিযুক্তরা গাড়িটি ফরিদাবাদের গুরুগ্রাম সড়কের দিকে ঘুরিয়ে দেন। পরে একটি নির্জন বনাঞ্চলে ঢুকে পড়ে এবং সেখানেই চলন্ত গাড়িতে ওই তরুণীকে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ। তিনি গাড়ির দরজা খোলার চেষ্টা করেও সক্ষম হননি।
মধ্যরাত ৩টে নাগাদ ভ্যান গাড়িটি থেকে তরুণীকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে চম্পট দেয় অভিযুক্তরা। পুলিশ জানায়, এতে ওই তরুণীর মাথায় গুরুতর চোট লাগে। ১২টি সেলাই পড়েছে তাঁর মাথায়।
ঘটনার পর কোনওমতে তিনি বোনকে ফোন করে তাঁর সঙ্গে ঘটনা নারকীয় ঘটনার বর্ণনা করেন। বোন ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য প্রথমে ফরিদাবাদ সিভিল হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে দিল্লি AIIMS-এ রেফার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, বর্তমানে তিনি ফরিদাবাদের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
৩০ ডিসেম্বর নির্যাতিতার পরিবার থানায় এসে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এক পুলিশ কর্তা জানান, অভিযোগ পাওযার সঙ্গে সঙ্গেই দোষীদের খোঁজে তল্লাশি শুরু হয়। দ্রুত গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে ২ জন অভিযুক্তকে।